দীর্ঘ ২১ বছর পর আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐ দিন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি একদিন আগেই চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। এই মহাসমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন মহাসমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি মাঠের সার্বিক অবস্থা, মঞ্চ স্থাপন, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আয়োজকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান সঞ্চালনায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল। বীর চট্টলা থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জনসভা ২০১২ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় এবার বীর চট্টলায় আসছেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে আমাদের এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের এই সমাবেশ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। চট্টগ্রামে তারেক রহমানের মহাসমাবেশ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পলোগ্রাউন্ড মহাসমাবেশকে ঘিরে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনদুর্ভোগ এড়ানোর বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। মহাসমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সুশোভিত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যে সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন—এই খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নগর বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, সফরটি সাংগঠনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে নগর বিএনপির বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি ও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ডিএস./






















