নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। শনিবার টানা সপ্তম দিনের মত আন্দোলনে নামার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনেক সাফল্য এসেছে। এটা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের সাথে আমরাও একমত। তাদের দাবির প্রতি সরকারও একমত হয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশকারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে পুলিশ।
তিনি যাত্রাবাড়ীতে এক ছাত্র আহত হওয়ার কথা উদাহরণ দিয়ে বলেন, যাত্রাবাড়ীতে একটি পিকআপকে ধাওয়া দিতে গিয়ে ওই গাড়ি এক ছাত্রের উপর তুলে দিয়েছে। এতে ওই ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়েছে। তবে এটা ছাত্র-ছাত্রীরা করে নাই। এটা অনুপ্রবেশকারীরা করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস তৈরি ও বিক্রির হিড়িক চলছে। এটা পরিধান করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মত অনুপ্রবেশ করছে স্বার্থনেষীরা। এতে ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তায় ভিগ্ন ঘটতে পারে। এটা নিয়েও আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন নোঙরা প্লে কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ভাষা প্রকাশ করার মত নয়।
পুলিশ অনেক ধৈর্য্যের সঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, তারপরও অনেক স্থানে পুলিশের উপর হামলা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর রাজারবাগ ও কাফরুল থানায় হামলা করা হয়েছে। এটা কোনভাবে শিক্ষার্থীরা করে নাই। এটা অনুপ্রবেশকারীরা করেছে বলে ধারণা করছে তিনি। এছাড়াও সাইন্সল্যাব ও যাত্রাবাড়ীতে দুই পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। এত কিছুর পর আমরা ধৈর্য্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যেমন ভাল কাজ করছে। ঠিক উল্টো কারার দিকও রয়েছে। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার কারণে ইতোমধ্যে সারা দেশে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটা কোনো নাগরীকের জন্য সুখকর নয়। এই জনদুর্ভোগ চলতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই (রবিবার) রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় জাবালে নূর বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এখনো তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।






















