০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিলমারীতে থামছেনা অবৈধ বালু উত্তোলনের উৎসব ভোগান্তির শিকার এলাকার মানুষ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কিছুতেই থামছেনা ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উৎসব। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বাল্কহেডে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করে নদের ডান তীর ঘেষে
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জামতলা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পয়েন্টের মাধ্যমে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে এক শ্রেণীর
অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকাবাসীর কথায় তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যাচ্ছে বালুর ব্যবসা। এতে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়াসহ হুমকির মুখে ঢলে পড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অবকাঠামো, আবাদী জমি এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি।ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার মানুষ।অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গত মৌসুমে দুটি চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবী। দেখে না দেখার ভান করে চলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে,কুড়িগ্রর চিলমারী উপজেলাধীন রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর থেকে রমনা
ইউনিয়নের ভরট গ্রাম(জামতলা) পর্যন্ত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে ওই এলাকাসমুহে কয়েক দফায় ব্লক পিচিং এ ধসও দেখা
দিয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে তা মেরামত করে।নদী ভাঙন রোধ এবং ডান তীর রক্ষা প্রকল্প অক্ষত রাখতে ওই এলাকা সমুহে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ
করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বর্তমানে রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া জামেরতল হতে
রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল বাজার থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পয়েন্টে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মহোৎসব করছে এলাকার প্রভাবশালীরা।প্রভাব খাটিয়ে এলাকাসীর কথায় কর্ণপাত না করে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি
বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এলাকাবাসী ওই এলাকায় বালু উত্তোলন নিষেধ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এতে একদিকে হুমকির মুখে পড়েছে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পসহ হাজার হাজার একর আবাদী জমি ও জনবসতি। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত বাধ রাস্তাসহ এলাকার রাস্তা-ঘাট বালু বহনকারী গাড়ীর চাকায় ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের এলাকার নিশ্চিত ক্ষতি দেখেও প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা অসহায় এলাকাবাসী। মুখ খুলে কোথাও কথা বললেই হুমকি আসছে বলেও জানান স্থানীয়রা। ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গত মৌসুমে দুটি চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবী। দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ভাবে বালু বিক্রির মহোৎসব চললেও অজ্ঞাত কারনে নিরব ভুমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়  রাণীগঞ্জ জকরিটারী এলাকায় গেলে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরের ব্লকপিচিং ঘেষে ৩টি বাল্কহেড থেকে বালু নামানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।পাশ্বে বালুর পাহাড় তৈরী করা হয়েছে এবং সরকারী রাস্তায় স্থায়ীভাবে ইটদিয়ে বালুর স্থান নির্মান করা হচ্ছে। কাচকোল বাজার থেকে ফকিরেরহাট এলাকা পর্যন্ত ৭-৮টিসহ রমনা ইউনিয়নের জামতলা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বালুর পয়েন্ট দেখা যায়।এসময় কালিরকুড়া এলাকায় ২টি পয়েন্টের সামনে জরুরী ভিত্তিতে ডান তীরের ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য রাখা ব্লক দিয়ে বালুর পয়েন্টে যাওয়ার জন্য তৈরী করা রাস্তা লক্ষ করা যায়। এসময় ওই এলাকার দুলাল মিয়া,জহির আলী,দিনেশ চন্দ্র,আবু তালেব,জাফর আলী,ফিরোজ,আসাদ, মজনু,আফজাল হোসেনসহ অনেকে জানান, সামনের জমিগুলোতে চর সৃষ্টি
হলে আমাদের এলাকায় ভাঙ্গনের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও ডান তীরে সৃষ্ট চর থেকে আমরা নানান সুবিধা পেয়ে থাকি।অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে চলতি মৌসুমে দুটি
চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে।বর্তমানে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে চর তো দুরের কথা ডান তীর রক্ষা প্রকল্প যে কোন সময় ছুটে যেতে পারে। এছাড়াও
সারাদিন বালু পরিবহনের ফলে রাস্তার ধুলায় আমরা থাকতে পারি না। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত
পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের পরিবহন দিয়ে বালু নেয়ায় রাস্তা-ঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম,মঞ্জু হাজি,লিটন, মান্নান(বাচ্চু),আজাহার আলী,আইজুল হক,আসলাম মেম্বারসহ অনেকেই এ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানায়।
বালু পয়েন্ট ব্যবসায়ী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন,মঞ্জু হাজির পয়েন্টে আমার একটি শেয়ার দেয়া আছে। এর বেশী আমি আর কিছু জানি না।
চিলমারী নৌ-ফাড়ি থানার আইসি মো.ইমতিয়াজ কবির জানান,বালু উত্তোলনকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অভিযান
চলমান রয়েছে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়া‌রির নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষা করার নির্বাচন

চিলমারীতে থামছেনা অবৈধ বালু উত্তোলনের উৎসব ভোগান্তির শিকার এলাকার মানুষ

প্রকাশিত : ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কিছুতেই থামছেনা ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উৎসব। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বাল্কহেডে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করে নদের ডান তীর ঘেষে
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জামতলা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পয়েন্টের মাধ্যমে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে এক শ্রেণীর
অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকাবাসীর কথায় তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যাচ্ছে বালুর ব্যবসা। এতে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়াসহ হুমকির মুখে ঢলে পড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অবকাঠামো, আবাদী জমি এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি।ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার মানুষ।অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গত মৌসুমে দুটি চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবী। দেখে না দেখার ভান করে চলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে,কুড়িগ্রর চিলমারী উপজেলাধীন রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর থেকে রমনা
ইউনিয়নের ভরট গ্রাম(জামতলা) পর্যন্ত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে ওই এলাকাসমুহে কয়েক দফায় ব্লক পিচিং এ ধসও দেখা
দিয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে তা মেরামত করে।নদী ভাঙন রোধ এবং ডান তীর রক্ষা প্রকল্প অক্ষত রাখতে ওই এলাকা সমুহে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ
করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বর্তমানে রমনা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরখরিয়া জামেরতল হতে
রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল বাজার থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পয়েন্টে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মহোৎসব করছে এলাকার প্রভাবশালীরা।প্রভাব খাটিয়ে এলাকাসীর কথায় কর্ণপাত না করে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি
বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এলাকাবাসী ওই এলাকায় বালু উত্তোলন নিষেধ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এতে একদিকে হুমকির মুখে পড়েছে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পসহ হাজার হাজার একর আবাদী জমি ও জনবসতি। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত বাধ রাস্তাসহ এলাকার রাস্তা-ঘাট বালু বহনকারী গাড়ীর চাকায় ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের এলাকার নিশ্চিত ক্ষতি দেখেও প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা অসহায় এলাকাবাসী। মুখ খুলে কোথাও কথা বললেই হুমকি আসছে বলেও জানান স্থানীয়রা। ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গত মৌসুমে দুটি চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবী। দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ভাবে বালু বিক্রির মহোৎসব চললেও অজ্ঞাত কারনে নিরব ভুমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়  রাণীগঞ্জ জকরিটারী এলাকায় গেলে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরের ব্লকপিচিং ঘেষে ৩টি বাল্কহেড থেকে বালু নামানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।পাশ্বে বালুর পাহাড় তৈরী করা হয়েছে এবং সরকারী রাস্তায় স্থায়ীভাবে ইটদিয়ে বালুর স্থান নির্মান করা হচ্ছে। কাচকোল বাজার থেকে ফকিরেরহাট এলাকা পর্যন্ত ৭-৮টিসহ রমনা ইউনিয়নের জামতলা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বালুর পয়েন্ট দেখা যায়।এসময় কালিরকুড়া এলাকায় ২টি পয়েন্টের সামনে জরুরী ভিত্তিতে ডান তীরের ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য রাখা ব্লক দিয়ে বালুর পয়েন্টে যাওয়ার জন্য তৈরী করা রাস্তা লক্ষ করা যায়। এসময় ওই এলাকার দুলাল মিয়া,জহির আলী,দিনেশ চন্দ্র,আবু তালেব,জাফর আলী,ফিরোজ,আসাদ, মজনু,আফজাল হোসেনসহ অনেকে জানান, সামনের জমিগুলোতে চর সৃষ্টি
হলে আমাদের এলাকায় ভাঙ্গনের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও ডান তীরে সৃষ্ট চর থেকে আমরা নানান সুবিধা পেয়ে থাকি।অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে চলতি মৌসুমে দুটি
চর ভেঙ্গে অন্তত ৫শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ী-ভিটা হারিয়েছে।বর্তমানে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে চর তো দুরের কথা ডান তীর রক্ষা প্রকল্প যে কোন সময় ছুটে যেতে পারে। এছাড়াও
সারাদিন বালু পরিবহনের ফলে রাস্তার ধুলায় আমরা থাকতে পারি না। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত
পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের পরিবহন দিয়ে বালু নেয়ায় রাস্তা-ঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম,মঞ্জু হাজি,লিটন, মান্নান(বাচ্চু),আজাহার আলী,আইজুল হক,আসলাম মেম্বারসহ অনেকেই এ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানায়।
বালু পয়েন্ট ব্যবসায়ী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন,মঞ্জু হাজির পয়েন্টে আমার একটি শেয়ার দেয়া আছে। এর বেশী আমি আর কিছু জানি না।
চিলমারী নৌ-ফাড়ি থানার আইসি মো.ইমতিয়াজ কবির জানান,বালু উত্তোলনকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অভিযান
চলমান রয়েছে।