০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

লালমনিরহাটের ভাষা সৈনিকের খোঁজ রাখেন না কেউ

লালমনিরহাটে ভালো নেই ভাষা সৈনিকেরা। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে। সেই ভাষা সংগ্রাম আন্দোলনে পিছিয়ে ছিল না লালমনিরহাট। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত লালমনিরহাটের ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন করেছেন।

মহান ভাষা আন্দোলনে লালমনিরহাটে যেসব ভাষা সৈনিক সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে ১জন আজও বেঁচে আছেন। তিনি হলেন-আবদুল কাদের ভাসানী। মৃত্যু বরণ করেছেন ১১জন। তাঁরা হলেন- আশরাফ আলী, ড. শাফিয়া খাতুন, মনিরুজ্জামান, আবদুল কুদ্দুছ, কমরেড শামসুল হক, মহেন্দ্র নাথ রায়, আবিদ আলী, জরিনা বেগম, জাহানারা বেগম (দুলু), কমরেড সিরাজুল ইসলাম, মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ।

আবদুল কাদের ভাসানী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সে সময় লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল সমর্থনে আবদুল কাদের ভাসানী এবং ভাষা সংগ্রাম পরিষদের কয়েকজন সদস্য লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের বাড়ী পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তৎকালীন লালমনিরহাট থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারের জন্য বিদ্যালয় গেটে আসলে প্রধান শিক্ষক পুলিশকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় পুলিশ ফিরে যান। পরে পুলিশি গ্রেফতারের নতুন কৌশল এড়াতে ছাত্রনেতাগণ বিদ্যালয়ের পিছনে সুইপার কলোনি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁরা চিহ্নিত হলে পুলিশ কারণে-অকারণে তাঁদের ধরে এনে থানায় আটকিয়ে রাখা শুরু করলে তাঁরা বাধ্য হয়ে আত্মগোপন করে আন্দোলন চালিয়ে যান।

আবদুল কাদের ভাসানী ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। আবদুল কাদের ভাসানী এখন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হাড়ীভাঙ্গা (হলদীটারী) গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানীর খোঁজ রাখেন না কেউ। রাজনীতির নেতৃবৃন্দ থেকে প্রশাসন পর্যন্ত খবর রাখেন না। তবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে তাদের একটি রুটিন মাফিক আমন্ত্রণ পত্র প্রেরণ করা হয় ভাষা সৈনিকের কাছে।
তাদের ২১ ফেব্রুয়ারির দিন সংবর্ধনা ছাড়া অন্যান্য ১১টি মাসে তাঁদের কোন খোঁজ খবর রাখেন না কেউ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

লালমনিরহাটের ভাষা সৈনিকের খোঁজ রাখেন না কেউ

প্রকাশিত : ০৬:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

লালমনিরহাটে ভালো নেই ভাষা সৈনিকেরা। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে। সেই ভাষা সংগ্রাম আন্দোলনে পিছিয়ে ছিল না লালমনিরহাট। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত লালমনিরহাটের ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন করেছেন।

মহান ভাষা আন্দোলনে লালমনিরহাটে যেসব ভাষা সৈনিক সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে ১জন আজও বেঁচে আছেন। তিনি হলেন-আবদুল কাদের ভাসানী। মৃত্যু বরণ করেছেন ১১জন। তাঁরা হলেন- আশরাফ আলী, ড. শাফিয়া খাতুন, মনিরুজ্জামান, আবদুল কুদ্দুছ, কমরেড শামসুল হক, মহেন্দ্র নাথ রায়, আবিদ আলী, জরিনা বেগম, জাহানারা বেগম (দুলু), কমরেড সিরাজুল ইসলাম, মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ।

আবদুল কাদের ভাসানী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সে সময় লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল সমর্থনে আবদুল কাদের ভাসানী এবং ভাষা সংগ্রাম পরিষদের কয়েকজন সদস্য লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের বাড়ী পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তৎকালীন লালমনিরহাট থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারের জন্য বিদ্যালয় গেটে আসলে প্রধান শিক্ষক পুলিশকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় পুলিশ ফিরে যান। পরে পুলিশি গ্রেফতারের নতুন কৌশল এড়াতে ছাত্রনেতাগণ বিদ্যালয়ের পিছনে সুইপার কলোনি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁরা চিহ্নিত হলে পুলিশ কারণে-অকারণে তাঁদের ধরে এনে থানায় আটকিয়ে রাখা শুরু করলে তাঁরা বাধ্য হয়ে আত্মগোপন করে আন্দোলন চালিয়ে যান।

আবদুল কাদের ভাসানী ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। আবদুল কাদের ভাসানী এখন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হাড়ীভাঙ্গা (হলদীটারী) গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানীর খোঁজ রাখেন না কেউ। রাজনীতির নেতৃবৃন্দ থেকে প্রশাসন পর্যন্ত খবর রাখেন না। তবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে তাদের একটি রুটিন মাফিক আমন্ত্রণ পত্র প্রেরণ করা হয় ভাষা সৈনিকের কাছে।
তাদের ২১ ফেব্রুয়ারির দিন সংবর্ধনা ছাড়া অন্যান্য ১১টি মাসে তাঁদের কোন খোঁজ খবর রাখেন না কেউ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