০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁয় সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

খাদ্য শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলার প্রায় সব এলাকায় এবছর সরিষার ফসল উৎপাদন করা হয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। আর এই শীত কালীন শস্য সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত মৌচাষীরা।

শুধু নওগাঁ জেলার নই জেলার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বাক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হয় বলে জানিয়েছেন মৌচাষীরা। সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি এই মধু গুনে এবং মানে অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এই মধুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হবে বলেও জানান তারা।

সরে জমিনে দেখা যায় সদর উপজেলার দুবলহাটি এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহের জন্য কাঠের বিশেষভাবে তৈরি বক্স সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে। যার ওপরের অংশটা পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। প্রতিটি বক্সের ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটু করে রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি।

রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে তিন হাজারেরও বেশি পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। এরপর সেই সব বক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভো ভো শব্দ তুলে ঢু মারতে থাকে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে সেই বক্সে।

সাতক্ষীরা থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মুকুল জানান, নভেম্বরের শেষের দিকে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি ভর্তি বক্স রাখা হয় । মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সেই বক্সে জমা করে। এভাবে ৮ থেকে ১০ দিন পর আমরা বক্স খুলে সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করি। আমি এখানে ম্যালিফেরা জাতের মৌমাছির ১৫০ টি বক্স রেখেছি। বক্স গুলো থেকে প্রতিবার মধু সংগ্রহের সময় প্রায় এক থেকে দেড় কেজি মধু পাই। এবং এই মধুগুলো প্রতি কেজি ৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি। এক মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে মধু সংগ্রহ করা হয়। আর এই সময়ের মধ্য প্রতিটি বক্স থেকে ৪ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে। এই পক্রিয়ায় মধু সংগ্রহ খাঁটি ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই এসে নিজে দেখে শুনে মধু কিনতে পারছে এতে ক্রেতারাও অনেক খুশি। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষা ফুলের ক্ষতি হয়েছে যার ফলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ -পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে বক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের মধুতে কোনো প্রকার ভেজাল থাকে না‌ একেবারে খাঁটি। আর এভাবে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই যার ফলে বক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার মানুষদের।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

নওগাঁয় সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

প্রকাশিত : ০৪:০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

খাদ্য শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলার প্রায় সব এলাকায় এবছর সরিষার ফসল উৎপাদন করা হয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। আর এই শীত কালীন শস্য সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত মৌচাষীরা।

শুধু নওগাঁ জেলার নই জেলার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বাক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হয় বলে জানিয়েছেন মৌচাষীরা। সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি এই মধু গুনে এবং মানে অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এই মধুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হবে বলেও জানান তারা।

সরে জমিনে দেখা যায় সদর উপজেলার দুবলহাটি এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহের জন্য কাঠের বিশেষভাবে তৈরি বক্স সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে। যার ওপরের অংশটা পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। প্রতিটি বক্সের ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটু করে রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি।

রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে তিন হাজারেরও বেশি পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। এরপর সেই সব বক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভো ভো শব্দ তুলে ঢু মারতে থাকে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে সেই বক্সে।

সাতক্ষীরা থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মুকুল জানান, নভেম্বরের শেষের দিকে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি ভর্তি বক্স রাখা হয় । মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সেই বক্সে জমা করে। এভাবে ৮ থেকে ১০ দিন পর আমরা বক্স খুলে সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করি। আমি এখানে ম্যালিফেরা জাতের মৌমাছির ১৫০ টি বক্স রেখেছি। বক্স গুলো থেকে প্রতিবার মধু সংগ্রহের সময় প্রায় এক থেকে দেড় কেজি মধু পাই। এবং এই মধুগুলো প্রতি কেজি ৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি। এক মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে মধু সংগ্রহ করা হয়। আর এই সময়ের মধ্য প্রতিটি বক্স থেকে ৪ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে। এই পক্রিয়ায় মধু সংগ্রহ খাঁটি ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই এসে নিজে দেখে শুনে মধু কিনতে পারছে এতে ক্রেতারাও অনেক খুশি। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষা ফুলের ক্ষতি হয়েছে যার ফলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ -পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে বক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের মধুতে কোনো প্রকার ভেজাল থাকে না‌ একেবারে খাঁটি। আর এভাবে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই যার ফলে বক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার মানুষদের।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে