০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার বাউত উৎসব শুরু

 সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল থেকে বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারেও উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাল বিলের পানিতে নেমে পলো দিয়ে সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ শিকারে মত্ত হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় ভাষায় এসব মাছ শিকারকে বলা হয় ‘বাউত’। বিভিন্ন বিলাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিলের পানিতে মাছ শিকারে সবাই দলবেঁধে নেমে পড়ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মাছের আনাগোনা কম হওয়ায় বেশির ভাগ বাউতদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী ) সরেজমিনে উপজেলার ফুলঝর নদীতে দেখা যায় শত শত সৌখিন মাছ শিকারি মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন। কেউ মাছ পাচ্ছেন আবার কেউবা ফিরছেন খালি হাতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাউতরা এসেছেন মাছ শিকারে। এই মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠছেন শিশু-কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা।

এই বাউতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে শোল, বোয়াল,কাতল, আইড়, গজার,রুইসহ হরেক রকমের মাছ। বাউতে মাছ শিকার প্রেমিক মোঃ সবুজ বলেন, মাছ পাওয়া না পাওয়া বড় কথা নয়, ব্যতিক্রমী এ উৎসবে যোগ দিতে পেরে আনন্দ উপভোগ করাটাই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয়।

উপজেলার টেটিয়ার কান্দা গ্রামের মোঃ দিদারুল ইসলাম,মশিপুর গ্রামের শাহাদত,বাড়াবিল গ্রামের রফিকুল, নাববিলা গ্রামের চাদশেখ,সরিষাকোল গ্রামের জালালসহ বেশ কয়েকজন বাউত সৌখিন মৎস্য শিকারি জানান, প্রতি বছর এই সময়টার অপেক্ষায় থাকেন তারা।মাছ মারার আগের দিন মাইকিং ও মুটো ফোনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফুলঝর নদী, করতোয়া নদী ও বিভিন্ন বিলে পলো নিয়ে মাছ শিকারে নেমে পড়ছেন। দলবদ্ধ হয়ে মাছ ধরা এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া বাউত উৎসব গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কখনো তারা হারাতে দেবেনা।এবং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছরই বাউত উৎসবে যোগ দিবেন বলে জানালেন তারা।

গাঁড়াদহ  ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম  জানান, নদীতে মাছ ধরা বাউত উৎসবটি প্রাচীন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। প্রতি বছরই এভাবেই এই বাউত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ট্যাগ :

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার বাউত উৎসব শুরু

প্রকাশিত : ০৫:১১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল থেকে বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারেও উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাল বিলের পানিতে নেমে পলো দিয়ে সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ শিকারে মত্ত হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় ভাষায় এসব মাছ শিকারকে বলা হয় ‘বাউত’। বিভিন্ন বিলাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিলের পানিতে মাছ শিকারে সবাই দলবেঁধে নেমে পড়ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মাছের আনাগোনা কম হওয়ায় বেশির ভাগ বাউতদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী ) সরেজমিনে উপজেলার ফুলঝর নদীতে দেখা যায় শত শত সৌখিন মাছ শিকারি মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন। কেউ মাছ পাচ্ছেন আবার কেউবা ফিরছেন খালি হাতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাউতরা এসেছেন মাছ শিকারে। এই মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠছেন শিশু-কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা।

এই বাউতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে শোল, বোয়াল,কাতল, আইড়, গজার,রুইসহ হরেক রকমের মাছ। বাউতে মাছ শিকার প্রেমিক মোঃ সবুজ বলেন, মাছ পাওয়া না পাওয়া বড় কথা নয়, ব্যতিক্রমী এ উৎসবে যোগ দিতে পেরে আনন্দ উপভোগ করাটাই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয়।

উপজেলার টেটিয়ার কান্দা গ্রামের মোঃ দিদারুল ইসলাম,মশিপুর গ্রামের শাহাদত,বাড়াবিল গ্রামের রফিকুল, নাববিলা গ্রামের চাদশেখ,সরিষাকোল গ্রামের জালালসহ বেশ কয়েকজন বাউত সৌখিন মৎস্য শিকারি জানান, প্রতি বছর এই সময়টার অপেক্ষায় থাকেন তারা।মাছ মারার আগের দিন মাইকিং ও মুটো ফোনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফুলঝর নদী, করতোয়া নদী ও বিভিন্ন বিলে পলো নিয়ে মাছ শিকারে নেমে পড়ছেন। দলবদ্ধ হয়ে মাছ ধরা এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া বাউত উৎসব গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কখনো তারা হারাতে দেবেনা।এবং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছরই বাউত উৎসবে যোগ দিবেন বলে জানালেন তারা।

গাঁড়াদহ  ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম  জানান, নদীতে মাছ ধরা বাউত উৎসবটি প্রাচীন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। প্রতি বছরই এভাবেই এই বাউত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।