১১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করবে স্পিরুলিনা চাষ

ছবি সংগৃহীত

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যতগুলো পুষ্টি উপাদান দরকার, সকল ধরণের পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে আছে। পাশাপাশি ঘরে চাষ করলে ঘরের বাতাসকে করবে পরিশুদ্ধ এবং ঘরের তাপমাত্রা রাখবে সহনীয়। সম্প্রতি স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট চাষের উপকারিতা বর্ণণা করতে গিয়ে এসব কথা জানান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট নিয়ে গবেষণা করছে একদল গবেষক। গবেষণায় তারা এক ধরণের বায়োরিয়েক্টর এর মাধ্যমে বায়ুরোধী পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ হাতের স্পর্শ ছাড়াই স্পিরুলিনা উৎপাদন ও সংগ্রহ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ফলে এ পদ্ধতি শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত।

গবেষণার কাজে জড়িত ড. আবুল ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা কাজ শুরু করি স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট উৎপাদন নিয়ে। শুধুমাত্র সূর্যের আলো ব্যবহার করেই এটা উৎপাদন করা যায়। এটা উৎপাদনে প্রচূর পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড লাগে। আমরা ফিল্টার করে এর ভিতর কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে থাকি। কার্বন ডাই অক্সাইড এটার ভিতরে দিলে কার্বন ডাই অক্সাইড ওরা খেয়ে ফেলে এবং অক্সিজেন এ পরিণত করে পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়।

এটা যখন দেখলাম, তখন আমরা চিন্তা করলাম আমরা আমাদের ঘরে ফ্রিজ, এসি, ওভেন চুলা এবং আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়। আমরা যখন বদ্ধ ঘরে থাকি তখন যেহেতু ঘরে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়, আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা একটা গঠন তৈরি করেছি, যে কীভাবে আমরা ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করবো। আমরা ঘরের বাতাস তথা কার্বন ডাই অক্সাইড স্পিরুলিনার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলাম। এখানে প্রোডাকশনের জন্য সূর্যের আলোর পরিবর্তে এলইডি লাইট ব্যবহার করেছি। এর ভিতরে বাতাস প্রবেশ করালে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড অক্সিজেন এ পরিবর্তন হয়ে পাশের পকেট দিয়ে বেরিয়ে আসবে, যার তাপমাত্রা তুলনামূলক কম।

তিনি আরও বলেন, লিকুইড প্লান্ট এ যখন এক লিটার পানি থাকবে, তখন তা ২০টা গাছের সমান কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া এর ভিতরে থাকা স্পিরুলিনা ১৫ দিন পর পর সংগ্রহ করে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে, যা শরীরের পুষ্টি সংগ্রহে ভূমিকা রাখবে।

গবেষকরা বর্তমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মনে করে, আগামীর খাবার হবে স্পিরুলিনা এবং আগামীর বায়ু বিশোধক হবে লিকুইড প্লান্ট।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করবে স্পিরুলিনা চাষ

প্রকাশিত : ০৪:২৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যতগুলো পুষ্টি উপাদান দরকার, সকল ধরণের পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে আছে। পাশাপাশি ঘরে চাষ করলে ঘরের বাতাসকে করবে পরিশুদ্ধ এবং ঘরের তাপমাত্রা রাখবে সহনীয়। সম্প্রতি স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট চাষের উপকারিতা বর্ণণা করতে গিয়ে এসব কথা জানান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট নিয়ে গবেষণা করছে একদল গবেষক। গবেষণায় তারা এক ধরণের বায়োরিয়েক্টর এর মাধ্যমে বায়ুরোধী পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ হাতের স্পর্শ ছাড়াই স্পিরুলিনা উৎপাদন ও সংগ্রহ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ফলে এ পদ্ধতি শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত।

গবেষণার কাজে জড়িত ড. আবুল ফয়েজ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা কাজ শুরু করি স্পিরুলিনা বা লিকুইড প্লান্ট উৎপাদন নিয়ে। শুধুমাত্র সূর্যের আলো ব্যবহার করেই এটা উৎপাদন করা যায়। এটা উৎপাদনে প্রচূর পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড লাগে। আমরা ফিল্টার করে এর ভিতর কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে থাকি। কার্বন ডাই অক্সাইড এটার ভিতরে দিলে কার্বন ডাই অক্সাইড ওরা খেয়ে ফেলে এবং অক্সিজেন এ পরিণত করে পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়।

এটা যখন দেখলাম, তখন আমরা চিন্তা করলাম আমরা আমাদের ঘরে ফ্রিজ, এসি, ওভেন চুলা এবং আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়। আমরা যখন বদ্ধ ঘরে থাকি তখন যেহেতু ঘরে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়, আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা একটা গঠন তৈরি করেছি, যে কীভাবে আমরা ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করবো। আমরা ঘরের বাতাস তথা কার্বন ডাই অক্সাইড স্পিরুলিনার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলাম। এখানে প্রোডাকশনের জন্য সূর্যের আলোর পরিবর্তে এলইডি লাইট ব্যবহার করেছি। এর ভিতরে বাতাস প্রবেশ করালে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড অক্সিজেন এ পরিবর্তন হয়ে পাশের পকেট দিয়ে বেরিয়ে আসবে, যার তাপমাত্রা তুলনামূলক কম।

তিনি আরও বলেন, লিকুইড প্লান্ট এ যখন এক লিটার পানি থাকবে, তখন তা ২০টা গাছের সমান কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া এর ভিতরে থাকা স্পিরুলিনা ১৫ দিন পর পর সংগ্রহ করে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে, যা শরীরের পুষ্টি সংগ্রহে ভূমিকা রাখবে।

গবেষকরা বর্তমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মনে করে, আগামীর খাবার হবে স্পিরুলিনা এবং আগামীর বায়ু বিশোধক হবে লিকুইড প্লান্ট।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS