০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে এখনও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অস্ত্র, নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। জব্দ হয়নি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্রও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিপজ্জনক এসব অস্ত্র এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাই নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের মনে শঙ্কা বাড়ছে।ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।

ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। জব্দ হয়নি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্রও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিপজ্জনক এসব অস্ত্র এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাই নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের মনে শঙ্কা বাড়ছে।জানা গেছে, ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে নির্বিচার গুলি চালায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে এই জেলায় মারা যায় অন্তত আটজন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থানা থেকে লুট হয় ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে ৫টি পিস্তল ও ২টি শটগান এখনও উদ্ধার হয়নি। ১৭ মাসেও হদিস মেলেনি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রের। জাতীয় নির্বাচনে এসব অস্ত্র বড় ঝুঁকি, বলছে দলগুলো।

ফেনী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এসব অস্ত্র দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেগুলো তো এখনও উদ্ধার করা হয়নি, আবার থানা থেকেও অস্ত্র লুট হয়ে গেছে। অতিসত্বর এসব অস্ত্র এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।’ ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী, কিন্তু আশঙ্কার জায়গা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। কারণ এখনও পর্যন্ত এখানে এজাহারভুক্ত সন্ত্রাসী যারা আছে বা অতীতেরও যারা সন্ত্রাসী আছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। লাইসেন্স করা মাত্র ৯৫টি অস্ত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমাদের থানা থেকে লুক হওয়া অস্ত্রগুলো এখনও কোনোভাবে জব্দ করা হয়নি।’ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং সাতটি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এ নিয়ে আমরা গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে ৪ আগস্টের ঘটনায় কিছু ফুটেজ আমরা দেখেছি। সেখানে অনেকগুলো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। এগুলো থেকে আমরা একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছি।’
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, দাবি প্রশাসনের।

ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, ‘জেলা পুলিশ, আর্মি এবং র‍্যাব যত অভিযান করছে আমরা এ বিষয়ে সচেতন আছি। এ বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আমাদের অভিযান আরও বেশি সফল হবে।’ লুট অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় সাধারণ মানুষ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশন থেকে গুলিসহ একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯

ফেনীতে এখনও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অস্ত্র, নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

প্রকাশিত : ০৪:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। জব্দ হয়নি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্রও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিপজ্জনক এসব অস্ত্র এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাই নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের মনে শঙ্কা বাড়ছে।ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।

ফেনীতে ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অনেক প্রাণঘাতী অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। জব্দ হয়নি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্রও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিপজ্জনক এসব অস্ত্র এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাই নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের মনে শঙ্কা বাড়ছে।জানা গেছে, ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে নির্বিচার গুলি চালায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে এই জেলায় মারা যায় অন্তত আটজন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থানা থেকে লুট হয় ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে ৫টি পিস্তল ও ২টি শটগান এখনও উদ্ধার হয়নি। ১৭ মাসেও হদিস মেলেনি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রের। জাতীয় নির্বাচনে এসব অস্ত্র বড় ঝুঁকি, বলছে দলগুলো।

ফেনী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এসব অস্ত্র দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেগুলো তো এখনও উদ্ধার করা হয়নি, আবার থানা থেকেও অস্ত্র লুট হয়ে গেছে। অতিসত্বর এসব অস্ত্র এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।’ ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী, কিন্তু আশঙ্কার জায়গা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। কারণ এখনও পর্যন্ত এখানে এজাহারভুক্ত সন্ত্রাসী যারা আছে বা অতীতেরও যারা সন্ত্রাসী আছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। লাইসেন্স করা মাত্র ৯৫টি অস্ত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমাদের থানা থেকে লুক হওয়া অস্ত্রগুলো এখনও কোনোভাবে জব্দ করা হয়নি।’ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং সাতটি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এ নিয়ে আমরা গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে ৪ আগস্টের ঘটনায় কিছু ফুটেজ আমরা দেখেছি। সেখানে অনেকগুলো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। এগুলো থেকে আমরা একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছি।’
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, দাবি প্রশাসনের।

ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, ‘জেলা পুলিশ, আর্মি এবং র‍্যাব যত অভিযান করছে আমরা এ বিষয়ে সচেতন আছি। এ বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আমাদের অভিযান আরও বেশি সফল হবে।’ লুট অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় সাধারণ মানুষ।

ডিএস./