ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে হাজী মো. রুহুল আমিন( ৮১) বছর বয়সী এক বৃদ্ধের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের পায়তারা করার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ফারুক মাস্টার গংদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (১২ জানুয়ারী) বেলা ১২ টার দিকে চরফ্যাশন রির্পোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ রুহুল আমিন।
বৃদ্ধ রুহুল আমিন চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ছাদেক হাওলাদারের ছেল।
অভিযুক্তরা হলেন, একই ওয়ার্ডে বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে ফারুক মাস্টার, এবং তার দুই জামাতা চরফ্যাশন পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. শিমুল মাস্টার ও মো. লোকমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন জানান,
দীর্ঘ ৩৭ বছর প্রবাসের অর্জিত আয়ের টাকা দিয়ে উপজেলার জিন্নাগড় মৌজায় ১ একর ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখলে থেকে বসবাস করে আসছি। ওই জমি কেনার কয়েক বছর পর আমার প্রতিবেশী ফারুক মাস্টার ও তার দুই জামাতা মো. লোকমান হোসেন, শিমুল মাস্টার আমার ভোগদখলীয় জমি দখলের চেস্টা করেন। তারা আমার কেনা ও রেকর্ডীয় জমি থেকে রেকর্ড নেওয়ার চেস্টায় ব্যর্থ হয়ে আমার ভোগদখলীয় জমি দখল করতে চায়। আমি বাধা দিলে আমাকে কয়েকবার মারধর করেন। আমার নামে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য সালিশগণ চেষ্টা করলেও ফারুক মাস্টার ও তার মেয়ের জামাই শিমুল মাস্টারের অসহযোগীতার কারণে সমাধান হয়নি।
তিনি আর ও জানান, সম্প্রতি তারা আমার একটি পরিত্যক্ত ঘর ভেঙ্গে তা দখলে নেয় এবং ভিটাছাড়া করতে হত্যার হুমকি দেয়। আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত। ফারুক মাস্টারের মেয়ের জামাই শিমুল বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ছত্রছায়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। গত ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সম্প্রতি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব দেখিয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে আমার ঘর ভেঙ্গে ভিটাসহ অবশিষ্ট জায়গা দখলের পায়তারা করছে ফারুক মাস্টার গংরা। আমি ৮১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ, আমার কোন ছেলে নাই। ৩০ বছর ধরে ফারুক মাস্টার গংরা আমার উপর হামলা-মামলা করে আসছেন। আমি তাদের হামলা-মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ হাজী মো. রুহুল আমিন।
অভিযুক্ত ফারুক মাস্টারকে পাওয়া যায়নি। তবে তার জামাতা চরফ্যাশন পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শিমুল মাস্টার জানান, আমাদের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ হাজী রুহুল আমিনের আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতে ভোগদখলে রয়েছি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ওই জমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধটি আদালত বা স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করতে পারে৷ এটি পুলিশের কাজ না। তারপরও ভুক্তভোগী বৃদ্ধ হাজী রুহুল আমিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিএস//




















