১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শোকের মাস আগস্ট আজ থেকে শুরু

আজ থেকে শুরু হচ্ছে শোকের মাস আগস্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এ মাসের ১৫ তারিখে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকচক্র। এ দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর এক শোকের দিন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপী খুনিরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল এবং পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।

৭৫’র ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।

৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন। এই সময়ে তিনি একটি জনগোষ্ঠীকে জাতিক চেতনায় ঐক্যবদ্ধই শুধু করেননি, তাদের স্বাধীনতার, মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ভাষা দিয়েছিলেন। সাহসে, শৌর্যে পরাধীনতাকে পেছনে ফেলেছেন।

তবে আকস্মিক কিংবা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি এসেছিলেন বাংলার মাটি থেকে জেগে। ভালবেসেছিলেন মাটি আর মানুষকে। তিনি রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তবুও পঁচাত্তরে ঘাতকের বুলেট গর্জে উঠেছিল। সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতাকে। এই মৃত্যুঞ্জয়ীর তিরোধান দিবস মিলেছে আগস্টে। এই মাস বেদনার হয়েও অফুরান শক্তি যোগায় বাঙালিকে

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারতের তৎকালীন র’এর প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ইনদ্রা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে ষড়যন্ত্র চলছে।

কিন্তু তিনি বলেছিলেন, বাঙালীরা আমার ছেলের মতো। তারা আমার কোনো ক্ষতি করবে না। বাঙালীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অনেক আস্থা ছিলো। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার বাঙালী সেই আস্থার জায়গাটা রাখেনি।’

বাংলাদেশের সত্তার অন্বেষীয় বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যায় বাঙালির পরম আপনজন হিসাবে। তাইতো আজও নানাভাবে প্রাণিত করে বাঙালি জাতিকে।

মৃত্যুর সাথে সাথে জাতির পিতা নতুন করে জন্ম নিয়েছেন বাঙালির অন্তরে। সেখানে প্রবলভাবে আলোড়িত করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। আর এভাবেই তিনি বেঁচে থাকবেন শ্রদ্ধায় আর স্মরণে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

শোকের মাস আগস্ট আজ থেকে শুরু

প্রকাশিত : ১০:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অগাস্ট ২০১৮

আজ থেকে শুরু হচ্ছে শোকের মাস আগস্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এ মাসের ১৫ তারিখে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকচক্র। এ দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর এক শোকের দিন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপী খুনিরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল এবং পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।

৭৫’র ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।

৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন। এই সময়ে তিনি একটি জনগোষ্ঠীকে জাতিক চেতনায় ঐক্যবদ্ধই শুধু করেননি, তাদের স্বাধীনতার, মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ভাষা দিয়েছিলেন। সাহসে, শৌর্যে পরাধীনতাকে পেছনে ফেলেছেন।

তবে আকস্মিক কিংবা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি এসেছিলেন বাংলার মাটি থেকে জেগে। ভালবেসেছিলেন মাটি আর মানুষকে। তিনি রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তবুও পঁচাত্তরে ঘাতকের বুলেট গর্জে উঠেছিল। সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতাকে। এই মৃত্যুঞ্জয়ীর তিরোধান দিবস মিলেছে আগস্টে। এই মাস বেদনার হয়েও অফুরান শক্তি যোগায় বাঙালিকে

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারতের তৎকালীন র’এর প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ইনদ্রা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে ষড়যন্ত্র চলছে।

কিন্তু তিনি বলেছিলেন, বাঙালীরা আমার ছেলের মতো। তারা আমার কোনো ক্ষতি করবে না। বাঙালীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অনেক আস্থা ছিলো। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার বাঙালী সেই আস্থার জায়গাটা রাখেনি।’

বাংলাদেশের সত্তার অন্বেষীয় বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যায় বাঙালির পরম আপনজন হিসাবে। তাইতো আজও নানাভাবে প্রাণিত করে বাঙালি জাতিকে।

মৃত্যুর সাথে সাথে জাতির পিতা নতুন করে জন্ম নিয়েছেন বাঙালির অন্তরে। সেখানে প্রবলভাবে আলোড়িত করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। আর এভাবেই তিনি বেঁচে থাকবেন শ্রদ্ধায় আর স্মরণে।