০৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

“জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া নিয়োগ বোর্ডের অভিযোগে লালমোহনের মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে শোকজ, এমপিও সাময়িক স্থগিত”

ভোলার লালমোহনের ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মুসলিমিয়া আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে একজন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া চিঠি প্রস্তুত, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং জাল ফলাফল শিট তৈরি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কেন তাঁর এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই আদেশে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি জুন-২০২৬ মাসের এমপিও আবেদন যাচাইয়ের সময় বিষয়টি শনাক্ত করে। ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে মো. সাকিল নামে এক ব্যক্তিকে নতুন এমপিওভুক্ত করার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।

আবেদন যাচাই করতে গিয়ে কমিটি দেখতে পায়, নিয়োগ কার্যক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির নামে সম্পূর্ণ ভুয়া চিঠি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জাল নিয়োগ বোর্ড গঠন, ভুয়া ফলাফল বিবরণী তৈরি এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর নকল করারও প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) ধারা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরী (ইনডেক্স নং: B367661)-এর এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে।এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্যবিজ্ঞান) পদে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এমপিও তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়া হয় এবং তখনও অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তদ্বির ছাড়া বিল পাঠালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি দেখা যাক কী হয়। ডিজি প্রতিনিধির স্মারক নম্বর তো রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি আমরা চ্যালেঞ্জ করব।”

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর একেএম খায়রুল কবির বলেন, “এই নিয়োগ কার্যক্রমটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমি দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সময়ের স্বল্পতায় একার পক্ষে প্রতিটি ফাইল বিস্তারিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনো অফিসিয়ালি কোনো চিঠি হাতে পাইনি।”

ডিএস./

ট্যাগ :

“জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া নিয়োগ বোর্ডের অভিযোগে লালমোহনের মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে শোকজ, এমপিও সাময়িক স্থগিত”

“জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া নিয়োগ বোর্ডের অভিযোগে লালমোহনের মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে শোকজ, এমপিও সাময়িক স্থগিত”

প্রকাশিত : ০৫:২১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভোলার লালমোহনের ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মুসলিমিয়া আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে একজন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া চিঠি প্রস্তুত, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং জাল ফলাফল শিট তৈরি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কেন তাঁর এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই আদেশে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি জুন-২০২৬ মাসের এমপিও আবেদন যাচাইয়ের সময় বিষয়টি শনাক্ত করে। ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে মো. সাকিল নামে এক ব্যক্তিকে নতুন এমপিওভুক্ত করার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল।

আবেদন যাচাই করতে গিয়ে কমিটি দেখতে পায়, নিয়োগ কার্যক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির নামে সম্পূর্ণ ভুয়া চিঠি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জাল নিয়োগ বোর্ড গঠন, ভুয়া ফলাফল বিবরণী তৈরি এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর নকল করারও প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) ধারা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরী (ইনডেক্স নং: B367661)-এর এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে।এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্যবিজ্ঞান) পদে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এমপিও তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়া হয় এবং তখনও অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তদ্বির ছাড়া বিল পাঠালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি দেখা যাক কী হয়। ডিজি প্রতিনিধির স্মারক নম্বর তো রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি আমরা চ্যালেঞ্জ করব।”

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর একেএম খায়রুল কবির বলেন, “এই নিয়োগ কার্যক্রমটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমি দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সময়ের স্বল্পতায় একার পক্ষে প্রতিটি ফাইল বিস্তারিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনো অফিসিয়ালি কোনো চিঠি হাতে পাইনি।”

ডিএস./