১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দ্বিতীয় দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দ্বিতীয় দিনের মত চলছে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি। একই সাথে বাকৃবির কর্মচারীরাও অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করছে, যার ফলে অনেকটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার (২রা জুলাই) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের করিডোরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। সকল ধরনের ক্লাস পরীক্ষা এবং কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন নি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষকেরা তাদের বক্তব্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বাকৃবির কর্মচারীরাও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং অর্ধদিবস কোনো দাপ্তরিক কাজে যোগ দেন নি।

বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তানভীর রহমানের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে প্রায় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বাকৃবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, বাকৃবির কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের সাথে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের জন্য। ১ জুলাইয়ের পর থেকে যারা চাকরিতে যোগদান করবে কেবল তারাই প্রত্যয় স্কিমের আওতায় আসবে, তাহলে বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন তাদের আন্দোলনে যাবার একমাত্র কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু নিজেদের কথা ভাবে না, তারা দেশের কথা ভাবে, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভাবে, তারা চায় দেশ এগিয়ে যাক। প্রত্যয় স্কিমের এই বৈষম্যের জন্য মেধাবীরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাবে না। আমাদের এই দাবিসমূহ মেনে নেয়া না হলে, আন্দোলন চলতেই থাকবে।

বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মসূচি পালন করছি। আমরা ক্লাস পরীক্ষা কিছুই নিচ্ছি না। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শিক্ষার্থীদের ক্ষতিও আমরা পুষিয়ে দিবো। প্রয়োজন হলে অনলাইনে ক্লাস নিয়ে এবং বন্ধের দিনে ক্লাস নিয়ে আমরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিবো।

উল্লেখ্য, বিগত ৩০ জুন তারিখে বাকৃবির শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যান এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দ্বিতীয় দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা

প্রকাশিত : ০৫:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দ্বিতীয় দিনের মত চলছে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি। একই সাথে বাকৃবির কর্মচারীরাও অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করছে, যার ফলে অনেকটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার (২রা জুলাই) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের করিডোরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। সকল ধরনের ক্লাস পরীক্ষা এবং কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন নি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষকেরা তাদের বক্তব্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বাকৃবির কর্মচারীরাও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং অর্ধদিবস কোনো দাপ্তরিক কাজে যোগ দেন নি।

বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তানভীর রহমানের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে প্রায় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বাকৃবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, বাকৃবির কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের সাথে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের জন্য। ১ জুলাইয়ের পর থেকে যারা চাকরিতে যোগদান করবে কেবল তারাই প্রত্যয় স্কিমের আওতায় আসবে, তাহলে বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন তাদের আন্দোলনে যাবার একমাত্র কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু নিজেদের কথা ভাবে না, তারা দেশের কথা ভাবে, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভাবে, তারা চায় দেশ এগিয়ে যাক। প্রত্যয় স্কিমের এই বৈষম্যের জন্য মেধাবীরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাবে না। আমাদের এই দাবিসমূহ মেনে নেয়া না হলে, আন্দোলন চলতেই থাকবে।

বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মসূচি পালন করছি। আমরা ক্লাস পরীক্ষা কিছুই নিচ্ছি না। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শিক্ষার্থীদের ক্ষতিও আমরা পুষিয়ে দিবো। প্রয়োজন হলে অনলাইনে ক্লাস নিয়ে এবং বন্ধের দিনে ক্লাস নিয়ে আমরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিবো।

উল্লেখ্য, বিগত ৩০ জুন তারিখে বাকৃবির শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যান এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস