আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী রংপুর বিভাগীয় তাবলিগ জামাতের ইজতেমা। রংপুর নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল এলাকায় আয়োজিত এই ইজতেমার শেষ দিনে নামাজে অংশ নেন কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। বিশাল এ জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে নামে মানুষের ঢল।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয় ।নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুরে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। নিজাম উদ্দিন মারকাজ থেকে আগত মাওলানা ওয়াসিম উর্দু ভাষায় প্রায় ১৪ মিনিট আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও হেদায়েত কামনা করা হয়।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ইজতেমা ময়দানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বাংলাদেশ ছাড়াও বহির্বিশ্বের অন্তত ছয়টি দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন। মূল মাঠ ছাড়াও আশপাশের খোলা জায়গা, সড়ক ও ফাঁকা স্থানে পাটি, চট, পলিথিন ও পত্রিকা বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন হাজার হাজার মুসল্লি।
ইজতেমার শেষ দিনে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।রংপুরস্থ তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইজতেমা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তুষ্ট।এর আগে ফজরের নামাজের পর হেদায়েতি বয়ানে ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, দাওয়াতের মেহনত হলো নবুওয়াতি মেহনত। খুলুসিয়াত ও আজমতের সঙ্গে দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করলে আমলের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, পরকালের চিরস্থায়ী সফলতার জন্য দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় ঈমান ও আমলের মেহনত করতে হবে। ঈমানি মেহনত ছাড়া হাশরের ময়দানে কেউ কামিয়াব হতে পারবে না। পরে সকাল ১০টায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের উদ্দেশে বিশেষ বয়ান অনুষ্ঠিত হয়।
ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য অসংখ্য পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি পয়েন্টে আগে থেকেই সামিয়ানা টাঙানো, পানির লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ, সাইকেল গ্যারেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়। প্রতিদিন ফজর, যোহর, আছর ও মাগরিবের নামাজের পর দেশ-বিদেশের মুরুব্বিরা বয়ান পেশ করেন। অধিকাংশ বয়ান বাংলা ভাষায় হলেও বিদেশি মুরুব্বিরা আরবি ও ইংরেজি ভাষায় বয়ান দেন, যা দোভাষীর মাধ্যমে বাংলায় অনুবাদ করে শোনানো হয়।
রংপুর বিভাগের আট জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিরা জানান, এত বড় জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন। রংপুর নগরীর ধাপ এলাকার আমানত আলী বলেন,এত মানুষের সঙ্গে একসাথে নামাজ আদায় করতে পেরে সত্যিই ভালো লেগেছে।”
এদিকে, ইজতেমা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ডিএস./














