১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরে ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাবেক ইউপি’র সদস্যের হরিলুট কারবার

দিনাজপুর সদরের ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপির সদস্য আমির আলী ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুমের যোগসাজসে হরিলুট কারবার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আঃ লীগ সরকার পতনকে পুঁজি করে ব্যাক্তিস্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ, কে, এম, হাসান নুর জামান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম আয়ত্তে রেখে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ও তার লোকজন ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি হরিলুট শুরু করেছে। তারা তাদের ব্যাক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য

ইউপি’র সদস্যদের প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। ইউপি’র সদস্য সমাজ উদ্দীন জানায়, রেজুলেশন বিহীন খাতায় স্বাক্ষর না করার কারণে পরিষদের বাড়ান্দায় তাকে সন্ত্রাসীরা লাঞ্চিত হয়েছে। ইউপি’র সদস্য মোঃ হানিফ জানায়,ন্যায় সঙ্গত বিষয়ে প্রতিবাদ করায় গডফাদারের নির্দেশ্যে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলীর লোকজন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।

গত ৩১ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে দিনাজপুর সদরে ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ মে ২০২৪ তারিখে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জর্জিস সোহেলকে জেলা প্রশাসক শপথ গ্রহণ করান এবং নির্বাচিত ইউপি’র সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সপথ গ্রহনের পর সকল
সদস্য ও সদস্যাদের নিয়ে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের কার্য্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ৫ আগষ্ট সারাদেশে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতন হয়। এরপর সারাদেশে ছাত্র-জনতার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুরু হয় আওয়ামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা। সেই সুবাদে দিনাজপুর সদরে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার ঘটনায় নাম থাকায় জর্জিস সোহেল আত্মগোপন করায় ইউনিয়ন পরিষদটি চেয়ারম্যান শুন্য হয়ে পড়ে। উক্ত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে চেয়ারম্যান জর্জিস সোহেল জামিন নেয়। আদালত থেকে চেয়ারম্যান জামিন হওয়ার খবর পেয়ে স্বার্থান্বেষী কু-চক্রিমহলটি এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে যে, তারা চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দেখা মাত্রই মব ও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটাবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদর্শন করছে। সে কারণে চেয়ারম্যান নিরাপত্তার অভাবে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে শাহস পাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাগন বলছেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়স সত্বেও আমাদেরকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলী যোগসাজস করে বলছে, আপনারা ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাক্ষর দিয়ে মাসিক সম্মানী ভাতা নিয়া যাবেন। কিন্তু অন্য কোনো বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না। ফলে পরিষদে কখন কি বরাদ্দ আসছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ও প্যানেল চেয়ারম্যান এই তিনজন ছাড়া ৪ জন জানেনা। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ কার্ড, মাতৃত্বভাতার কার্ড, বয়স্ক বা বিধবা ভাতা, টি আর, কাবিখা, কাবিটা ও টিসিবির কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানি না। টিসিবির কার্ডে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ৬নং ওয়ার্ড ইউপি’র সদস্য পাভেল বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম তার বাড়ি থেকে আমাকে উপস্থিত রেখে টিসিবির কার্ড বিতরন করেছে। লোকজন টিসিবির কার্ড নেওয়ার সময় ৫০/১০০ টাকা করে দিয়েছে। প্রায় ৭০টি টিসিবি’র কার্ড বিতরন করা হয়। টিসিবি’র কার্ড প্রতি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কে বা কারা ইউএনও’র নিকট অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদেশ দেন। ফলে ইউপি’র সদস্য বিতরনকৃত টিসিবির কার্ডগুলো সংগ্রহ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাতে জমা দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজের হাতে কার্ডগুলো বিতরণ করেন। মহিলা সদস্যা শিরিন আকতার জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলীর হুমকি-ধামকির ভয়ে ফাঁকা চেকগুলিতে স্বাক্ষর দিয়েছি। কিন্তু রেজুলেশনবিহীন খাতায় স্বাক্ষর দেয়নি। সে কারণে গডফাদারের নির্দেশে আমির আলী তার দলের তাজেমুল ইসলাম, ইয়াছিন, আসলাম হোসেনের মাধ্যমে ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সড়কে চেয়ারম্যানসহ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভূয়া কথাবার্তা ব্যানারে লিখে মানববন্ধন করেছে।

ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের অনেকেই বলছেন, ৫ আগস্টকে পুজি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি’র সদস্য সহ প্যানেল চেয়ারম্যান এই ৩ জন পরিষদের বরাদ্দকৃত মালামাল হরিলুট করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার বাসনায় একের পর এক ধরনের নানা কুট কৌশল চালাচ্ছে। ইউপি’র সদস্যা আয়েশা আকতার বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রমজান মাসে ৯,১২৬ টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিজিএফ কার্ড কয়েকজন ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের মাঝে বিতরন দেখিয়ে সিংহভাগ ঐ তিনজন আত্মসাৎ করেছে। আরও বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলীর চাপে পড়ে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর দিয়েছি। রেজুলেশনবিহীন খাতার অনেক জায়গায় স্বাক্ষর দিয়েছি। পরবর্তীতে আবারও একই কায়দায় চাপ সৃস্টি করলেও রেজুলেশনবিহীন খাতায় স্বাক্ষর দেইনি। আমাকে রাজী করাতে না পেরে আমার স্বামীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

