০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের আওতায় লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া

আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের আওতায় একটি লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের আয়োজনে আন্তর্জাতিক Ship and Port Facility Security (ISPS) Code অনুসারে এই লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ার উদ্বোধন ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ (জি), বিএসপি, পিএসসি, বিএন এবং পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, পিএসসি, ইবি।

ISPS কোড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মানদণ্ড, যার মূল উদ্দেশ্য জাহাজ ও বন্দর স্থাপনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নাশকতা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখা। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ ও অপ্রথাগত হুমকি প্রতিনিয়ত নতুন রূপ ধারণ করায় কেবল নীতিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক মহড়া ও ড্রিল পরিচালনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে আইএসপিএস কোড অনুসারে বিভিন্ন মহড়া আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যান্টি-টেররিজম বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই লাইভ মহড়ার আয়োজন করা হয়, যা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

মহড়ায় বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা স্তর–১, ২ ও ৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিল ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহতকরণ, যানবাহনভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা, অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক বস্তু ও বোমা হুমকিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, নদীপথে সন্দেহজনক নৌযান আটক এবং কন্টেইনার ইয়ার্ডে আত্মগোপনকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা।

এই মহড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ করে।

মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কুইক রেসপন্স টিমের কার্যকারিতা এবং আইনানুগভাবে আটক ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাস্তবভিত্তিকভাবে সফলভাবে প্রদর্শিত হয়।

মহড়ার সার্বিক মূল্যায়নে প্রতীয়মান হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম। ভবিষ্যতেও বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের আওতায় লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া

প্রকাশিত : ০২:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের আওতায় একটি লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের আয়োজনে আন্তর্জাতিক Ship and Port Facility Security (ISPS) Code অনুসারে এই লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ার উদ্বোধন ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ (জি), বিএসপি, পিএসসি, বিএন এবং পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, পিএসসি, ইবি।

ISPS কোড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মানদণ্ড, যার মূল উদ্দেশ্য জাহাজ ও বন্দর স্থাপনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নাশকতা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখা। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ ও অপ্রথাগত হুমকি প্রতিনিয়ত নতুন রূপ ধারণ করায় কেবল নীতিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক মহড়া ও ড্রিল পরিচালনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে আইএসপিএস কোড অনুসারে বিভিন্ন মহড়া আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যান্টি-টেররিজম বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই লাইভ মহড়ার আয়োজন করা হয়, যা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

মহড়ায় বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা স্তর–১, ২ ও ৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিল ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহতকরণ, যানবাহনভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা, অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক বস্তু ও বোমা হুমকিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, নদীপথে সন্দেহজনক নৌযান আটক এবং কন্টেইনার ইয়ার্ডে আত্মগোপনকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা।

এই মহড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ করে।

মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কুইক রেসপন্স টিমের কার্যকারিতা এবং আইনানুগভাবে আটক ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাস্তবভিত্তিকভাবে সফলভাবে প্রদর্শিত হয়।

মহড়ার সার্বিক মূল্যায়নে প্রতীয়মান হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম। ভবিষ্যতেও বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএস./