সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার কারণে মাইকের দোকানে ভিড় বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়েও শীতকালে মাইকের চাহিদা থাকে, তবে এবার নির্বাচনের প্রচারণার কারণে এই চাহিদা অনেক বেশি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার জন্য মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতীক হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেড়ামারায় প্রার্থীদের প্রচারণার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সাথে সম্পৃক্ত মাইকের দোকানগুলোর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য ব্যস্ততা লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত প্রচারবিধি মাথায় রেখে প্রার্থীরা এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে সক্রিয় এই ব্যস্ততায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভেড়ামারা শহরের এলাকাগুলোতে মাইকের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তারা নির্বাচনী প্রচার কাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। মাইক ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য প্রার্থীদের লোকজন মাইক ভাড়া নিতে আসছেন।
নির্বাচনী মিছিল-সভা এবং অন্যান্য প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে মাইকের উপরে ভরসা সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনের সময় আসলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় মাইক ভাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়। বিভিন্ন দোকানে প্রচুর অর্ডার আসতে শুরু করে। নির্বাচনের সাথে সাথে মাইকের সংখ্যা বেড়ে যায়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত মাইক ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছেন।
দোকানের ভেতরে ঢুকে দেখা যাচ্ছে যে ভাড়া দেওয়ার জন্য মাইকগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে লোকেরা অটোরিকশা, ভ্যাংগাড়ি এবং সিএনজিতে মাইক লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। এসব মাইক ব্যবহার করে প্রার্থীদের গুণগান, স্লোগান এবং গান বাজানো হবে প্রচারণার অংশ হিসেবে। তবে এবারের নির্বাচনে বিধির কারণে একটি থানায় একজন প্রার্থী একাধিক মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না।
শহরের মাইক প্রচার রেকর্ডিং ব্যাবসায়ীরা বলেন, শীতকালে এবার নির্বাচনী আমেজ যুক্ত হয়েছে। প্রচারণা শুরু হওয়ায় মাইক ও সাউন্ডের চাহিদা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দিয়ে থাকেন। মাইক ব্যবসায়ীরা জানান, এক দিনের জন্য একটি সিএনজি, ইজিবাইক অথবা অটোরিকশাসহ মাইক ভাড়ার মূল্য ১২০০ টাকা। এর মধ্যে গাড়ি ভাড়া ৭০০ টাকা এবং মাইক ভাড়া ৫০০ টাকা। অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একইভাবে মাইক ভাড়া দিচ্ছেন।
নির্বাচনের সময়ে মাইকে গান-বাজনা করে পুরো শহর ও গ্রামে ঘুরে বেড়ানো হয়। মানুষ এ বিষয়টিকে বিরক্তিকর মনে না করে, বরং উপভোগ করে থাকেন। নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং শুরু হলে আশপাশের শিশুরা ভিড় করে। মাইকের সুরে তাল মিলিয়ে নাচতে শুরু করে ছোট ছোট বাচ্চাদের দল এবং ছোট ছোট পোস্টার নেওয়ার জন্য ভীড় করে এ যেন এক অন্যরকম আনন্দ।
ডিএস./




















