০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

সরিষাবাড়ীতে এক নারীর শ্লীলতা হানির অভিযোগে গণ পিটুনি শিকার কাউন্সিলর

জকামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক নারীকে শ্লীলতা হানি করতে গিয়ে এলাকার সাধারণ জনগনের হাতে৷ ধরা পড়ে গণপিটুনি ফায় ৯ নং ওয়াডের পৌর কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন।

এলাকাবাসী জানায়, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও শিশু কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে চর বাঙ্গালী পাড়ার এক নীরিহ দুই সন্তানের জননীকে আশ্বাস দেন কাউন্সিলর। ১০ হাজার টাকায় কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নেয় কাউন্সিলর। বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান দুই সন্তানের জননী। অবশিষ্ট পাঁচ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি করলে ভুক্তভোগী মহিলাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কুপ্রস্তাব দেয় কাউন্সিলর। এক রাতে এক ঘণ্টা সময় দিলে কার্ড করে দেওয়ার কথা বললে বিষয়টি এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে কেউ বিশ্বাস না করলে এর প্রমাণ চান এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী আরও জানায়, অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে প্রমাণ দিতে কাউন্সিলর সাথে মহিলাটির কথা হলে কাউন্সিলর রোববার রাতে আসার কথা বলেন। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন ভুক্তভোগী। রোববার রাত ১০টায় কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসীর জড়ো হয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে কিল ঘুসি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন তারা। পরে খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে। কাউন্সিলরকে গাছের বেঁধে রাখার খবর পেয়ে পৌর মেয়র মনির উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন।

এসময় এলাকাবাসী কাউন্সিলরকে বহিষ্কার করার ও শাস্তি দাবি জানান। পরে মেয়র মনির উদ্দিন এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

সরিষাবাড়ী থানার এস আই হুমায়ুন কবীরসহ অন্যান্য সদস্যরা জানান, আমাদের কাছ থেকে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে পৌর মেয়র মনির উদ্দিন নিজ জিম্বায় নিয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয় জনতার মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ দায়ের করে নাই,অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এরাই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের বহিষ্কার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

সরিষাবাড়ীতে এক নারীর শ্লীলতা হানির অভিযোগে গণ পিটুনি শিকার কাউন্সিলর

প্রকাশিত : ০৩:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

জকামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক নারীকে শ্লীলতা হানি করতে গিয়ে এলাকার সাধারণ জনগনের হাতে৷ ধরা পড়ে গণপিটুনি ফায় ৯ নং ওয়াডের পৌর কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন।

এলাকাবাসী জানায়, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও শিশু কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে চর বাঙ্গালী পাড়ার এক নীরিহ দুই সন্তানের জননীকে আশ্বাস দেন কাউন্সিলর। ১০ হাজার টাকায় কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নেয় কাউন্সিলর। বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান দুই সন্তানের জননী। অবশিষ্ট পাঁচ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি করলে ভুক্তভোগী মহিলাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কুপ্রস্তাব দেয় কাউন্সিলর। এক রাতে এক ঘণ্টা সময় দিলে কার্ড করে দেওয়ার কথা বললে বিষয়টি এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে কেউ বিশ্বাস না করলে এর প্রমাণ চান এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী আরও জানায়, অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে প্রমাণ দিতে কাউন্সিলর সাথে মহিলাটির কথা হলে কাউন্সিলর রোববার রাতে আসার কথা বলেন। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন ভুক্তভোগী। রোববার রাত ১০টায় কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসীর জড়ো হয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে কিল ঘুসি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন তারা। পরে খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে। কাউন্সিলরকে গাছের বেঁধে রাখার খবর পেয়ে পৌর মেয়র মনির উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন।

এসময় এলাকাবাসী কাউন্সিলরকে বহিষ্কার করার ও শাস্তি দাবি জানান। পরে মেয়র মনির উদ্দিন এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

সরিষাবাড়ী থানার এস আই হুমায়ুন কবীরসহ অন্যান্য সদস্যরা জানান, আমাদের কাছ থেকে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে পৌর মেয়র মনির উদ্দিন নিজ জিম্বায় নিয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয় জনতার মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ দায়ের করে নাই,অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এরাই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের বহিষ্কার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি