স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তার মানে এই নয় যে তারা অরাজকতা করতেই থাকবেন, আর আমরা দৃশ্য দেখতে থাকব মোটেই না, আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আইন প্রয়োগে কঠোর হবে, তবে নমনীয় থাকবে।
রাজধানীর জিরো পয়েন্টে রবিবার দুপুরে ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে অন্য দিকে নেওয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন হাজার হাজার আইডি কার্ড গলায় ঝুলানো হয়েছে। একটাও স্কুলের ছাত্র নয়, সব প্রাপ্তবয়ষ্ক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন এগুলো সব মিথ্যাচার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন অভিনেত্রী মিথ্যাচার করে কীভাবে কাঁদলেন আপনারা দেখেছেন।
এ সময় বিএনপি নেতা আমির খসরুর ফোনালাপের প্রতিও ইঙ্গিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে এই বিএনপি নেতাকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উস্কে দেয়ার কথা শোনা যায়।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা ফোন দিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় লোক আনছেন। ব্যাগ নিয়ে ঢাকা আসছেন এমন অনেকের ব্যাগে আমরা পাথর পেয়েছি। পুলিশ অনেককে পাথর বোঝাই স্কুল ব্যাগসহ আটক করেছে। হাজার হাজার স্কুল ড্রেস ও আইডি কার্ড তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের যে ছবি দেয়া হয়েছে তার অনেকগুলোই পাকিস্তানের ছবি। এর মধ্যে ২০১২-১৩ সালের ছবিও আছে।
শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের কোনো দাবি অপূর্ণ নেই। যে দুইটা আছে তার একটি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আইন, যেটি সোমবার মন্ত্রীসভায় উঠবে। অপরটি হলো আন্ডারপাস ও ওভারব্রিজ তৈরি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
আন্দোলনের এক সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে তুলতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তার মানে এই নয় যে তারা অরাজকতা করতেই থাকবেন, আর আমরা দৃশ্য দেখতে থাকব। মোটেই না, আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাফিক সপ্তাহ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর নামের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনচলাকালে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের কাজ করতে দেখা গেছে। এরপর গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশ।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তিনি জানান, আজ ৫ আগস্ট রবিবার থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হবে। ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।
ট্রাফিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে ফিটনেস ও রুটপারমিটবিহীন যানবাহন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহনের চালক, উল্টোপথে যান চলাচল ও বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণসহ সকল প্রকার ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জাম মিয়া কামাল। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর গুলিস্থান জিরো পয়েন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় সবাইকে রাস্তায় চলাচলে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় চালক, যাত্রী, পথচারী সবাইকেই আইন মেনে না চলতে হবে। তা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কমানো যাবে না।
এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, প্রধানত চারটি কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানজট ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে- প্রথমত, চালকদের ট্রাফিক সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব। দ্বিতীয়ত, যথাযথ পরিবেশের অভাব। তৃতীয়ত, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভাব এবং চতুর্থত, এনফোর্সমেন্টের অভাব।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা স্কাউট ও পুলিশ সদস্যদের ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইকালে পথচারী ও চালকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার জন্য অলরেডি বলে দিয়েছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর নামের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনচলাকালে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের কাজ করতে দেখা গেছে। এরপর গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশ।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তিনি জানান, আজ রবিবার থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হবে। ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।
ট্রাফিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহনের চালক, উল্টোপথে যান চলাচল ও বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ সকল প্রকার ট্রাফিক আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
























