০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিতর্কিত কর্মকান্ডে মুখোমুখি উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগে ২ জন ও বাংলা বিভাগে ৭ জন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতি। পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েকদিনে অবস্থান কর্মসূচী, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে দেখা গেছে। শিক্ষক সমিতি দাবি করছেন, বিভাগের প্রয়োজন ছাড়াই উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। অপরদিকে, উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দাবি করছে, বিভাগের প্রয়োজন মেনেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

‘১৭ ডিসেম্বর’

গত ১৭ ডিসেম্বর আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড বাতিলের দাবিতে দুপুর ১২ টায় উপাচার্যকে চিঠি প্রদান করে শিক্ষক সমিতি। এ সময়ে শিক্ষক সমিতির কথা শুনতে না চাইলে শুরু হয় দু-পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে উপাচার্য নিজ কক্ষ ছেড়ে বাইরে চলে যায়। পরে দুপুর ২ টার দিকে শিক্ষক সমিতি কথা না শুনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক অবস্থান কর্মসূচী পালন করে শিক্ষক সমিতি ৷ এসময়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের দাবি দুটো। আজকের (১৭ডিসেম্বর) আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড ও কালকের (১৮ ডিসেম্বর) বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড বাতিল করতে হবে। আমরা সিন্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচী পালন করবো।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ নির্বাচনী বোর্ড সদস্যরা উপাচার্য কার্যালয় ত্যাগ করে। অভিযোগ উঠেছে, যে শিক্ষক সমিতির তোপের মুখে পড়ে অজ্ঞাত স্থানে নির্বাচনী বোর্ড সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

‘নিয়োগ বোর্ডে থাকছে না দুই সদস্য’

১৮ ডিসেম্বর বাংলা বিভাগের ৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই বোর্ডে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তাসলিমা বেগম ও অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ।
এ বিষয়ে মহীবুল আজিজ বলেন, যেহেতু এটি নিয়ম অনুযায়ী হয়নি তাই আমরা নিয়োগ বোর্ডে না থাকার সিন্ধান্ত নিয়েছি।

‘১৮ ডিসেম্বর’
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে শিক্ষক সমিতি। এসময়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, উপাচার্য কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে চুপিচুপি বাংলোতে আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড সম্পূর্ণ করেছেন। যা নজিরবিহীন ঘটনা, এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

‘বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত’

শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচীর তোপের মুখে পড়ে বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমেদ বলেন, নির্বাচন বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কেন করা হয়েছে জানি না।

এদিন রাতে শিক্ষক সমিতির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিঠি দিবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দায়িত্ব পালন করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সমিতির ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রপতির নিকট যেয়ে আমাকে সরানো চিঠি নিয়ে আসুক। সাথে উপাচার্য হওয়ার মত একজন ব্যক্তিকে নিয়ে আসুক। তাকে আমি গলায় মালা পড়িয়ে সংবর্ধনা জানিয়ে চেয়ার ছেড়ে দিব।

‘১৯ ডিসেম্বর’

শিক্ষক সমিতির টানা অবস্থান কর্মসূচী ও উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকবৃন্দ।

এসময়ে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকবৃন্দ দাবি করেন, বাংলা ও আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড আয়োজনে বাঁধা দিয়ে শিক্ষক সমিতির একাংশ উপাচার্যের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তারা উপাচার্যকে তোপের মুখে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছু যখন স্থিতিশীল তখন শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তার প্রতি অপমানজনক, বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্যের কার্যালয় দখল করবে, যা কখনোই কাম্য নয়। তাদের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুর জন্যই আলাদা আলাদা পর্ষদ আছে। চবি প্রশাসন আইন মেনেই সকল নিয়োগ বোর্ড আয়োজন করেছে বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

বিতর্কিত কর্মকান্ডে মুখোমুখি উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতি

প্রকাশিত : ১১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগে ২ জন ও বাংলা বিভাগে ৭ জন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতি। পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েকদিনে অবস্থান কর্মসূচী, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে দেখা গেছে। শিক্ষক সমিতি দাবি করছেন, বিভাগের প্রয়োজন ছাড়াই উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। অপরদিকে, উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দাবি করছে, বিভাগের প্রয়োজন মেনেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

‘১৭ ডিসেম্বর’

গত ১৭ ডিসেম্বর আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড বাতিলের দাবিতে দুপুর ১২ টায় উপাচার্যকে চিঠি প্রদান করে শিক্ষক সমিতি। এ সময়ে শিক্ষক সমিতির কথা শুনতে না চাইলে শুরু হয় দু-পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে উপাচার্য নিজ কক্ষ ছেড়ে বাইরে চলে যায়। পরে দুপুর ২ টার দিকে শিক্ষক সমিতি কথা না শুনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক অবস্থান কর্মসূচী পালন করে শিক্ষক সমিতি ৷ এসময়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের দাবি দুটো। আজকের (১৭ডিসেম্বর) আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড ও কালকের (১৮ ডিসেম্বর) বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড বাতিল করতে হবে। আমরা সিন্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচী পালন করবো।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ নির্বাচনী বোর্ড সদস্যরা উপাচার্য কার্যালয় ত্যাগ করে। অভিযোগ উঠেছে, যে শিক্ষক সমিতির তোপের মুখে পড়ে অজ্ঞাত স্থানে নির্বাচনী বোর্ড সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

‘নিয়োগ বোর্ডে থাকছে না দুই সদস্য’

১৮ ডিসেম্বর বাংলা বিভাগের ৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই বোর্ডে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তাসলিমা বেগম ও অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ।
এ বিষয়ে মহীবুল আজিজ বলেন, যেহেতু এটি নিয়ম অনুযায়ী হয়নি তাই আমরা নিয়োগ বোর্ডে না থাকার সিন্ধান্ত নিয়েছি।

‘১৮ ডিসেম্বর’
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে শিক্ষক সমিতি। এসময়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, উপাচার্য কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে চুপিচুপি বাংলোতে আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড সম্পূর্ণ করেছেন। যা নজিরবিহীন ঘটনা, এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

‘বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত’

শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচীর তোপের মুখে পড়ে বাংলা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমেদ বলেন, নির্বাচন বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কেন করা হয়েছে জানি না।

এদিন রাতে শিক্ষক সমিতির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিঠি দিবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দায়িত্ব পালন করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সমিতির ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রপতির নিকট যেয়ে আমাকে সরানো চিঠি নিয়ে আসুক। সাথে উপাচার্য হওয়ার মত একজন ব্যক্তিকে নিয়ে আসুক। তাকে আমি গলায় মালা পড়িয়ে সংবর্ধনা জানিয়ে চেয়ার ছেড়ে দিব।

‘১৯ ডিসেম্বর’

শিক্ষক সমিতির টানা অবস্থান কর্মসূচী ও উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকবৃন্দ।

এসময়ে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকবৃন্দ দাবি করেন, বাংলা ও আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড আয়োজনে বাঁধা দিয়ে শিক্ষক সমিতির একাংশ উপাচার্যের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তারা উপাচার্যকে তোপের মুখে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছু যখন স্থিতিশীল তখন শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তার প্রতি অপমানজনক, বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্যের কার্যালয় দখল করবে, যা কখনোই কাম্য নয়। তাদের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুর জন্যই আলাদা আলাদা পর্ষদ আছে। চবি প্রশাসন আইন মেনেই সকল নিয়োগ বোর্ড আয়োজন করেছে বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে