০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী অপহরণ, গ্রেফতার ৭

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের দুরভিসন্ধিমূলক  পরিকল্পনায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় চক্রের সাতজনকে গ্রেফতার করেছে  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ। গ্রেফতারকৃরা হলো আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মাসুদ, তার শ্যালক ও স্কুল শিক্ষার্থীর পরিবারের গাড়ির ড্রাইভার মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ নূর আলম, মোঃ রনি মিয়া, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জনি বিশ্বাস ও মোঃ আসলাম হাওলাদার। গ্রেফতারের পর তাদের হেফাজত হতে অপহরণে ব্যবহৃত ২টি খেলনা পিস্তল, ৪টি মোবাইল ফোন ১টি প্রাইভেটকার ও নগদ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিপিএম-বার, পিপিএম-বার। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) জানান, গত ২০ মার্চ মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ৫ম শ্রেণির একজন ছাত্র ও তাকে বহন করা প্রাইভেটকার চালককে স্কুলের সামনে থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে সাভারের গেন্ডা এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারা প্রাইভেটকারটি বসিলা ব্রিজ এলাকায় রাস্তার উপর চাবিসহ ফেলে রেখে যায়। অপহরণকরীরা শিশুর চাচাকে ফোন করে জানায় তার ভাতিজা এবং গাড়ি চালক দুইজন তাদের কাছে জিম্মি আছে। তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করতে চাইলে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। এরমধ্যে ভিকটিমের পরিবার ১৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ভিকটিম ও গাড়ি চালককে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। এদিকে ধানমন্ডি থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি আরো জানান, মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে রাজধানীসহ কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অপহরণকারীদের গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসে মূল ঘটনা। মূলত তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালকই সাজায় অপহরণের নাটক। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন গাড়ি চালকের দুলাভাই। তারা অনেক আগেই অপহরণের পরিকল্পনা করে রেখেছিল। চক্রটির প্রথম টার্গেট থাকে কৌশলে চালককে দলে ভিড়ানো। তাতে ব্যর্থ হলে নিজেদের এক সদস্যকেই চালক সাজিয়ে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে। নিয়োগ দিতে সফল হলে এরপরই অপহরণ শুরু করে চক্রটি। ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও গৃহকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে চালক ও গৃহকর্মীর জীবন বৃত্তান্ত ও ছবি রাখর পরামর্শ প্রদান করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

ট্যাগ :

ফাঁকিকৃত ৫৩২ কোটি টাকার আয়কর আদায় করলো আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট

ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী অপহরণ, গ্রেফতার ৭

প্রকাশিত : ০৮:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের দুরভিসন্ধিমূলক  পরিকল্পনায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় চক্রের সাতজনকে গ্রেফতার করেছে  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ। গ্রেফতারকৃরা হলো আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মাসুদ, তার শ্যালক ও স্কুল শিক্ষার্থীর পরিবারের গাড়ির ড্রাইভার মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ নূর আলম, মোঃ রনি মিয়া, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জনি বিশ্বাস ও মোঃ আসলাম হাওলাদার। গ্রেফতারের পর তাদের হেফাজত হতে অপহরণে ব্যবহৃত ২টি খেলনা পিস্তল, ৪টি মোবাইল ফোন ১টি প্রাইভেটকার ও নগদ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিপিএম-বার, পিপিএম-বার। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) জানান, গত ২০ মার্চ মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ৫ম শ্রেণির একজন ছাত্র ও তাকে বহন করা প্রাইভেটকার চালককে স্কুলের সামনে থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে সাভারের গেন্ডা এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারা প্রাইভেটকারটি বসিলা ব্রিজ এলাকায় রাস্তার উপর চাবিসহ ফেলে রেখে যায়। অপহরণকরীরা শিশুর চাচাকে ফোন করে জানায় তার ভাতিজা এবং গাড়ি চালক দুইজন তাদের কাছে জিম্মি আছে। তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করতে চাইলে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। এরমধ্যে ভিকটিমের পরিবার ১৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ভিকটিম ও গাড়ি চালককে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। এদিকে ধানমন্ডি থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি আরো জানান, মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে রাজধানীসহ কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অপহরণকারীদের গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসে মূল ঘটনা। মূলত তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালকই সাজায় অপহরণের নাটক। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন গাড়ি চালকের দুলাভাই। তারা অনেক আগেই অপহরণের পরিকল্পনা করে রেখেছিল। চক্রটির প্রথম টার্গেট থাকে কৌশলে চালককে দলে ভিড়ানো। তাতে ব্যর্থ হলে নিজেদের এক সদস্যকেই চালক সাজিয়ে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে। নিয়োগ দিতে সফল হলে এরপরই অপহরণ শুরু করে চক্রটি। ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও গৃহকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে চালক ও গৃহকর্মীর জীবন বৃত্তান্ত ও ছবি রাখর পরামর্শ প্রদান করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।