গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া গ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাইরুল মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালেও তিনি আওড়াখালী বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুর জজকোর্টে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে দেওতলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তার নজরে আসে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা একটি টাকার বান্ডেল। সন্দেহবশত সিএনজি থামিয়ে নিচে নেমে তিনি বান্ডেলটি তুলে নেন। পরে গুনে দেখেন, সেটি এক হাজার টাকার নোটে গাঁথা মোট এক লাখ টাকা।
এমন বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার পরও তিনি কোনো দ্বিধা না করে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী তৈয়বুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানান। তিনি অনুরোধ করেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে টাকার বিষয়টি জানানো হয়। তার কথামতো গণমাধ্যমকর্মী তৈয়বুর নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে টাকা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টটি নজরে আসে কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়রম খানের ছেলে জামাল খানের। তিনি বুঝতে পারেন, সেটিই তার হারানো টাকা। দ্রুত গণমাধ্যমকর্মী তৈয়বুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি টাকার মালিকানা সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে আওড়াখালী বাজারে চিকিৎসক হেলালের চেম্বারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক লাখ টাকার বান্ডেলটি প্রকৃত মালিক জামাল খানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত জামাল খান জানান, তিনি বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার মার্তা গ্রামে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। গরুর দাম পরিশোধের সময় দেখতে পান, জ্যাকেটের পকেটে রাখা টাকার বান্ডেলটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন কোনো সন্ধান মিলছিল না, তখন হতাশ হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় তার ছোট ভাই হারুন ফেসবুকে টাকাপ্রাপ্তির পোস্টটি দেখে যোগাযোগ করেন। এর মাধ্যমেই তিনি তার হারানো টাকা ফিরে পান।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট খাইরুল বলেন, আমি শুধু আমার দায়িত্বটুকু পালন করেছি। রাস্তায় পাওয়া টাকা সঠিক মালিকের হাতে পৌঁছে দিতে পেরেছি-এটাই আমার শান্তি।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর সৎ মানুষের উদ্যোগ মিললে সমাজে মানবিকতার আলো এখনো নিভে যায়নি।
ডিএস./



















