শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত ইসোব আলী ও তার বোন রুবির দুঃখ ভরা জীবন কাহিনী গণমাধ্যমে প্রচার হলে শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ, এফ, এম, আবু সুফিয়ান আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের পাশে দাঁড়ান।
বর্তমানে দেশে জনবান্ধব ও উন্নয়নের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়ন, অগ্রগতি হলেও এই ভাই-বোন ও তাদের পরিবারের উন্নয়নের চাকা একেবারে আটকে গেছে। তাদের ভাগ্যে জুটে নি কোন ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা। থাকার মত নেই কোন বসতভিটা। নিজের বলতে যেটুকু আছে সেটাও সরকারি খাস জমি। সেখানেও থাকার মত কোন ঘর তৈরি করতে পারে নি তারা। যার ফলে ইসোব আলীকে থাকতে হয় পুকুর ঘাটে। এমনই দুই ভাই-বোনের কষ্টে ভরা জীবন কাটছে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের (১নং ওয়ার্ড) অধিবাসী মোহনবাগ গ্রামের মোহাঃ ইসোব আলী (৫১) ও মোসাঃ রুবির (৫৫)।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ধারে সরকারি খাস জমিতে একখান জরাজীর্ণ ঘর। দেখলে মনে হবে প্রাগৈতিহাসিক যুগের কোন একটা ঘর। স্যাঁতসেঁতে ঘরের মেঝে। বহু পুরনো ছিড়ে ফাটা কাপড় চোপড়। যেখানে সেখানে জিনিসপত্র পড়ে আছে। দেখে বোঝার কোন উপায় নেই যে এটা কোন মানুষের বসবাস করা ঘর। ছোট্ট ঘরে একটা ঘুণে ধরা চৌকি। সেটাও আবার ভাঙ্গাচোরা। বসবাসের অনুপযোগী। ঘরের দরজা বলতে ভাঙ্গা ঢেউটিন। সেটাও আবার ভাঙ্গা বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া। তাদের বাবা-মা দুজনের কেহই জীবিত নেই।
ইসোব ও রুবি দুইজনের সাথে সাথে কথা বললে তারা জানান, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি জটিল ও কঠিন রোগের। আলসার ও হার্টের মতো বিভিন্ন মারাত্নক রোগে ভুগছেন ইসোব আলী। অনেকদিন আগে চিকিৎসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অর্থাভাবে এগোতে পারেন নি ফলে বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ঔষধ কেনার সামর্থ যেখানে নেই সেখানে চিকিৎসা কিভাবে করবেন! কোন ধরনের কাজকর্মও করতে পারেন না ইসোব আলী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক রোগের কারণে তিনি বিয়ে করে সংসার করতে পারেন নি। বিয়ে করে চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন।
পরিবারের কর্মক্ষম কেউ না থাকায় তার বয়স্ক বোনকেই ভিক্ষাবৃত্তি করে চালাতে হয়। কিন্তু বয়সের ভারে নূয়্যে গেছে শরীর। তারপরও বাঁচার তাগিদে যেতে হয় দ্বারে দ্বারে। যদি কেউ কিছু দেয় তবে চুলোয় হাঁড়ি চড়ে, আর যদি খালি হাতে ফিরতে হয় তবে উনুন থাকে বন্ধ। এই বোনেরও বিয়ে হয়েছিল কিন্তু সংসার টিকে নি। পরবর্তীতে আর কোনভাবেই স্বামী সংসারের স্বপ্ন দেখতে পারেন নি।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, এরা হচ্ছে জন্মের অসহায়! তাদের দেখার কেউ নাই, আজ অবধি কেহই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাদের বাস করার মত কোন ঘর নেই। বসার মত কোন জায়গা নেই। স্বাধীনতার পরে ক্ষমতার পালাবদল হলেও এদের ভাগ্যের কোন বদল হয়নি। মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি কোন জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি তাদের বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তারা কেহই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। দুই ভাই-বোন বড়ই অসহায়। আল্লাহ ছাড়া তাদের আর দেখার কেউ নাই।
এমন খবর প্রকাশ হলে আজ (২৯ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ, এফ, এম আবু সুফিয়ান তার নিজ কার্যালয়ে ভাই-বোনকে ডেকে এনে নগদ পাঁচ হাজার টাকা (৫০০০) তাদের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে তাদের বসবাসের জন্য যে সরকারি খাস জায়গা রয়েছে সেটাকে অসহায় ভাই বোনের মাঝে বন্দোবস্ত করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: জুবায়ের হোসেনকে সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
হাফিজুর রহমান 





















