১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম’র দখলে রেলের পুকুর-জলাশয়

রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জন করলে বা দখলে রাখলে বা দখলে রাখার চেষ্টা করলে তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থণ্ডে দণ্ডিত অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। কেউ রেলওয়ের স্থাবর সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জন করলে, দখল করলে, দখলে রাখার চেষ্টা করলে তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

একইভাবে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে অথবা শ্রেণি পরিবর্তন করলে তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া কেউ রেলওয়ের স্থাবর সম্পত্তি দখলের প্ররোচনা দিলে অথবা সহায়তা করলে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, তিন লাখ টাকার অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন রেলওয়ের ভূমি, ভবন, স্থাপনা, জলাশয় বা এর অংশবিশেষ অবৈধ দখলে নিলে সাত দিনের মধ্যে খালি করে দেয়ার নোটিস দেয়া হবে। তবে সাত দিন সময় দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তিন দিনের মধ্যে দখলমুক্ত করার নোটিস দেবে রেল এই সব কথা সব গল্প নয় রেলওয়ে আইনের কথা।

রেলওয়ে এতো আইন থাকার পরেও সীতাকুণ্ডে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রেলের পুকুর জবরদখল করে অবৈধভাবে শক্তিশালী পাম্প বসিয়ে জলাশয়ের পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে কবির স্টীল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম) নামের একটি শিল্প গ্রুপ। দীর্ঘদিন রেলওয়ের পুকুরটি জবরদখল করে রাখায় একদিকে যেমন মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি সেবামুলক এই সংস্থাটি, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকীর মুখে পড়ছে পরিবেশ।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারেই তারা এই অপকর্ম করছে জানালেও রেল সংশ্লিষ্টরা বলছে তারা জানে না। সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে কেএসআরএম এই কাজটি করছে। এবং তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলের মালিকানাধিন কয়েকটি পুকুর রয়েছে, যেখানে একটি পুকুর স্থানীয় একটি মসজীদের মুসুল্লিরা ব্যবহার করছে। অপর একটি পুকুর মামলার জালে আইনি জটিলতায় ইজারা দিতে পারছেনা রেলওয়ে। আরেকটি বড় পুকুর দখল করে রেখেছে শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম। শুধু দখলই নয়, প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পুকুর পাড়ে বসানো হয়েছে শক্তিশালী পানির পাম্প। যেটা দিয়ে নির্বিচারে পুকুরের পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে এই গ্রুপটি। রেলওয়ে বিষয়টি জানেনা বললেও পুকুরের পাড়ে যেভাবে ঘর তৈরি করে বিশালাকার পাইপ বসানো হয়েছে তা দেখলেই বুঝা যাবে গোপনে এই কাজটি করা সম্ভব নয়। এই কাজটি নির্বিঘ্নে করার জন্য রেলের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ের ছড়া থেকে একটি পাইপ পুকুরে এসে পড়েছে। সেই পুকুরের মাটির নিচে দিয়ে আরেকটি পুকুরে পাইপ দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। অন্য একটি পুকুরের পাড়ে ঝোপের আড়ালে বসানো হয়েছে বৃহৎ আকারে শক্তিশালী পাম্পটি। পানির পাম্পটি যখন চালু করা হয় কুমিরা রেল স্টেশন সহ কাঁপতে থাকে এই জন্য দিনের থেকে রাতে বেশি সময় পাম্প চালানো হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেলের কয়েকজন কর্মচারি এই অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করেন তারা। কিন্তু নিজেদের পকেট ভারী করলেও সরকারের রাজস্বের খাতটি বরাবরই শুণ্যের খাতায় রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কেএসআরএম একটি বড় শিল্প গ্রুপ, তারা আইন অমান্য করে চোরের মতো পানি সরবরাহ করাটা অমানবিক। প্রয়োজন হলে তারা সরকারকে প্রয়োনীয় রাজস্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজটি করতে পারে।

এ বিষয়ে কেএসআরএম এর ভূমি শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনকে ফোন দিলে বিষয় টা বলা মাত্র ফোন কেটে দেন এবং ক্ষুদে বার্তা দিয়ে ও কোনো সাড়া মিলেনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, ”কেএসআরএম’এর মতো একটি কোম্পানী রেলের পুকুর দখল করে রাখবে অন্যায়ভাবে পানি তুলে নিয়ে যাবে তা হতে পারেনা। তারা কোন আবেদন করেছেন কিনা আমি এখনি দেখছি। তাৎক্ষনিক একজন কর্মকর্তাকে ডেকে তিনি নিশ্চিত করেছেন এই পুকুরটি কেএসআরএম ইজারা নেয়নি, এমনকি কোন আবেনও করেনি। তিনি বলেন, রেলের ইজারা আইনে পুকুর থেকে পানি তোলার জন্য কোন ইজারার বিধান নেই। আবেদন করলেও টেন্ডরের মাধ্যমে মাছ চাষের জন্য আমরা দিতে পারব। কিন্তু পাম্প বসিয়ে পানি তুলে নেওয়ার বিষটি খুবই দুঃখজনক। আমি খবর নিয়ে দেখছি এর সাথে কারা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেএসআরএমকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এই বিষয়ে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জিষাণ দত্ত বলেন, ”অনুমতি না নিয়ে রেলের সম্পদ ব্যবহার করা একটি অপরাধ। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অপরাধের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম’র দখলে রেলের পুকুর-জলাশয়

