০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আম চাষে চমক দেখালেন সাবেক সেনা সদস্য

  • অঞ্জন রায়
  • প্রকাশিত : ১২:৩২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
  • 99
হবিগঞ্জে ধান চাষের জমি ভরাট করে সেখানে আম চাষ করে কৃষি বিভাগকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। যে জমি থেকে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আয় হতো, সেখানে প্রথম বছরেই অন্তত দুই লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি।

হবিগঞ্জ জেলা সদরের নিজামপুর ইউনিয়নের কালারচক গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন। ২০০৩ সালে অবসরে যান তিনি।অবসরের দীর্ঘ সময় পর তিনি ভাবলেন কিছু একটা করা দরকার। এমন চিন্তা থেকেই চার বছর আগে ১০৯ শতক জমিতে আম চাষ শুরু করেন এই সেনা সদস্য।

 

ইসমাইল হোসেনের আমবাগানে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, বারি-১১, বারি-১২, থাই কাটিমন, হিমসাগর, কিউজিআই, গৌড়মতিসহ নানা প্রজাতির ৩৫০টি গাছ রয়েছে। রাজশাহী, কুমিল্লা ও স্থানীয় নার্সারি থেকে তিনি আমের চারা সংগ্রহ করেছেন।নিবিড় পরিচর্যায় সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমের বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় সাড়া ফেলেছেন ইসমাঈল।

 

সরেজমিন গিয়ে বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির আম। কাঁচাপাকা আমে ভরে রয়েছে বাগান। কোনোটির রং হালকা খয়েরি, কোনোটি হালকা হলুদ আবার কোনোটি সবুজ রঙের আম।প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখতে ও আম কিনতে আসে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন।

 

ইসমাইলের অঙ্গীকার শতভাগ বিষমুক্ত, রসালো ও সুস্বাদু আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার কলেজপড়ুয়া ছেলে খালেদ হাসান আরেফিন বাবাকে সঙ্গ দেন বাগানের কাজে। আমের পাশাপাশি বাগানে রয়েছে লিচু, জাম, কলা, পেয়ারা, আমড়া, সফেদা, ডালিমসহ অন্যান্য ফলের সংমিশ্রণ। আমগাছের নিচে লাগানো হয়েছে ধনিয়ার চারা, যা থেকে বাড়তি আয় হয়।

কিভাবে বাগান করার পরিকল্পনা মাথায় এলো-এমন প্রশ্নের জবাবে ঈসমাইল জানান, চাকরি শেষে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময়টা কিভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা ভাবছিলেন তিনি। একদিন ইউটিউবে আমবাগান দেখে সেটার প্রতি আগ্রহ জাগে তার। পরে নিজের ধানের অন্তত ১০৯ শতাংশ জমিতে আমবাগান গড়ে তোলেন।

ইসমাইল বলেন, ‘অনেকে আম নেওয়ার জন্য আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখে। আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না।  তিনি জানান, ৮০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি আম বিক্রি করেছেন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ইসমাইলের বাগানের আম বিষমুক্ত। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাগান পরিচর্যা করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন হবিগঞ্জের মাটি আম চাষের উপযোগী। এ আম বাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই আম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হামে আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবিহীন শিশু

আম চাষে চমক দেখালেন সাবেক সেনা সদস্য

প্রকাশিত : ১২:৩২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
হবিগঞ্জে ধান চাষের জমি ভরাট করে সেখানে আম চাষ করে কৃষি বিভাগকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। যে জমি থেকে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আয় হতো, সেখানে প্রথম বছরেই অন্তত দুই লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি।

হবিগঞ্জ জেলা সদরের নিজামপুর ইউনিয়নের কালারচক গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন। ২০০৩ সালে অবসরে যান তিনি।অবসরের দীর্ঘ সময় পর তিনি ভাবলেন কিছু একটা করা দরকার। এমন চিন্তা থেকেই চার বছর আগে ১০৯ শতক জমিতে আম চাষ শুরু করেন এই সেনা সদস্য।

 

ইসমাইল হোসেনের আমবাগানে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, বারি-১১, বারি-১২, থাই কাটিমন, হিমসাগর, কিউজিআই, গৌড়মতিসহ নানা প্রজাতির ৩৫০টি গাছ রয়েছে। রাজশাহী, কুমিল্লা ও স্থানীয় নার্সারি থেকে তিনি আমের চারা সংগ্রহ করেছেন।নিবিড় পরিচর্যায় সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমের বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় সাড়া ফেলেছেন ইসমাঈল।

 

সরেজমিন গিয়ে বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির আম। কাঁচাপাকা আমে ভরে রয়েছে বাগান। কোনোটির রং হালকা খয়েরি, কোনোটি হালকা হলুদ আবার কোনোটি সবুজ রঙের আম।প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখতে ও আম কিনতে আসে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন।

 

ইসমাইলের অঙ্গীকার শতভাগ বিষমুক্ত, রসালো ও সুস্বাদু আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার কলেজপড়ুয়া ছেলে খালেদ হাসান আরেফিন বাবাকে সঙ্গ দেন বাগানের কাজে। আমের পাশাপাশি বাগানে রয়েছে লিচু, জাম, কলা, পেয়ারা, আমড়া, সফেদা, ডালিমসহ অন্যান্য ফলের সংমিশ্রণ। আমগাছের নিচে লাগানো হয়েছে ধনিয়ার চারা, যা থেকে বাড়তি আয় হয়।

কিভাবে বাগান করার পরিকল্পনা মাথায় এলো-এমন প্রশ্নের জবাবে ঈসমাইল জানান, চাকরি শেষে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময়টা কিভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা ভাবছিলেন তিনি। একদিন ইউটিউবে আমবাগান দেখে সেটার প্রতি আগ্রহ জাগে তার। পরে নিজের ধানের অন্তত ১০৯ শতাংশ জমিতে আমবাগান গড়ে তোলেন।

ইসমাইল বলেন, ‘অনেকে আম নেওয়ার জন্য আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখে। আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না।  তিনি জানান, ৮০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি আম বিক্রি করেছেন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ইসমাইলের বাগানের আম বিষমুক্ত। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাগান পরিচর্যা করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন হবিগঞ্জের মাটি আম চাষের উপযোগী। এ আম বাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই আম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।