টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাসী ফিরোজ আল মামুন হত্যা মামলা ও লালমনিহাটের আবু সামা হত্যা মামলায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার বিকেলে র্যাব ১৪ এর ৩ নং কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুরের মুচিরচালা এলাকায় অভিযান চারিয়ে ফিরোজ আল মামুন হত্যা মামলায় জামিল ওরফে সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার মাঝ রাতে কালিহাতীর মুন্সিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানার আবু সামা হত্যা ঘটনায় মো. তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, মির্জাপুরের তরফপুর গ্রামের ফিরোজ আল মামুন দীর্ঘদিন মালেশিয়ায় থাকার পর গত মার্চ মাসে দেশে চলে আসেন। গত সোমবার রাতে ফিরোজ আল মামুন (৪৬) তার মাসহ রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভোরে মির্জাপুরের তরফপুর মাটিয়াঘারা গ্রামের কৃষি জমি থেকে ফিরোজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভগ্নীপতি এবিএস ফরহাদ মোল্লা (৬১) বাদি হয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যা মামলা দায়েরের ১২ ঘন্টার মধ্যে সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপর দিকে গত ২৬ জুন আবু সামা জমি চাষ করার জন্য ট্রাক্টর নিয়ে যাওয়ার সময় মামলার ১নং অভিযুক্ত হাসেম আলী (৪২) এর জমির আইল ভেঙ্গে যায়। এ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। এরই জের ধরে পরের দিন ২৭ জুন দুপুরে মামলার বাদী মো. রুবেল হোসেন বাদল (৪১), তার পিতা নিহত আবু সামা (৬০) ও বাদীর ছোট ছেলেসহ স্থানীয় সানিয়াজান বাজার হতে বাড়ি ফেরার পথে ১নং আসামী হাসেম আলীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিবাদীগণ পূর্ব শক্রতার জেরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নিহত আবু সামাসহ বাদী ও বাদীর ছেলেকে মারপিঠ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আবু সামাসহ আহতদেরকে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু সামাকে মৃত ঘোষনা করে। ২৭ জুন এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. রুবেল হোসেন বাদল বাদি হয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর টাঙ্গাইল র্যাব ক্যাম্পের সহযোগিতায় র্যাব-১৩ রংপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মাঝ রাতে কালিহাতীর মুন্সিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আবু সামা হত্যা মামলার ৩নং আসামী মো. তুহিন (২০) গ্রেপ্তার করে।
র্যাব কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামীদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, সোনা মিয়াকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিএস./



















