সাম্প্রতিক সময়ে জাল টাকা তৈরির সাথে বেশ কয়েকটি চক্র জড়িত আছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে অচল করতে এবং সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে অধিক মুনাফার লোভে জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করার সংঘবদ্ধ কিছু চক্র সক্রিয় হয়ে পড়ছে। এই চক্রগুলো জাল টাকা তৈরি করে নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্য দিয়ে আসল টাকার ভেতর জাল টাকা মিলিয়ে দিয়ে সহজ সরল মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব সদর দপ্তরের নির্দেশনায় অনুযায়ী দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই রকম চক্রের কিছু সদস্য র্যাবের জালে ধরা পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ৭ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখ ভোররাতের দিকে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ঢাকা মহানগরীর মিরপুরের রুপনগর থানাধীন এলাকায় একটি বাসায় একটি চক্র জাল টাকা তৈরি করে আসছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জালনোট তৈরী ও ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা মোঃ পারভেজ হোসেন (২৪) মোঃ রুবেল ইসলাম হৃদয় (১৯) নুর আলম সাগর(২৩)’দেরকে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ২,৪৯,০০০ টাকা মূল্যমানের জালনোট তৈরীতে ব্যবহারকৃত ক্যামিক্যাল সহ প্লাস্টিকের কৌটা,উদ্ধার করা হয়। দুপুরে (র্যাব-১) এর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় (র্যাব-১) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মুসতাক আহমদ সাংবাদিকদের জানান,পারভেজ এই জাল নোট ছাপানো চক্রের মূলহোতা। সে বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নেটওয়ার্ক তৈরী করে। এ সকল পেইজ প্রমোট ও বুস্টিং করে অনেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা সংগ্রহ করে যারা আসন্ন মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর কে টার্গেট করে জাল নোটের ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তারা প্রতি ১ লক্ষ টাকা মূল্যমানের জাল নোট ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। ঈদ উপলক্ষে জাল নোটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা প্রতি ১ লাখ টাকার জাল নোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছিল মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত রুবেল দেশী-বিদেশী জাল টাকা ছাপানোর মূল কারিগর। সে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা হতে টাকা ছাপানোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং জাল টাকার ডিজাইনসহ ছাচ সংগ্রহ করে। অনলাইনে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সে বিভিন্ন মূল্যমানের দেশী বিদেশী জাল টাকা ছাপানোর কাজ করতো। গ্রেফতারকৃত নুর আলম সাগর এই চক্রের কাটিং মাস্টার হিসেবে পরিচিত। তৈরীকৃত দেশী-বিদেশী জাল টাকা প্রিন্টিং এর পর সঠিক সাইজ অনুযায়ী কাটিং এর কাজ করতো। পাশাপাশি ফোনে এবং অনলাইনে অর্ডারকৃত জাল টাকা বিভিন্ন জনের কাছে পৌছে দিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবেও কাজ করতো।উদ্ধারকৃত জাল টাকা, জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদি ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
বিপুল পরিমান জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা পারভেজসহ ৪ জন’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব -১
-
মাসুদ রানা,সিনিয়র রিপোর্টার - প্রকাশিত : ১০:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪
- 204
ট্যাগ :
জনপ্রিয়






