ইউপি’র এক সদস্য জানায়, সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি রাস্তার কাজ করছে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটক সংলগ্ন ইউপি’র সাবেক সদস্য আমির আলীর মার্কেটসহ ভবনের ভিট দেওয়ার সময় পরিষদের আংশিক জমি দখলে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমির আলী ভুমিহীন না হওয়া সত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় খাস জমি লীজ নিয়ে আলীসান বাড়িতে তার পুত্র বসবাস করছে। আমির আলী খুচরা ব্যবসায়ী থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।বর্তমানে আমির আলী ইউনিয়ন পরিষদের স্ব-ঘোষিত চেয়ারম্যান সেজে বসেছে। এব্যাপারে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে বলেন, আপনার কি করার আছে করেন, এগুলো আমার হিসেব করার টাইম নাই । অপরদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম পরিষদের ভাগ বাটোয়ারার প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে মোছাঃ কুসুম বাড়ির নির্মান কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ২৬টি গরু বিভিন্ন জনকে আদি দিয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদের ভাগ-বাটোয়ারার টাকা দিয়ে শহরে রামনগরে ইন্দ্রার মোড় এলাকায় ৫ তলা ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।

ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাগন অভিযোগ করে বলছেন, জানুয়ারী মাসে যে পরিমাণ টিআর, কাবিখা, গম/চাল বরাদ্দ এসেছিলো, একই বরাদ্দ মার্চ মাসেভদেওয়া হয় এপ্রিলের বরাদ্দ বাতিল করেছে সরকার। সেই হিসেবে গত জানুয়ারী মাসে টি আর ১১ লক্ষ টাকা, কাবিখা-১৩ লক্ষ টাকা, গম-৯ টন ৩০০ কেজি ও উন্নয়ন সহায়তা (BBG) ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ৫০০ জানুয়ারি মাসের সমান বরাদ্দ আসে মার্চ মাসে। যার প্রেক্ষিতে আগষ্ট ২০২৪ হতে এপ্রিল ২০২৫ বরাদ্দ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের টেক্স আদায় হয়েছে । এইভাবে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার কোনো হিসেব নেই। এব্যাপারে ইউনিয়নের সদস্য ও সদস্যাসহ এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট তদন্ত সাপেক্ষে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার আলোচনা সভা

দিনাজপুরে ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাবেক ইউপি’র সদস্যের হরিলুট কারবার

প্রকাশিত : ০৫:০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

দিনাজপুর সদরের ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপির সদস্য আমির আলী ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুমের যোগসাজসে হরিলুট কারবার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আঃ লীগ সরকার পতনকে পুঁজি করে ব্যাক্তিস্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ, কে, এম, হাসান নুর জামান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম আয়ত্তে রেখে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ও তার লোকজন ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাদের জিম্মি হরিলুট শুরু করেছে। তারা তাদের ব্যাক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য

ইউপি’র সদস্যদের প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। ইউপি’র সদস্য সমাজ উদ্দীন জানায়, রেজুলেশন বিহীন খাতায় স্বাক্ষর না করার কারণে পরিষদের বাড়ান্দায় তাকে সন্ত্রাসীরা লাঞ্চিত হয়েছে। ইউপি’র সদস্য মোঃ হানিফ জানায়,ন্যায় সঙ্গত বিষয়ে প্রতিবাদ করায় গডফাদারের নির্দেশ্যে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলীর লোকজন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।

