০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বহুল আলোচিত চাঁদপুরের সাত খুনের ঘটনায় জড়িতর আকাশ মন্ডল’কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাকাল ২৬ মার্চ ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একাধিক আসামী করে জনমতে আস্থা অর্জন করে আসছে।

তারাই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ চাঁদপুরে হাইমচরের মাঝের চর এলাকায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭ জন হত্যা ও ১ জন গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৭, তারিখঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রæত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‍্যাব-১১ এবং র‍্যাব-৬ এর আভিযানিক দল বাগেরহাটের চিতলমারি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত আকাশ মন্ডল ইরফান (২৬), পিতাঃ জগদীশ মন্ডল, ফকিরহাট, বাগেরহাটকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আকাশ জানায়, সে প্রায় ৮ মাস যাবত এমভি-আল বাখেরা জাহাজে চাকুরি করে আসছে। উক্ত জাহাজের কর্মচারীরা ছুটি ও বেতন-বোনাস সময় মতো পেতো না এবং বিভিন্ন ধরনের বিল কর্মচারীদের না দিয়ে জাহাজের মাস্টার একাই ভোগ করতো বলে গ্রেফতারকৃত আকাশ জানায়। সে আরো বলে যে, জাহাজের মাস্টার সকল কর্মচারীর উপর বিনা কারণে রাগারাগি করতো এবং কারোর উপর নাখোশ হলে তাকে কোন বিচার বিবেচনা ছাড়াই জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতো এমনকি তাদের বকেয়া বেতনও দিতো না।

এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ জাহাজের সবাইকে প্রতিবাদ করতে বললে কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতো না। মাস্টারের এহেন কার্যকলাপের দরুন গ্রেফতারকৃত আকাশের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এই ক্ষোভ থেকে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আনুমানিক ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ গ্রেফতারকৃত আকাশ ০৩ পাতা ঘুমের ঔষধ ক্রয় করে নিজের কাছে রেখে দেয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সকাল ৮. ঘটিকার সময় ভিকটিমগণ ও গ্রেফতারকৃত আকাশ এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম হতে বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আকাশ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহাজে রাতের খাবারের তরকারীর মধ্যে ৩ পাতা (৩০টি) ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেয়। শুধুমাত্র সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ ছাড়া সবাই রাতের খাবার খেয়ে তাদের নিজস্ব কেবিনে ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত আনুমানিক ০২.০০ ঘটিকায় সাহারা বিকন এলাকায় আরও ৮-১০টি জাহাজের সাথে সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ তাদের জাহাজটি নোঙ্গর করে। পরবর্তীতে সুকানি জুয়েল রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে গ্রেফতারকৃত আকাশ তার পরিকল্পনা মোতাবেক আনুমানিক রাত ০৩.৩০ ঘটিকায় প্রথমে মাস্টারকে জাহাজে থাকা চাইনিজ কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

পরবর্তীতে সে চিন্তা ভাবনা করে যে, জাহাজে থাকা বাকিরা জেনে গেলে সে আইন-শঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধরা পড়বে বিধায় একে একে সবাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আনুমানিক ভোর ০৫.৩০ ঘটিকায় সকল জাহাজ তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে সে নিজে জাহাজ চালাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে মাঝিরচর নামক এলাকায় জাহাজটি আটকা পড়লে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্রলারে বাজার করার কথা বলে ট্রলারে উঠে পালিয়ে যায়। সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে বাগেরহাটে চিতলমারি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।

উক্ত এমভি-আল বাখেরা জাহাজে খুন হওয়া ৭ জন ব্যক্তি হলো,কিবরিয়া (৫৬)সবুজ (২৭)সজীবুল ইসলাম (২৯)মাজেদুল ইসলাম মজিব (১৬)আমিনুর মুন্সি (৪২)সালাউদ্দিন মিয়া (৪১)রানা এবং গুরুতর জখম ব্যক্তি হলো, জুয়েল।গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

বহুল আলোচিত চাঁদপুরের সাত খুনের ঘটনায় জড়িতর আকাশ মন্ডল’কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

