০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

সাতকানিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট, থাকার কথা ১২ জন আছে মাত্র ২ জন

ছবির ক্যাপশন:- এভাবে খালি পড়ে আছে বিভিন্ন দপ্তর ছবিটি সাতকানিয়া শিক্ষা অফিস থেকে তোলা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেখানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের নানা প্রশাসনিক কাজে ভিড় থাকে। কিন্তু অফিসটি চলছে মাত্র দুই জন কর্মকর্তার কাঁধে ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

পদ শূন্য রয়েছে শিক্ষা অফিসার ১ জন, সহকারী পদে ৫ জন, অফিস সহকারী পদে ২ জন,উচ্চমান সহকারী পদে ১ জন, অফিস সহায়ক পদে ১ জন।

আবার দেখা যায় ,কিছু স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক এই উপজেলায় রয়েছে ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,এর মধ্যে ৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ খালি এছাড়া ৩৪ টি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে বলে জানান শিক্ষা অফিস।

এদিকে শিক্ষকরা বলছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে ২ জন কর্মকর্তাকে দিয়ে পুরো উপজেলা পরিচালনা করা সম্ভব না। এতে প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকায় সব ধরনের প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক অনুমোদন, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্র, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি—সবই দেখভাল করতে হচ্ছে একজন অফিসারকে যিনি ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার পদে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরানগড় ইউনিয়নের ফকিরঘীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা সোলতানা বলেন , আমাদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষা অফিসার নাই ,সহকারী শিক্ষক অফিসার ও নাই যার কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকান্ডে শিক্ষা অফিসে এসে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে ,আমরা চাই নতুন বছরে নতুন আঙ্গিকে যেন আমাদের বিদ্যালয় কে সাজাতে পারি সুন্দর দিকনির্দেশনা পায়, তাহলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে এবং আমাদের শিক্ষার গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।

সাতকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন ,জনবল সংকট থাকায় কাজ করাতে অনেক সময় বেশি লাগে। প্রতিদিন ভিড় থাকে, কিন্তু সমস্যা সমাধান করতে সময় লাগছে।

কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট থাকায় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে সমস্যা হচ্ছে ,অতি শীঘ্রই জনবল নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম চলমান রাখার দাবি জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আনিসুল ইসলাম বলেন, অফিসে আমি এবং একজন হিসাব সহকারী রয়েছে, এছাড়া ১০টি পদ ফাঁকা রয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আমরা যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতেছি, কিন্তু বিভিন্ন সেবা রয়েছে লোকবল কম থাকায় তারা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আমাদের শিক্ষা অফিসে যে পদগুলো খালি রয়েছে সেগুলো যেন দ্রুত পূরণ হয় সেটাই আশা করি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছেন এবং চিঠিও দিয়েছেন, মোট ১২টি পদের মধ্যে দুটি পদে লোক রয়েছে ১০ টি পদ খালি রয়েছে এতে আমাদের শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ,তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো যাতে অতি দ্রুত যেসব পদ খালি রয়েছে সেই সব পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে জনবল সংকট দূর করে শিক্ষা অফিসকে কার্যকর করতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বেহাল দশায় নাজুক হয়ে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। কবে পূরণ হবে শূন্য পদসেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

সাতকানিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট, থাকার কথা ১২ জন আছে মাত্র ২ জন

প্রকাশিত : ০২:১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেখানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের নানা প্রশাসনিক কাজে ভিড় থাকে। কিন্তু অফিসটি চলছে মাত্র দুই জন কর্মকর্তার কাঁধে ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

পদ শূন্য রয়েছে শিক্ষা অফিসার ১ জন, সহকারী পদে ৫ জন, অফিস সহকারী পদে ২ জন,উচ্চমান সহকারী পদে ১ জন, অফিস সহায়ক পদে ১ জন।

আবার দেখা যায় ,কিছু স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক এই উপজেলায় রয়েছে ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,এর মধ্যে ৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ খালি এছাড়া ৩৪ টি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে বলে জানান শিক্ষা অফিস।

এদিকে শিক্ষকরা বলছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে ২ জন কর্মকর্তাকে দিয়ে পুরো উপজেলা পরিচালনা করা সম্ভব না। এতে প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকায় সব ধরনের প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক অনুমোদন, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্র, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি—সবই দেখভাল করতে হচ্ছে একজন অফিসারকে যিনি ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার পদে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরানগড় ইউনিয়নের ফকিরঘীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা সোলতানা বলেন , আমাদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষা অফিসার নাই ,সহকারী শিক্ষক অফিসার ও নাই যার কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকান্ডে শিক্ষা অফিসে এসে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে ,আমরা চাই নতুন বছরে নতুন আঙ্গিকে যেন আমাদের বিদ্যালয় কে সাজাতে পারি সুন্দর দিকনির্দেশনা পায়, তাহলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে এবং আমাদের শিক্ষার গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।

সাতকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন ,জনবল সংকট থাকায় কাজ করাতে অনেক সময় বেশি লাগে। প্রতিদিন ভিড় থাকে, কিন্তু সমস্যা সমাধান করতে সময় লাগছে।

কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট থাকায় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে সমস্যা হচ্ছে ,অতি শীঘ্রই জনবল নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম চলমান রাখার দাবি জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আনিসুল ইসলাম বলেন, অফিসে আমি এবং একজন হিসাব সহকারী রয়েছে, এছাড়া ১০টি পদ ফাঁকা রয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আমরা যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতেছি, কিন্তু বিভিন্ন সেবা রয়েছে লোকবল কম থাকায় তারা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আমাদের শিক্ষা অফিসে যে পদগুলো খালি রয়েছে সেগুলো যেন দ্রুত পূরণ হয় সেটাই আশা করি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছেন এবং চিঠিও দিয়েছেন, মোট ১২টি পদের মধ্যে দুটি পদে লোক রয়েছে ১০ টি পদ খালি রয়েছে এতে আমাদের শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ,তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো যাতে অতি দ্রুত যেসব পদ খালি রয়েছে সেই সব পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে জনবল সংকট দূর করে শিক্ষা অফিসকে কার্যকর করতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বেহাল দশায় নাজুক হয়ে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। কবে পূরণ হবে শূন্য পদসেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ডিএস./