নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান জনিত কারনে অধিক মুল্যমানের হওয়ায় অন্যের সম্পত্তি নিজের দাবী করে দখলের পাঁতারা করছে এক লোভী ব্যক্তি। এ ব্যপারে নওগাঁ’র অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগি জমির মালিক।
মামলা এবং সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিন হোসেনপুর মৌজার নওগাঁ-মহাদেবপুর প্রধান সড়কের উত্তর পার্শ্বে জনৈক মৃত রামজয় মন্ডলের পুত্র মৃত জিতেন্দ্রনাথ মন্ডল এর দুই পুত্র নীরেন চন্দ্র মন্ডল ও উজ্জল কুমার মন্ডলের নিকট থেকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি সাবেক দাগ নং ১১৮ ও হাল দাগ নং ১২৫ মোতাবেক ৩.৪৪ শতাংশ, সাবেক দাগ নং ১১৯ হাল দাগ নং ১২৬ মোতাবেক ১৫.৩২ শতাংশসহ মোট ১৮.৭৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন বদলগাছী উপজেলার গোল্লা মাধবপাড়া নিবাসী মেজাম্মেল হকের পুত্র মোঃ ফিরোজ হোসেন সরদার। সেখানে এক অংশে পাকা ঘর তুলে লেদ ব্যবসা শুরু করেন। একটি অংশে টিনের একটি ঘর তোলেন। মোট ১.৬৯ একর এর মধ্যে ১৮.৭৬শতাংশ দক্ষিনাংশে দখল রয়েছে। সম্পত্তির তফশীল মোতাবেক ফির্জো হোসেনের অনুকলে একটি হাত নকসাও প্রদান করা হয়েছে সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ক্রেতা ফিরোজ হোসেনের অনুকুলেই রয়েছে। তবে সাবেক দাগ নং ১২১ হাল দাগ নং ১২৯ মোতাবেক ৫.৭৬ শতাংশ জমি পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মৃত জিতেন্দ্রনাথ মন্ডলের দুইপুত্র তাদের দখলে রয়েছে।
অপরদিকে মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত নগেন্দ্রনাথ দাসের পুত্র গৌতম চন্দ্র দাস উক্ত জিতেন্দ্র নাথ মন্ডলের অপর ভাই ক্ষেত্র মোহনের নিকট থেকে অনুরুপ পৃথক ৩ দাগে মালিকানাধীন তার অংশের সম্পত্তি ক্রয় করে মালিকানা লাভ করে। পরবর্তীতে উক্ত গৌতম চন্দ্র দাস গায়ের জোরে অন্য দুই দাগের সম্পত্তি বাদ দিয়ে প্রদান সড়কের পাশে অবস্থিত সাবেক দাগ নং ১১৯ হাল দাগ নং ১২৬ অংশে তার সমস্ত সম্পত্তি দাবী করে দখলের অপচেষ্টা করতে থাকে। অথচ শরীকানা অংশ হিসেবে গৌতম যার নিকট থেকে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন উক্ত ক্ষেত্র মোহনের উক্ত ১২৬ দাগে মোট সম্পত্তি আছে ২১ শাতংশ। তার মধ্যে সাড়ে ১০ শতাংশ সম্পত্তি সড়ক সম্প্রসারনের প্রয়োজনে সরকপার হুকুম দখল করে নিয়েছে এবং যথাযথ তার মুল্যও পরিশ্ধো করা হয়েছে। বাঁকী সাড়ে ১০ শতাংশ সম্পত্তি যথারীতি পরিত্যক্ত রয়েছে। অপর পটৃথক দু’টি দাগে যথারীতি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। সেখানে সম্পত্তি না নিয়ে অন্যের কেনা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জমির বর্তমান মালিক মোঃ ফিরোজ হোসেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২৬৭ মিস/২০২৪ নম্বর মালাটি আনয়ন করেছেন।
এবিষয়ে গৌতম চন্দ্র দাসের সাথে যোগায়োগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমিতে আমি মাটি ফেলছি। সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে মাটি ভড়াটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জোরপূর্বক দখল করি আর বেআইনী ভাবে দখল করি সেটা আমি বুঝবো আর সড়ক বিভাগ বুঝবে। সরকারি জমি দখল করছি ওনার কি সমস্যা। তার পরেও ঔ জমি নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে যা বলার আদালতে বলবো সমস্য নেই। বলে ফোন রাখতে বলেন।
মহাদেবপুর অফিসার ইনচার্জ মো: রুহুল আমিন বলেন, এবিষয়ে এখনো আমি জানিনা তবে আদালতের বিষয় ১৪৪/১৪৫ এর নির্দেশ পাওয়া গেলে আইন শৃঙ্খলা যেন কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। সেই জন্য মাটি ভরাট কাজ বন্ধ করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পযর্ন্ত সেখানে কোন মাটি ভরাট বা কোনো প্রকার জমির স্থায়ী পরিবর্তন না করে যে যেই অবস্থায় রয়েছে তাকে সেই অবস্থাতে থাকতে বলা হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি রিফাত আরা বলেন, উক্ত মামলার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন চেয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি সরেজমিনে যা পাওয়া যাবে আগামী ৮ ই এপ্রিল ২০২৪ এর মধ্যে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হবে।






