গত ৩১ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে দিনাজপুর সদরে ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ মে ২০২৪ তারিখে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জর্জিস সোহেলকে জেলা প্রশাসক শপথ গ্রহণ করান এবং নির্বাচিত ইউপি’র সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সপথ গ্রহনের পর সকল
সদস্য ও সদস্যাদের নিয়ে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের কার্য্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ৫ আগষ্ট সারাদেশে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতন হয়। এরপর সারাদেশে ছাত্র-জনতার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুরু হয় আওয়ামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা। সেই সুবাদে দিনাজপুর সদরে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার ঘটনায় নাম থাকায় জর্জিস সোহেল আত্মগোপন করায় ইউনিয়ন পরিষদটি চেয়ারম্যান শুন্য হয়ে পড়ে। উক্ত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে চেয়ারম্যান জর্জিস সোহেল জামিন নেয়। আদালত থেকে চেয়ারম্যান জামিন হওয়ার খবর পেয়ে স্বার্থান্বেষী কু-চক্রিমহলটি এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে যে, তারা চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দেখা মাত্রই মব ও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটাবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদর্শন করছে। সে কারণে চেয়ারম্যান নিরাপত্তার অভাবে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে শাহস পাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাগন বলছেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়স সত্বেও আমাদেরকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলী যোগসাজস করে বলছে, আপনারা ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাক্ষর দিয়ে মাসিক সম্মানী ভাতা নিয়া যাবেন। কিন্তু অন্য কোনো বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না। ফলে পরিষদে কখন কি বরাদ্দ আসছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ও প্যানেল চেয়ারম্যান এই তিনজন ছাড়া ৪ জন জানেনা। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ কার্ড, মাতৃত্বভাতার কার্ড, বয়স্ক বা বিধবা ভাতা, টি আর, কাবিখা, কাবিটা ও টিসিবির কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানি না। টিসিবির কার্ডে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ৬নং ওয়ার্ড ইউপি’র সদস্য পাভেল বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম তার বাড়ি থেকে আমাকে উপস্থিত রেখে টিসিবির কার্ড বিতরন করেছে। লোকজন টিসিবির কার্ড নেওয়ার সময় ৫০/১০০ টাকা করে দিয়েছে। প্রায় ৭০টি টিসিবি’র কার্ড বিতরন করা হয়। টিসিবি’র কার্ড প্রতি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কে বা কারা ইউএনও’র নিকট অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদেশ দেন। ফলে ইউপি’র সদস্য বিতরনকৃত টিসিবির কার্ডগুলো সংগ্রহ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাতে জমা দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজের হাতে কার্ডগুলো বিতরণ করেন। মহিলা সদস্যা শিরিন আকতার জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলীর হুমকি-ধামকির ভয়ে ফাঁকা চেকগুলিতে স্বাক্ষর দিয়েছি। কিন্তু রেজুলেশনবিহীন খাতায় স্বাক্ষর দেয়নি। সে কারণে গডফাদারের নির্দেশে আমির আলী তার দলের তাজেমুল ইসলাম, ইয়াছিন, আসলাম হোসেনের মাধ্যমে ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সড়কে চেয়ারম্যানসহ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভূয়া কথাবার্তা ব্যানারে লিখে মানববন্ধন করেছে।

ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের অনেকেই বলছেন, ৫ আগস্টকে পুজি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি’র সদস্য সহ প্যানেল চেয়ারম্যান এই ৩ জন পরিষদের বরাদ্দকৃত মালামাল হরিলুট করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার বাসনায় একের পর এক ধরনের নানা কুট কৌশল চালাচ্ছে। ইউপি’র সদস্যা আয়েশা আকতার বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রমজান মাসে ৯,১২৬ টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিজিএফ কার্ড কয়েকজন ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাদের মাঝে বিতরন দেখিয়ে সিংহভাগ ঐ তিনজন আত্মসাৎ করেছে। আরও বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমির আলীর চাপে পড়ে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর দিয়েছি। রেজুলেশনবিহীন খাতার অনেক জায়গায় স্বাক্ষর দিয়েছি। পরবর্তীতে আবারও একই কায়দায় চাপ সৃস্টি করলেও রেজুলেশনবিহীন খাতায় স্বাক্ষর দেইনি। আমাকে রাজী করাতে না পেরে আমার স্বামীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

ইউপি’র এক সদস্য জানায়, সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি রাস্তার কাজ করছে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটক সংলগ্ন ইউপি’র সাবেক সদস্য আমির আলীর মার্কেটসহ ভবনের ভিট দেওয়ার সময় পরিষদের আংশিক জমি দখলে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমির আলী ভুমিহীন না হওয়া সত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় খাস জমি লীজ নিয়ে আলীসান বাড়িতে তার পুত্র বসবাস করছে। আমির আলী খুচরা ব্যবসায়ী থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।বর্তমানে আমির আলী ইউনিয়ন পরিষদের স্ব-ঘোষিত চেয়ারম্যান সেজে বসেছে। এব্যাপারে সাবেক ইউপি’র সদস্য আমির আলী ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে বলেন, আপনার কি করার আছে করেন, এগুলো আমার হিসেব করার টাইম নাই । অপরদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কুসুম পরিষদের ভাগ বাটোয়ারার প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে মোছাঃ কুসুম বাড়ির নির্মান কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ২৬টি গরু বিভিন্ন জনকে আদি দিয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদের ভাগ-বাটোয়ারার টাকা দিয়ে শহরে রামনগরে ইন্দ্রার মোড় এলাকায় ৫ তলা ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।

ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাগন অভিযোগ করে বলছেন, জানুয়ারী মাসে যে পরিমাণ টিআর, কাবিখা, গম/চাল বরাদ্দ এসেছিলো, একই বরাদ্দ মার্চ মাসেভদেওয়া হয় এপ্রিলের বরাদ্দ বাতিল করেছে সরকার। সেই হিসেবে গত জানুয়ারী মাসে টি আর ১১ লক্ষ টাকা, কাবিখা-১৩ লক্ষ টাকা, গম-৯ টন ৩০০ কেজি ও উন্নয়ন সহায়তা (BBG) ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ৫০০ জানুয়ারি মাসের সমান বরাদ্দ আসে মার্চ মাসে। যার প্রেক্ষিতে আগষ্ট ২০২৪ হতে এপ্রিল ২০২৫ বরাদ্দ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের টেক্স আদায় হয়েছে । এইভাবে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার কোনো হিসেব নেই। এব্যাপারে ইউনিয়নের সদস্য ও সদস্যাসহ এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট তদন্ত সাপেক্ষে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ডিএস./