কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সিএনজি অটোরিকশাচালক ইকতার হোসেনকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অপরাধে চারজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন। নিহত ইকতার হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার কালাইরকান্দি গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার দাউদকান্দি উপজেলার কালাইরকান্দি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর (৩০), জুরানপুর গ্রামের সুমন (২২), দেবীদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের ইমরান (১৮), একই গ্রামের রুবেল (২৩)।
আদালত ও মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দুপুরে ইকতার হোসেন সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরেননি। পরদিন দাউদকান্দি থানা পুলিশের মাধ্যমে তার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, দাউদকান্দির পুটিয়া বেকিনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাইকারী ২ জনকে আটক করে স্থানীয় জনগণ গণধোলাই দিয়েছে। ওই ছিনতাইকারীরা যাত্রীবেশে সিএনজি অটোরিকশায় উঠে কিছু দূর গিয়ে প্রস্রাবের কথা বলে সিএনজিটি থামিয়ে ভিকটিম ইকতারকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে এবং পানিতে চুবিয়ে তাকে হত্যার পর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে লাশ গুম করে রাখে। এদিন পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারসহ ইকতার হোসেনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আক্তার হোসেন বাদী হয়ে ওই ৪ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ৪ জনের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আদালত এ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সকলকে মৃত্যুদÐ ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম. এ আদনান ও আইনজীবী ফেরদৌস আক্তার বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।




















