১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মো. সাদিকউর রহমান স্কলার, নীলফামারীঃ

নীলফামারীতে ওসির উদ্যোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা

নীলফামারীতে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় করেছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা।মুচলেকা দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করছেন তারা। ইতোমধ্যে ১৪জন মাদক ব্যবসায়ী এই পথ থেকে সরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন।স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় লালগোলাপ দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাজমুল আলম।

জলঢাকা থানা সুত্র জানায়, সম্প্রতি সাত দিনের সময় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের নোটিশ দেন ওসি নাজমুল আলম। পুলিশের তালিকায় জলঢাকা উপজেলায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা দেখানো হয় ৭৮জনের।

জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভবনচুর এলাকার সাফিউর রহমান(২৫) জানান, আমি ঘটনা চক্রে মাদকে আসক্ত হই এবং ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। সম্প্রতি ওসি স্যারের নির্দেশনায় এই পথ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে ওসি স্যারকে অঙ্গিকারনামা দিয়ে এই পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। স্যার আমাকে লালগোলাপ উপহার দেন। মাদক থেকে সরে আসা একই ইউনিয়নের ভবনচুর মরাতিস্তা এলাকার এনামুল হকের স্ত্রী রফিজা বেগম জানান, আমার স্বামী এখন থেকে আর পুর্বের জীবনে জরাবে না। সম্প্রতি ওসি স্যার মাদক ছেড়ে সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানান বাড়ি বাড়ি গিয়ে, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেন। তার পরামর্শে আমার স্বামী মাদকে জড়াবেন না বলে অঙ্গিকার নামা দিয়েছেন।

জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী জানান, এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা স্বাগত জানাই। কোন মানুষ যেন মাদকে আসক্ত না হয়। আমরা উপজেলাকে মাদক মুক্ত দেখতে চাই। আমরা প্রশাসনকে সবরকম সহযোগীতা করবো। জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাজমুল আলম বলেন, আমার লক্ষ্য জলঢাকা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর তালিকা করে তাদের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে মাদক ছাড়ার আহবান জানিয়ে আসি। সতর্কও করা হয় অন্যথায় কোন ছাড় নেই। আমার এই আহবানে সবাই সাড়া দিয়েছেন। ওসি বলেন, অঙ্গীকার নামা দিয়ে মাদকের পথ থেকে সরে আসছেন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবিরা। আমরা লালগোলাপ দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি থানায় আসাদের। পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, শুধু জলঢাকা নয় নীলফামারী জেলাকে আমরা মাদক মুক্ত করতে চাই। শুধু পুলিশের একার পক্ষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, সবাইকে পাশে থাকতে হবে। জলঢাকা দিয়ে শুরু পর্যায়ক্রমে সব থানায় এই কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিএস,.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান

মো. সাদিকউর রহমান স্কলার, নীলফামারীঃ

নীলফামারীতে ওসির উদ্যোগ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত : ১১:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীতে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় করেছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা।মুচলেকা দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করছেন তারা। ইতোমধ্যে ১৪জন মাদক ব্যবসায়ী এই পথ থেকে সরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন।স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় লালগোলাপ দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাজমুল আলম।

জলঢাকা থানা সুত্র জানায়, সম্প্রতি সাত দিনের সময় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের নোটিশ দেন ওসি নাজমুল আলম। পুলিশের তালিকায় জলঢাকা উপজেলায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা দেখানো হয় ৭৮জনের।

জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভবনচুর এলাকার সাফিউর রহমান(২৫) জানান, আমি ঘটনা চক্রে মাদকে আসক্ত হই এবং ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। সম্প্রতি ওসি স্যারের নির্দেশনায় এই পথ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে ওসি স্যারকে অঙ্গিকারনামা দিয়ে এই পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। স্যার আমাকে লালগোলাপ উপহার দেন। মাদক থেকে সরে আসা একই ইউনিয়নের ভবনচুর মরাতিস্তা এলাকার এনামুল হকের স্ত্রী রফিজা বেগম জানান, আমার স্বামী এখন থেকে আর পুর্বের জীবনে জরাবে না। সম্প্রতি ওসি স্যার মাদক ছেড়ে সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানান বাড়ি বাড়ি গিয়ে, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেন। তার পরামর্শে আমার স্বামী মাদকে জড়াবেন না বলে অঙ্গিকার নামা দিয়েছেন।

জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী জানান, এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা স্বাগত জানাই। কোন মানুষ যেন মাদকে আসক্ত না হয়। আমরা উপজেলাকে মাদক মুক্ত দেখতে চাই। আমরা প্রশাসনকে সবরকম সহযোগীতা করবো। জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাজমুল আলম বলেন, আমার লক্ষ্য জলঢাকা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর তালিকা করে তাদের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে মাদক ছাড়ার আহবান জানিয়ে আসি। সতর্কও করা হয় অন্যথায় কোন ছাড় নেই। আমার এই আহবানে সবাই সাড়া দিয়েছেন। ওসি বলেন, অঙ্গীকার নামা দিয়ে মাদকের পথ থেকে সরে আসছেন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবিরা। আমরা লালগোলাপ দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি থানায় আসাদের। পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, শুধু জলঢাকা নয় নীলফামারী জেলাকে আমরা মাদক মুক্ত করতে চাই। শুধু পুলিশের একার পক্ষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, সবাইকে পাশে থাকতে হবে। জলঢাকা দিয়ে শুরু পর্যায়ক্রমে সব থানায় এই কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিএস,.