প্রকাশিত : ০৩:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাকাল ২৬ মার্চ ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একাধিক আসামী করে জনমতে আস্থা অর্জন করে আসছে।

তারাই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ চাঁদপুরে হাইমচরের মাঝের চর এলাকায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭ জন হত্যা ও ১ জন গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় এমভি-আল বাখেরা জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৭, তারিখঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রæত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‍্যাব-১১ এবং র‍্যাব-৬ এর আভিযানিক দল বাগেরহাটের চিতলমারি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত আকাশ মন্ডল ইরফান (২৬), পিতাঃ জগদীশ মন্ডল, ফকিরহাট, বাগেরহাটকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আকাশ জানায়, সে প্রায় ৮ মাস যাবত এমভি-আল বাখেরা জাহাজে চাকুরি করে আসছে। উক্ত জাহাজের কর্মচারীরা ছুটি ও বেতন-বোনাস সময় মতো পেতো না এবং বিভিন্ন ধরনের বিল কর্মচারীদের না দিয়ে জাহাজের মাস্টার একাই ভোগ করতো বলে গ্রেফতারকৃত আকাশ জানায়। সে আরো বলে যে, জাহাজের মাস্টার সকল কর্মচারীর উপর বিনা কারণে রাগারাগি করতো এবং কারোর উপর নাখোশ হলে তাকে কোন বিচার বিবেচনা ছাড়াই জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতো এমনকি তাদের বকেয়া বেতনও দিতো না।

এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ জাহাজের সবাইকে প্রতিবাদ করতে বললে কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতো না। মাস্টারের এহেন কার্যকলাপের দরুন গ্রেফতারকৃত আকাশের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এই ক্ষোভ থেকে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আনুমানিক ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ গ্রেফতারকৃত আকাশ ০৩ পাতা ঘুমের ঔষধ ক্রয় করে নিজের কাছে রেখে দেয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সকাল ৮. ঘটিকার সময় ভিকটিমগণ ও গ্রেফতারকৃত আকাশ এমভি-আল বাখেরা জাহাজে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম হতে বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আকাশ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহাজে রাতের খাবারের তরকারীর মধ্যে ৩ পাতা (৩০টি) ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেয়। শুধুমাত্র সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ ছাড়া সবাই রাতের খাবার খেয়ে তাদের নিজস্ব কেবিনে ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত আনুমানিক ০২.০০ ঘটিকায় সাহারা বিকন এলাকায় আরও ৮-১০টি জাহাজের সাথে সুকানি জুয়েল এবং গ্রেফতারকৃত আকাশ তাদের জাহাজটি নোঙ্গর করে। পরবর্তীতে সুকানি জুয়েল রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে গ্রেফতারকৃত আকাশ তার পরিকল্পনা মোতাবেক আনুমানিক রাত ০৩.৩০ ঘটিকায় প্রথমে মাস্টারকে জাহাজে থাকা চাইনিজ কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

পরবর্তীতে সে চিন্তা ভাবনা করে যে, জাহাজে থাকা বাকিরা জেনে গেলে সে আইন-শঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধরা পড়বে বিধায় একে একে সবাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আনুমানিক ভোর ০৫.৩০ ঘটিকায় সকল জাহাজ তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে সে নিজে জাহাজ চালাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে মাঝিরচর নামক এলাকায় জাহাজটি আটকা পড়লে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্রলারে বাজার করার কথা বলে ট্রলারে উঠে পালিয়ে যায়। সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে বাগেরহাটে চিতলমারি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।

উক্ত এমভি-আল বাখেরা জাহাজে খুন হওয়া ৭ জন ব্যক্তি হলো,কিবরিয়া (৫৬)সবুজ (২৭)সজীবুল ইসলাম (২৯)মাজেদুল ইসলাম মজিব (১৬)আমিনুর মুন্সি (৪২)সালাউদ্দিন মিয়া (৪১)রানা এবং গুরুতর জখম ব্যক্তি হলো, জুয়েল।গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস