১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশী এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনায় গ্রেফতার ৪

র‍্যাব-১০ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাব দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সবধরনের অপরাধীকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতি দমন র‍্যাবের একটি গুরূত্বপূর্ণ ও চলমান অভিযান।

তারাই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” নামক একটি এয়ারওয়েস প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে চাকুরী প্রদান করবে মর্মে বিজ্ঞাপন প্রদান করে।উপরোক্ত বিজ্ঞাপন দেখে ভিকটিম মোঃ মাইন ও তার ভাতিজা মাসুদুল ইসলাম আপন (২১) এবং এবং তার অপর পরিচিত জুই আক্তার (১৯)দ্বয় মিলে গত-১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং উক্ত এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকুরীর জন্য উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে যোগাযোগ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ডিরেক্টর এম. এ. হক আলম ফরহাদী ভিকটিমের নিকট নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা দাবি করে।

উক্ত ঘটনার পর প্রতারিত ভিকটিমরা নিরুপায় হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ উপরোক্ত বিষয়ে অধিনায়ক, র‍্যাব-১০ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির পর র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উল্লেখিত প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধ করে। গতকাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাতে র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানাধীন জগন্নাথপুর শহীদ আব্দুল হাফিজ রোড এলাকায় অবস্থিত সংসিং টাওয়ার এর ২য় তলা “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” এর অফিসে একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” নামক এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকরি দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শতাধিক বেকার তরুন-তরুণীদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

দুপুরে কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান

আসামীরা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য চটকধারী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে বোকা বানাতে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম পত্র-পত্রিকা বেচে নেয় যাতে সাধারন মানুষ গুলো তা সহজে বিশ্বাস করে । ভিকটিমরা আলম ফরহাদীর কথামত গত-২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং পুনরায় তাদের অফিসে গিয়ে নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা প্রদান করে এবং চাকুরীর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আসে।পরভর্তিতে ভিকটিমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে যে, উল্লেখিত বিজ্ঞাপনে প্রদত্ত এয়ারওয়েজ নামে বাংলাদেশে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। অতঃপর ভিকটিমরা আলম ফরহাদী সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কিন্তু আলম ফরহাদী ভিকটিমদেরকে কোন প্রকার চাকুরী প্রদান এবং তাদের প্রদানকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে তাদের সাথে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায় ফোন বন্ধ করে তাদের সাথে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরবর্তীতে ভিকটিমরা বুঝতে পারে যে,তারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছে।

তিনি সংবাদ মাধ্যম’কে উদ্দ্যোশ্য করে বলেন বর্তমান সাধারন জনগন সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করে,তাই চাকুরী সংকান্ত কোনো বিজ্ঞাপন আসলে তা আগে যাচাই বাচাই করা উচিত, উক্ত কোম্পানীটি সরকারী বৈধ কিনা না ভূয়া কোম্পানী সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন এম. এ. হক আলম ফরহাদী (৬০)মেহেরাব হোসেন (২১)মোঃ রাসেল হোসাইন (৩০) শাহাদাত হোসেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

বিদেশী এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনায় গ্রেফতার ৪

প্রকাশিত : ০১:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩

র‍্যাব-১০ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাব দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সবধরনের অপরাধীকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতি দমন র‍্যাবের একটি গুরূত্বপূর্ণ ও চলমান অভিযান।

তারাই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” নামক একটি এয়ারওয়েস প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে চাকুরী প্রদান করবে মর্মে বিজ্ঞাপন প্রদান করে।উপরোক্ত বিজ্ঞাপন দেখে ভিকটিম মোঃ মাইন ও তার ভাতিজা মাসুদুল ইসলাম আপন (২১) এবং এবং তার অপর পরিচিত জুই আক্তার (১৯)দ্বয় মিলে গত-১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং উক্ত এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকুরীর জন্য উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে যোগাযোগ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ডিরেক্টর এম. এ. হক আলম ফরহাদী ভিকটিমের নিকট নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা দাবি করে।

উক্ত ঘটনার পর প্রতারিত ভিকটিমরা নিরুপায় হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ উপরোক্ত বিষয়ে অধিনায়ক, র‍্যাব-১০ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির পর র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উল্লেখিত প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধ করে। গতকাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাতে র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানাধীন জগন্নাথপুর শহীদ আব্দুল হাফিজ রোড এলাকায় অবস্থিত সংসিং টাওয়ার এর ২য় তলা “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” এর অফিসে একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে “ANA (All Nippon Airways) Co. Ltd” নামক এয়ারওয়েস কোম্পানীতে চাকরি দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শতাধিক বেকার তরুন-তরুণীদের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

দুপুরে কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান

আসামীরা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য চটকধারী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে বোকা বানাতে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম পত্র-পত্রিকা বেচে নেয় যাতে সাধারন মানুষ গুলো তা সহজে বিশ্বাস করে । ভিকটিমরা আলম ফরহাদীর কথামত গত-২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং পুনরায় তাদের অফিসে গিয়ে নগদ-৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা প্রদান করে এবং চাকুরীর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আসে।পরভর্তিতে ভিকটিমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে যে, উল্লেখিত বিজ্ঞাপনে প্রদত্ত এয়ারওয়েজ নামে বাংলাদেশে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। অতঃপর ভিকটিমরা আলম ফরহাদী সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কিন্তু আলম ফরহাদী ভিকটিমদেরকে কোন প্রকার চাকুরী প্রদান এবং তাদের প্রদানকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে তাদের সাথে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায় ফোন বন্ধ করে তাদের সাথে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরবর্তীতে ভিকটিমরা বুঝতে পারে যে,তারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছে।

তিনি সংবাদ মাধ্যম’কে উদ্দ্যোশ্য করে বলেন বর্তমান সাধারন জনগন সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করে,তাই চাকুরী সংকান্ত কোনো বিজ্ঞাপন আসলে তা আগে যাচাই বাচাই করা উচিত, উক্ত কোম্পানীটি সরকারী বৈধ কিনা না ভূয়া কোম্পানী সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন এম. এ. হক আলম ফরহাদী (৬০)মেহেরাব হোসেন (২১)মোঃ রাসেল হোসাইন (৩০) শাহাদাত হোসেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে