মাদারীপুর সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগার’-এর উদ্যোগে ‘মেধা বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর সদর উপজেলার ঐতিহাসিক চরমুগুরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় মাদারীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫ম ও ৮ম শ্রেণির মোট ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য মোট ১০০ নম্বরের একটি পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছিল। যার মধ্যে বাংলা (২৫ নম্বর), ইংরেজি (২৫ নম্বর), গণিত (২৫ নম্বর) এবং সাধারণ জ্ঞান (২৫ নম্বর) অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তাধারার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন পাঠাগারের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি মো: ইব্রাহিম মিঞা বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং প্রতিযোগিতা মূলক মানসিকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ১৯৯১ সাল থেকে আমাদের এই পাঠাগার কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা সফলভাবে এই আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দিত। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে খুব শীঘ্রই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক বৃত্তি, সনদপত্র, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরীক্ষা শেষে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এমন আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য যে, জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগার দীর্ঘ দিন ধরে মাদারীপুর অঞ্চলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
ডিএস./


























