১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বাদশ নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা

ভোট উৎসবের শেষপ্রান্তে বাংলাদেশ। চলছে প্রচারের শেষ মুহূর্ত। দিন রাত এক করে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দুয়ারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। একবারে প্রান্তের মানুষটির সঙ্গে হাসিমুখে কথা বিনিময়, জড়িয়ে ধরা, ভোটারের সঙ্গে বসে খাবার ভাগাভাগি করাসহ নানা বৈচিত্র্যময় দৃশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে যেসব রাজনৈতিক দল, তারা সবাই এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারে সবাই ভালো ভালো কথা বলেছে। নির্বাচিত হলে জনগণ এবং দেশের কল্যাণে কী করবে, কতটা করবে—সেইসব কথা অত্যন্ত মার্জিত এবং মনোহর ভাষায় প্রকাশ করেছে দলগুলো।

দলের বাইরে অনেক প্রার্থীও নিজের এলাকার মানুষের জন্য, নিজের ভোটারের জন্য ব্যক্তিগত ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেইখানেও একই রকম সুন্দর ও কল্যাণকর অঙ্গীকার করেছে প্রার্থীরা।

এবার চট্টগ্রামে সোয়া তিন লাখ ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন। তাছাড়া ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সের ভোটার আছে পৌনে ৬ লাখ। এসব তরুণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। প্রার্থীদের প্রচারণাও এসব তরুণদের নিয়েই বেশি। তরুণদের নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতিও আছে প্রার্থীদের। আবার প্রার্থীদের প্রচারণায়-শোডাউনে তরুণদের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাবে-নিকাশ ও বিশ্লেষণ।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের অনেক আসনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। কারণ মোট ভোটারের একটি বড় অংশ তরুণ। আবার ভোট দেয়া নিয়ে তরুণদের আগ্রহও বেশি। এ কারণে তরুণ ভোটারদের প্রতি প্রার্থীদেরও আগ্রহ বেশি। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিও তরুণদের লক্ষ্য করেই। দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিও তরুণদের উদ্দেশ্যে জানাচ্ছে প্রার্থীরা। প্রাধান্য পাচ্ছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়নসহ নানা আশ্বাস।

এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন মিজানুর রহমান (রুবেল) সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা । তিনি বলেন, প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার ইচ্ছে আছে। প্রথম ভোট, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবেন এমন প্রার্থীকে বেঁচে নিব। আশা করছি, ভোট দেয়ার উপযুক্ত পরিবেশ পেলে।

চট্টগ্রামে এবার নতুন ভোটার হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬০ তরুণ ভোটার। পুরনো ভোটারদের চেয়ে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু বেশি। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ আছে তরুণদের। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীরাও তরুণ ভোটারদের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এলাকায় এলাকায় গিয়ে তরুণদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১। প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬০ জন। এ কারণে তারাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন। এই ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে কৌতুহল ও আগ্রহ প্রচুর। অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ভালো প্রার্থীদের বেঁচে নিবেন তরুণরা। ভোটে তরুণদের সমর্থনেই ঠিক হবে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। তরুণদের উপস্থিতিই থাকবে ভোট কেন্দ্রে।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা উর্মি আক্তার ভোটার হয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে । গত জাতীয় দুই নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার কারণে চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়ার সাহস করেনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন তিনি বলেন, ভোটার হয়েছি ভোট দিব। ভোটের পরিবেশ কেমন হবে জানি না। যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে অবশ্যই ভোট দিতে যাবো। যাকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে মনে হবে, তাকেই ভোট দিব। এলাকার উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকবে এমন প্রার্থীকে খুঁজে নিব।

উল্লেখ্য, এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২২ জন। আর এদের মধ্য থেকে মোট ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ জন ভোটার সংসদে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯০ জন। মহিলা ভোটার ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০২৩, বুথের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৩২টি।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

দ্বাদশ নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা

প্রকাশিত : ০২:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

ভোট উৎসবের শেষপ্রান্তে বাংলাদেশ। চলছে প্রচারের শেষ মুহূর্ত। দিন রাত এক করে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দুয়ারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। একবারে প্রান্তের মানুষটির সঙ্গে হাসিমুখে কথা বিনিময়, জড়িয়ে ধরা, ভোটারের সঙ্গে বসে খাবার ভাগাভাগি করাসহ নানা বৈচিত্র্যময় দৃশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে যেসব রাজনৈতিক দল, তারা সবাই এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারে সবাই ভালো ভালো কথা বলেছে। নির্বাচিত হলে জনগণ এবং দেশের কল্যাণে কী করবে, কতটা করবে—সেইসব কথা অত্যন্ত মার্জিত এবং মনোহর ভাষায় প্রকাশ করেছে দলগুলো।

দলের বাইরে অনেক প্রার্থীও নিজের এলাকার মানুষের জন্য, নিজের ভোটারের জন্য ব্যক্তিগত ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেইখানেও একই রকম সুন্দর ও কল্যাণকর অঙ্গীকার করেছে প্রার্থীরা।

এবার চট্টগ্রামে সোয়া তিন লাখ ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন। তাছাড়া ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সের ভোটার আছে পৌনে ৬ লাখ। এসব তরুণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। প্রার্থীদের প্রচারণাও এসব তরুণদের নিয়েই বেশি। তরুণদের নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতিও আছে প্রার্থীদের। আবার প্রার্থীদের প্রচারণায়-শোডাউনে তরুণদের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাবে-নিকাশ ও বিশ্লেষণ।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের অনেক আসনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। কারণ মোট ভোটারের একটি বড় অংশ তরুণ। আবার ভোট দেয়া নিয়ে তরুণদের আগ্রহও বেশি। এ কারণে তরুণ ভোটারদের প্রতি প্রার্থীদেরও আগ্রহ বেশি। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিও তরুণদের লক্ষ্য করেই। দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিও তরুণদের উদ্দেশ্যে জানাচ্ছে প্রার্থীরা। প্রাধান্য পাচ্ছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়নসহ নানা আশ্বাস।

এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন মিজানুর রহমান (রুবেল) সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা । তিনি বলেন, প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার ইচ্ছে আছে। প্রথম ভোট, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবেন এমন প্রার্থীকে বেঁচে নিব। আশা করছি, ভোট দেয়ার উপযুক্ত পরিবেশ পেলে।

চট্টগ্রামে এবার নতুন ভোটার হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬০ তরুণ ভোটার। পুরনো ভোটারদের চেয়ে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু বেশি। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ আছে তরুণদের। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীরাও তরুণ ভোটারদের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এলাকায় এলাকায় গিয়ে তরুণদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১। প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬০ জন। এ কারণে তারাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন। এই ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে কৌতুহল ও আগ্রহ প্রচুর। অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ভালো প্রার্থীদের বেঁচে নিবেন তরুণরা। ভোটে তরুণদের সমর্থনেই ঠিক হবে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। তরুণদের উপস্থিতিই থাকবে ভোট কেন্দ্রে।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা উর্মি আক্তার ভোটার হয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে । গত জাতীয় দুই নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার কারণে চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়ার সাহস করেনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন তিনি বলেন, ভোটার হয়েছি ভোট দিব। ভোটের পরিবেশ কেমন হবে জানি না। যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে অবশ্যই ভোট দিতে যাবো। যাকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে মনে হবে, তাকেই ভোট দিব। এলাকার উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকবে এমন প্রার্থীকে খুঁজে নিব।

উল্লেখ্য, এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২২ জন। আর এদের মধ্য থেকে মোট ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ জন ভোটার সংসদে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯০ জন। মহিলা ভোটার ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০২৩, বুথের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৩২টি।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে