০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরে জাগ্রত চৌরঙ্গীর নতুন নেতৃত্বে ঢাবি শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বর্নাঢ্য ইফতার আয়োজন

কা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাজীপুর মহানগরের শিক্ষার্থীদের প্রাণস্পন্দিত সংগঠন ‘গাজীপুর মহানগর স্টুডেন্ট’’স এসোসিয়েশন -জাগ্রত চৌরঙ্গী যার নবগঠিত দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আকিদ আরেফিন অভি এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন। শুক্রবার (৫ই এপ্রিল) সংগঠনটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সকল সদস্য এবং সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কাঞ্চন ও অভির নেতৃত্ত্বে আয়োজিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং জমকালো ইফতার আয়োজন।

গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরের জোড়পুকুর পাড়ে একটি আধুনিক রেস্তোরাঁয় এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, গাজীপুর উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনন্দিত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডঃ মোঃ আজমত উল্লা খান। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে চমকপ্রদ ক্রেস্ট হাতে তুলে দিয়ে নবীনদের বরণ করে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি গাজীপুরের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন আজীবন সদস্য মোঃ মোস্তফা কামাল হুমায়ুন হিমু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোঃ আতিকুল রহমান রতন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর ইস্তেকমাল দ্বীপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি আতিকুল রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডঃ রেজাউল করিম রেজা,সাবেক সহ সভাপতি মোঃ আবু হানিফ, টুটুল চৌধুরী, মঈনুল কবির হিমু, মোঃ সালাউদ্দিনসহ গাজীপুর মহানগর স্টুডেন্ট’’স এসোসিয়েশনের আরো মান্যবরগণ।

নবীনবরণ ও আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তা হিসাবে গাজীপুর উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আজমত উল্লাহ বলেন, গাজীপুর মহানগর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের কে দেখে আজও আমার মনে পড়ে সেই ১৯৭২ সালের কথা, যখন আমি সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসাবে ভর্তি হয়েছিলাম।অথচ আজকের এই চমৎকার আনন্দঘন মিলনায়তনে দাঁড়িয়ে অনুভব করছি আমার মনের বয়সে আমি এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, মনে মনে এখনো আমার সেই চিরচেনা প্রাঙ্গণে বিচরণ করি। ইস! আবার যদি ফিরে যেতে পার‍তাম সেই সোনালি বিকেলে সেই চিরায়ত মধুর ক্যান্টিনে ছাত্ররাজনীতির স্লোগানে অথবা টিএসসির চায়ের আড্ডায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়। গাজীপুরের সাবেক মেয়র অথবা গাজীপুর উন্নয়ন কৃতপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নয়, আমি তোমাদের মাঝে ফিরে আসতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে, তোমাদের অগ্রজ ও অভিভাবক হিসাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সোনালী স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে গাজীপুর মহানগরের শিক্ষার্থীরা যেন সমগ্র পৃথিবীব্যাপী মানুষের কল্যাণের নিজেকে যুক্ত করে জাগ্রত চৌরঙ্গীর সুনাম বয়ে আনতে পারে আমরা সেই লক্ষ্যে সাবেক-বর্তমান আজীবন এই বন্ধনে একসাথে এগিয়ে যাবো। শিক্ষা,সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের এই গাজীপুর মহানগরে আমরা ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের বুকে বন্ধন গড়ে দিবো।আমাদের উদ্দেশ্য নয় শুধু বড় বড় দেশি-বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করা আমাদের লক্ষ্য যেন হয় আদর্শিক মানুষ হওয়া এবং মা ও মাটির সম্মান ও গর্ব কে আরো প্রসারিত করা। আমরা চাই শুধু গাজীপুর নয়, আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে যেন একদিন বিশ্ব জয় হয়। আর এই বিশ্ব জয়ের যাত্রায় শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের অগ্রজরাও থাকবে।

নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন বলেন, আমাদের গাজীপুর মহানগর খুবই ছোট্ট একটি শহর। গাজীপুর সিটি থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। আমাদের কমিটির লক্ষ্য থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মহানগরের সকল শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা, তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাশোনা করা, সুখ-দুঃখ বিরহ মিলনে একসাথে একে অন্যের পাশে থাকা।এ ছাড়া গাজীপুর থেকে যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীরা চান্স পায়, এ ব্যাপারে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগরে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা আছে বলে জানান কাঞ্চন।
সংগঠনটির সভাপতি আকিদ আরেফিন বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাগ্রত চৌরঙ্গী শিক্ষার্থীদের প্রাণের সংগঠন। এই সংগঠনের সভাপতি হওয়া একই সঙ্গে আমার জন্য আনন্দের এবং গর্বের। অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত জাগ্রত চৌরঙ্গীর শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদে-আপদে সদা পাশে থাকতে চাই।

এসময় জাগ্রত চৌরঙ্গীর উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যগণ তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বক্তারা বলেন গাজীপুরের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া করছে, তাদেরকে আধুনিক রূপে রূপান্তরিত করতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, সকল সমস্যা নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা পাশে থাকব। আমাদের শিক্ষাজীবনে আমরা যেসব আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি তার সবই আমাদের শিক্ষার্থীরা পাবে। সুষ্ঠু সুন্দর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমরা অগ্রজ হিসাবে সদা তোমাদের পাশে আছি , থাকব। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার সাজ্জাদ বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে আধুনিক বিশ্বের সাথে পা মিলিয়ে চলতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আমাদের অনুজদের জন্য যা যা করতে হয় তার সবই আমরা করবো।সংগঠন কে আরো প্রাণবন্ত ও সতেজ করতে আমরা জাগ্রত চৌরঙ্গী সব রকম শিক্ষা সফর, শিক্ষা সেমিনার এবং গাজীপুর মহানগর কে স্মার্ট গাজীপুর বিনির্মানে আমরা সবাই একসাথে একযোগে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে নয় বরং একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে এই প্রাণের সংগঠন আমার পরিবারের চেয়েও বেশি আবেগ-অনুভূতির সঞ্চার করে আমার মনে। সময়ের পরিক্রমায় আজ হয়তো আমি সাবেক শিক্ষার্থী তবে আমার স্বপ্নগুলো সাবেক নয়, গাজীপুর মহানগরের কল্যাণে আমার অব্যক্ত কথা গুলো, অপূর্ণ স্বপ্ন গুলো তোমাদের চোখে তোমাদের হাতে পরিপূর্ণ হোক এটাই আমার চাওয়া। আমরা যা পারি নি, তোমরা তা পারবে কারণ আমরা তোমাদের সাথে আছি এবং থাকব।

নবীনদের সংবর্ধনা ও ইফতার অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসাবে ছিলেন জাগ্রত চৌরঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন। সঞ্চালনার সময় তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। গাজীপুর মহানগরে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদার্পণ করতে পারে সে জন্য গাজীপুরে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা সেমিনার আয়োজন এবং ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রদান কর্মসূচি প্রণয়ন করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। যে কোনো সামাজিক অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো জাগ্রত চৌরঙ্গীর সদা সোচ্চার এবং আমাদের বজ্র কণ্ঠস্বর থাকবে। শুধু তাই নয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে সমগ্র গাজীপুর ব্যাপি আমরা গুনীজন সম্মাননা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য মূল্যায়নের চেষ্টা স্বরুপ সমগ্র গাজীপুর আমরা একসাথে কাজ করে যাবো। আলোচনা সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা, নবীন বরণ, ও মৃত ব্যক্তিদের ও কবর বাসিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ইফতার মাহফিল টি অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়েছে।

ট্যাগ :

ভোটের দিন চলবে বাড়তি মেট্রো ট্রেন

গাজীপুরে জাগ্রত চৌরঙ্গীর নতুন নেতৃত্বে ঢাবি শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বর্নাঢ্য ইফতার আয়োজন

প্রকাশিত : ০৭:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪

কা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাজীপুর মহানগরের শিক্ষার্থীদের প্রাণস্পন্দিত সংগঠন ‘গাজীপুর মহানগর স্টুডেন্ট’’স এসোসিয়েশন -জাগ্রত চৌরঙ্গী যার নবগঠিত দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আকিদ আরেফিন অভি এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন। শুক্রবার (৫ই এপ্রিল) সংগঠনটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সকল সদস্য এবং সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কাঞ্চন ও অভির নেতৃত্ত্বে আয়োজিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং জমকালো ইফতার আয়োজন।

গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরের জোড়পুকুর পাড়ে একটি আধুনিক রেস্তোরাঁয় এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, গাজীপুর উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনন্দিত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডঃ মোঃ আজমত উল্লা খান। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে চমকপ্রদ ক্রেস্ট হাতে তুলে দিয়ে নবীনদের বরণ করে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি গাজীপুরের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন আজীবন সদস্য মোঃ মোস্তফা কামাল হুমায়ুন হিমু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোঃ আতিকুল রহমান রতন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর ইস্তেকমাল দ্বীপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি আতিকুল রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডঃ রেজাউল করিম রেজা,সাবেক সহ সভাপতি মোঃ আবু হানিফ, টুটুল চৌধুরী, মঈনুল কবির হিমু, মোঃ সালাউদ্দিনসহ গাজীপুর মহানগর স্টুডেন্ট’’স এসোসিয়েশনের আরো মান্যবরগণ।

নবীনবরণ ও আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তা হিসাবে গাজীপুর উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আজমত উল্লাহ বলেন, গাজীপুর মহানগর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের কে দেখে আজও আমার মনে পড়ে সেই ১৯৭২ সালের কথা, যখন আমি সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসাবে ভর্তি হয়েছিলাম।অথচ আজকের এই চমৎকার আনন্দঘন মিলনায়তনে দাঁড়িয়ে অনুভব করছি আমার মনের বয়সে আমি এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, মনে মনে এখনো আমার সেই চিরচেনা প্রাঙ্গণে বিচরণ করি। ইস! আবার যদি ফিরে যেতে পার‍তাম সেই সোনালি বিকেলে সেই চিরায়ত মধুর ক্যান্টিনে ছাত্ররাজনীতির স্লোগানে অথবা টিএসসির চায়ের আড্ডায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়। গাজীপুরের সাবেক মেয়র অথবা গাজীপুর উন্নয়ন কৃতপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নয়, আমি তোমাদের মাঝে ফিরে আসতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে, তোমাদের অগ্রজ ও অভিভাবক হিসাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সোনালী স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে গাজীপুর মহানগরের শিক্ষার্থীরা যেন সমগ্র পৃথিবীব্যাপী মানুষের কল্যাণের নিজেকে যুক্ত করে জাগ্রত চৌরঙ্গীর সুনাম বয়ে আনতে পারে আমরা সেই লক্ষ্যে সাবেক-বর্তমান আজীবন এই বন্ধনে একসাথে এগিয়ে যাবো। শিক্ষা,সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের এই গাজীপুর মহানগরে আমরা ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের বুকে বন্ধন গড়ে দিবো।আমাদের উদ্দেশ্য নয় শুধু বড় বড় দেশি-বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করা আমাদের লক্ষ্য যেন হয় আদর্শিক মানুষ হওয়া এবং মা ও মাটির সম্মান ও গর্ব কে আরো প্রসারিত করা। আমরা চাই শুধু গাজীপুর নয়, আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে যেন একদিন বিশ্ব জয় হয়। আর এই বিশ্ব জয়ের যাত্রায় শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের অগ্রজরাও থাকবে।

নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন বলেন, আমাদের গাজীপুর মহানগর খুবই ছোট্ট একটি শহর। গাজীপুর সিটি থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। আমাদের কমিটির লক্ষ্য থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মহানগরের সকল শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা, তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাশোনা করা, সুখ-দুঃখ বিরহ মিলনে একসাথে একে অন্যের পাশে থাকা।এ ছাড়া গাজীপুর থেকে যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীরা চান্স পায়, এ ব্যাপারে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগরে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা আছে বলে জানান কাঞ্চন।
সংগঠনটির সভাপতি আকিদ আরেফিন বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাগ্রত চৌরঙ্গী শিক্ষার্থীদের প্রাণের সংগঠন। এই সংগঠনের সভাপতি হওয়া একই সঙ্গে আমার জন্য আনন্দের এবং গর্বের। অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত জাগ্রত চৌরঙ্গীর শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদে-আপদে সদা পাশে থাকতে চাই।

এসময় জাগ্রত চৌরঙ্গীর উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যগণ তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বক্তারা বলেন গাজীপুরের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া করছে, তাদেরকে আধুনিক রূপে রূপান্তরিত করতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, সকল সমস্যা নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা পাশে থাকব। আমাদের শিক্ষাজীবনে আমরা যেসব আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি তার সবই আমাদের শিক্ষার্থীরা পাবে। সুষ্ঠু সুন্দর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমরা অগ্রজ হিসাবে সদা তোমাদের পাশে আছি , থাকব। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার সাজ্জাদ বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে আধুনিক বিশ্বের সাথে পা মিলিয়ে চলতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আমাদের অনুজদের জন্য যা যা করতে হয় তার সবই আমরা করবো।সংগঠন কে আরো প্রাণবন্ত ও সতেজ করতে আমরা জাগ্রত চৌরঙ্গী সব রকম শিক্ষা সফর, শিক্ষা সেমিনার এবং গাজীপুর মহানগর কে স্মার্ট গাজীপুর বিনির্মানে আমরা সবাই একসাথে একযোগে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে নয় বরং একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে এই প্রাণের সংগঠন আমার পরিবারের চেয়েও বেশি আবেগ-অনুভূতির সঞ্চার করে আমার মনে। সময়ের পরিক্রমায় আজ হয়তো আমি সাবেক শিক্ষার্থী তবে আমার স্বপ্নগুলো সাবেক নয়, গাজীপুর মহানগরের কল্যাণে আমার অব্যক্ত কথা গুলো, অপূর্ণ স্বপ্ন গুলো তোমাদের চোখে তোমাদের হাতে পরিপূর্ণ হোক এটাই আমার চাওয়া। আমরা যা পারি নি, তোমরা তা পারবে কারণ আমরা তোমাদের সাথে আছি এবং থাকব।

নবীনদের সংবর্ধনা ও ইফতার অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসাবে ছিলেন জাগ্রত চৌরঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঞ্চন। সঞ্চালনার সময় তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। গাজীপুর মহানগরে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদার্পণ করতে পারে সে জন্য গাজীপুরে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা সেমিনার আয়োজন এবং ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রদান কর্মসূচি প্রণয়ন করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। যে কোনো সামাজিক অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো জাগ্রত চৌরঙ্গীর সদা সোচ্চার এবং আমাদের বজ্র কণ্ঠস্বর থাকবে। শুধু তাই নয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে সমগ্র গাজীপুর ব্যাপি আমরা গুনীজন সম্মাননা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য মূল্যায়নের চেষ্টা স্বরুপ সমগ্র গাজীপুর আমরা একসাথে কাজ করে যাবো। আলোচনা সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা, নবীন বরণ, ও মৃত ব্যক্তিদের ও কবর বাসিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ইফতার মাহফিল টি অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়েছে।