০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
কোটা সংস্কার আন্দোলন

চতুর্থ দিনের মত রেলপথ অবরোধ বাকৃবি শিক্ষার্থীদের

দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মত ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছে।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী “তিস্তা এক্সপ্রেস” ট্রেনটি অবরোধ করেছে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা যা বাকৃবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জব্বারের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের রায় চার সপ্তাহ স্থগিত করার প্রতিবাদে দুপুর দেড়টায় বাকৃবির শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাকৃবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মো. ইরান মিয়া। তিনি বলেন, আজ ছাত্রসমাজ এক দফা এক দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন করছে। আমরা ছাত্র সমাজ কোন ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত মানি না মানবো না। তিনি আরো বলেন, আমাদের এক দফা দাবিটি হলো- সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ) এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। মহান জাতীয় সংসদের কাছে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, মহান জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার করে এটিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এনে বিল আকারে উপস্থাপন করে আইনের প্রণয়ন করতে হবে। সেই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার কথাও জানান তিনি।

আন্দোলনে মাশারাত মালিহা বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও যদি কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রদান করতে হয় তা জাতি হিসেবে আমাদের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশটাকে ভালোবাসেন। মা যেমন কখনো তার সন্তানদের মধ্যে বিভেদ করতে পারে না, তেমনি মুক্তিযোদ্ধারাও কখনো চাইবেন না যে তার বাংলা মায়ের সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হোক।

এসময় শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার সংক্রান্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে মেধাবীদের বঞ্চিত করলে এদেশের ছাত্রসমাজ কখনো মেনে নিবে না।

উল্লেখ্য, বুধবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগে শুনানি শেষে সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কোটা সংস্কার আন্দোলন

চতুর্থ দিনের মত রেলপথ অবরোধ বাকৃবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত : ০৪:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মত ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছে।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী “তিস্তা এক্সপ্রেস” ট্রেনটি অবরোধ করেছে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা যা বাকৃবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জব্বারের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের রায় চার সপ্তাহ স্থগিত করার প্রতিবাদে দুপুর দেড়টায় বাকৃবির শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাকৃবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মো. ইরান মিয়া। তিনি বলেন, আজ ছাত্রসমাজ এক দফা এক দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন করছে। আমরা ছাত্র সমাজ কোন ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত মানি না মানবো না। তিনি আরো বলেন, আমাদের এক দফা দাবিটি হলো- সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ) এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। মহান জাতীয় সংসদের কাছে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, মহান জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার করে এটিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এনে বিল আকারে উপস্থাপন করে আইনের প্রণয়ন করতে হবে। সেই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার কথাও জানান তিনি।

আন্দোলনে মাশারাত মালিহা বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও যদি কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রদান করতে হয় তা জাতি হিসেবে আমাদের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশটাকে ভালোবাসেন। মা যেমন কখনো তার সন্তানদের মধ্যে বিভেদ করতে পারে না, তেমনি মুক্তিযোদ্ধারাও কখনো চাইবেন না যে তার বাংলা মায়ের সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হোক।

এসময় শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার সংক্রান্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে মেধাবীদের বঞ্চিত করলে এদেশের ছাত্রসমাজ কখনো মেনে নিবে না।

উল্লেখ্য, বুধবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগে শুনানি শেষে সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস