জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, ন্যায্য মজুরি, ৯ম পে-স্কেল প্রদান এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তার দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। দাবি আদায়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনের পাশে এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে রেলওয়ের বিভিন্ন শাখার ওয়েম্যান, গেটম্যান, স্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীসহ অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোঃ আবু তালেব (ওয়েম্যান), মোঃ মাসুদ রানা (ওয়েম্যান), মোঃ নুরুন্নবী ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার) এবং মোঃ হোসনে মোবারক।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও আজও তারা ন্যায্য বেতন, স্থায়ীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও উদাসীনতা শ্রমিকদের চরম হতাশার মধ্যে ফেলেছে।
মোঃ আবু তালেব বলেন, “ওয়েম্যানদের কাজ সরাসরি রেললাইনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। সামান্য ভুলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পরও আমরা অস্থায়ী পরিচয়ে বছরের পর বছর কাজ করছি। ন্যায্য মজুরি ও স্থায়ীকরণ আমাদের অধিকার—দয়া নয়।”
তিনি অবিলম্বে সকল যোগ্য অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ী করার পাশাপাশি ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আমাদের বেতন দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর কাজ করেও আমরা একই জায়গায় আটকে আছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে আমাদের আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোঃ নুরুন্নবী ইসলাম বলেন, রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত। এই খাতের কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে এর সরাসরি প্রভাব সেবার মান ও নিরাপত্তার ওপর পড়বে। তিনি বলেন, “কর্মচারীরা ভালো থাকলে সেবাও ভালো হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া।”
অপরদিকে মোঃ হোসনে মোবারক বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা সংঘাত চাই না। সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিয়েও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং রেলওয়ের অস্থায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
ডিএস



