প্রকাশিত : ০৪:১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জন করলে বা দখলে রাখলে বা দখলে রাখার চেষ্টা করলে তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থণ্ডে দণ্ডিত অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। কেউ রেলওয়ের স্থাবর সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জন করলে, দখল করলে, দখলে রাখার চেষ্টা করলে তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

একইভাবে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে অথবা শ্রেণি পরিবর্তন করলে তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া কেউ রেলওয়ের স্থাবর সম্পত্তি দখলের প্ররোচনা দিলে অথবা সহায়তা করলে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, তিন লাখ টাকার অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন রেলওয়ের ভূমি, ভবন, স্থাপনা, জলাশয় বা এর অংশবিশেষ অবৈধ দখলে নিলে সাত দিনের মধ্যে খালি করে দেয়ার নোটিস দেয়া হবে। তবে সাত দিন সময় দিলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তিন দিনের মধ্যে দখলমুক্ত করার নোটিস দেবে রেল এই সব কথা সব গল্প নয় রেলওয়ে আইনের কথা।

রেলওয়ে এতো আইন থাকার পরেও সীতাকুণ্ডে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রেলের পুকুর জবরদখল করে অবৈধভাবে শক্তিশালী পাম্প বসিয়ে জলাশয়ের পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে কবির স্টীল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম) নামের একটি শিল্প গ্রুপ। দীর্ঘদিন রেলওয়ের পুকুরটি জবরদখল করে রাখায় একদিকে যেমন মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি সেবামুলক এই সংস্থাটি, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকীর মুখে পড়ছে পরিবেশ।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারেই তারা এই অপকর্ম করছে জানালেও রেল সংশ্লিষ্টরা বলছে তারা জানে না। সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে কেএসআরএম এই কাজটি করছে। এবং তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলের মালিকানাধিন কয়েকটি পুকুর রয়েছে, যেখানে একটি পুকুর স্থানীয় একটি মসজীদের মুসুল্লিরা ব্যবহার করছে। অপর একটি পুকুর মামলার জালে আইনি জটিলতায় ইজারা দিতে পারছেনা রেলওয়ে। আরেকটি বড় পুকুর দখল করে রেখেছে শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম। শুধু দখলই নয়, প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পুকুর পাড়ে বসানো হয়েছে শক্তিশালী পানির পাম্প। যেটা দিয়ে নির্বিচারে পুকুরের পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে এই গ্রুপটি। রেলওয়ে বিষয়টি জানেনা বললেও পুকুরের পাড়ে যেভাবে ঘর তৈরি করে বিশালাকার পাইপ বসানো হয়েছে তা দেখলেই বুঝা যাবে গোপনে এই কাজটি করা সম্ভব নয়। এই কাজটি নির্বিঘ্নে করার জন্য রেলের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ের ছড়া থেকে একটি পাইপ পুকুরে এসে পড়েছে। সেই পুকুরের মাটির নিচে দিয়ে আরেকটি পুকুরে পাইপ দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। অন্য একটি পুকুরের পাড়ে ঝোপের আড়ালে বসানো হয়েছে বৃহৎ আকারে শক্তিশালী পাম্পটি। পানির পাম্পটি যখন চালু করা হয় কুমিরা রেল স্টেশন সহ কাঁপতে থাকে এই জন্য দিনের থেকে রাতে বেশি সময় পাম্প চালানো হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেলের কয়েকজন কর্মচারি এই অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করেন তারা। কিন্তু নিজেদের পকেট ভারী করলেও সরকারের রাজস্বের খাতটি বরাবরই শুণ্যের খাতায় রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কেএসআরএম একটি বড় শিল্প গ্রুপ, তারা আইন অমান্য করে চোরের মতো পানি সরবরাহ করাটা অমানবিক। প্রয়োজন হলে তারা সরকারকে প্রয়োনীয় রাজস্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজটি করতে পারে।

এ বিষয়ে কেএসআরএম এর ভূমি শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনকে ফোন দিলে বিষয় টা বলা মাত্র ফোন কেটে দেন এবং ক্ষুদে বার্তা দিয়ে ও কোনো সাড়া মিলেনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, ”কেএসআরএম’এর মতো একটি কোম্পানী রেলের পুকুর দখল করে রাখবে অন্যায়ভাবে পানি তুলে নিয়ে যাবে তা হতে পারেনা। তারা কোন আবেদন করেছেন কিনা আমি এখনি দেখছি। তাৎক্ষনিক একজন কর্মকর্তাকে ডেকে তিনি নিশ্চিত করেছেন এই পুকুরটি কেএসআরএম ইজারা নেয়নি, এমনকি কোন আবেনও করেনি। তিনি বলেন, রেলের ইজারা আইনে পুকুর থেকে পানি তোলার জন্য কোন ইজারার বিধান নেই। আবেদন করলেও টেন্ডরের মাধ্যমে মাছ চাষের জন্য আমরা দিতে পারব। কিন্তু পাম্প বসিয়ে পানি তুলে নেওয়ার বিষটি খুবই দুঃখজনক। আমি খবর নিয়ে দেখছি এর সাথে কারা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেএসআরএমকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এই বিষয়ে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জিষাণ দত্ত বলেন, ”অনুমতি না নিয়ে রেলের সম্পদ ব্যবহার করা একটি অপরাধ। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অপরাধের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি