০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
রংপুর মেডিকেল

অপারেশন থিয়েটারে হামলার প্রতিবাদে রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি (ধর্মঘট) শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি)সকাল থেকে তারা হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।এসময় তারা বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্ব।কিন্তু দিনের পর দিন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদমান মীর মিরাজ বলেন,“মঙ্গলবার মধ্য রাতে অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার চলাকালীন সময় রোগীর কয়েকজন স্বজন হঠাৎ করে সার্জারিতে নিয়োজিত মিড লেভেল চিকিৎসক,রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অপারেশন থিয়েটারের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”

তিনি আরও বলেন,“অপারেশন থিয়েটার একটি সংবেদনশীল ও জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে এ ধরনের হামলা শুধু চিকিৎসকদের নয়, রোগীর জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। আমরা বারবার নিরাপত্তার দাবি জানালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।”

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাঈম শাহরিয়ার বলেন, “চিকিৎসকরা রোগীর সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেন। অথচ বিনিময়ে তাদের বারবার হামলা, হুমকি ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি জানান, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন,দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে রোগী সেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে। তবে জরুরি বিভাগে সীমিত পরিসরে সেবা চালু রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ জানানো হয় অতিদ্রুত এর সমস্যার সমা্ধান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।তারা আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

 

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেরপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রংপুর মেডিকেল

অপারেশন থিয়েটারে হামলার প্রতিবাদে রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

প্রকাশিত : ০৪:২৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি (ধর্মঘট) শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি)সকাল থেকে তারা হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।এসময় তারা বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্ব।কিন্তু দিনের পর দিন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদমান মীর মিরাজ বলেন,“মঙ্গলবার মধ্য রাতে অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার চলাকালীন সময় রোগীর কয়েকজন স্বজন হঠাৎ করে সার্জারিতে নিয়োজিত মিড লেভেল চিকিৎসক,রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অপারেশন থিয়েটারের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”

তিনি আরও বলেন,“অপারেশন থিয়েটার একটি সংবেদনশীল ও জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে এ ধরনের হামলা শুধু চিকিৎসকদের নয়, রোগীর জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। আমরা বারবার নিরাপত্তার দাবি জানালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।”

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাঈম শাহরিয়ার বলেন, “চিকিৎসকরা রোগীর সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেন। অথচ বিনিময়ে তাদের বারবার হামলা, হুমকি ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি জানান, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন,দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে রোগী সেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে। তবে জরুরি বিভাগে সীমিত পরিসরে সেবা চালু রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ জানানো হয় অতিদ্রুত এর সমস্যার সমা্ধান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।তারা আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

 

ডিএস./