ফলে দেড়শো বছরের পুরনো উত্তরের জেলা পাবনা পায়নি কাঙ্খিত উন্নয়নের ছোয়া। স্বাধীনতার পর সদর আসন কখনোই পূর্ণ মন্ত্রী না পাওয়ায় একবারেই অবহেলিত এই পুরনো জেলা শহর। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের জয়ে এবার আশার আলো দেখছেন পাবনাবাসী। যোগ্যতার মাপকাঠিতে শিমুল বিশ্বাসকে সেরা দাবি করে পাবনার উন্নয়নে তাকে মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে পাবনার সব মহলে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৮২৮ সালে জেলা হিসেবে মর্যাদা পায় পাবনা। এই জেলায় পাবনা মানসিক হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যমন্ডিত প্রতিষ্ঠান থাকলেও উন্নয়নে একেবারে তলানিতে রয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জেলা সদরে হয়নি তেমন উন্নয়ন। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রসারতা না থাকায় কর্মসংস্থানের অভাব, অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিম্নমান সহ নানাভাবে পিছিয়ে পাবনা। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল থাকলেও সেটির দশাও বেহাল। জনবল ও বরাদ্দ সংকটে ধুকে ধুকে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। একইভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে ২৮ লাখ লোকের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পাবনা জেনারেল হাসপাতাল। একটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় থাকলেও প্রয়োজনীয় চাহিদার অভাবে নিম্নমূখী শিক্ষা স্তর। নানামুখী জরাজীর্ণতায় যেনো বার্ধক্যে ভূগছে প্রাচীন এই জেলা। এই জরাজীর্ণতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় উন্নয়নে আধুনিক সুযোগ সুবিধার নগরী হিসেবে পরিচিতি পেতে চান পাবনাবাসী। তাই নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দক্ষতায় পূর্ণ প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান তারা।
বিএনপি কর্মী সমর্থকরা বলছেন, শিমুল বিশ্বাসের রাজনীতির দর্শন হচ্ছে – উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে যাওয়া। তিনি মানুষের যাতায়াত, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন। বিভিন্নভাবে তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে তিনি দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতায় লাভজনক অবস্থানে নিয়ে আসেন। তাঁর উদ্যোগে পাবনা থেকে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে নতুন দিগন্ত। নৌপথ ও ফেরিঘাট সংস্কারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখ করার মত। ১৯৯৯ সালে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলার মধ্যেও তিনি তাঁর বিশ্বাস ও কর্মপন্থা থেকে বিচ্যুত হননি ।
রাজনীতির বাইরে আঞ্চলিকভাবে তিনি একজন মানবসেবক। নিজের পরিবারের নামে “আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস মানব কল্যাণ ট্রাস্ট” প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। নিজেদের দান করা প্রায় ১১০ একর জমিতে এ ট্রাস্টের আওতায় গড়ে তুলেছেন- স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, কারিগরি কলেজ, পাঠাগার ও এতিমখানা। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ টিরও বেশি গৃহহীন পরিবার পেয়েছে আশ্রয়, ৩ হাজারের বেশি মানুষ পেয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। তিনি ১১০টিরও বেশি মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক জীবনে তিনি পরিবহণ খাত ও রাজনৈতিক পরিসরে উদ্ভুত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। ফলে পাবনায় বিএনপির বিভাজনের রাজনীতিতে ঐক্যের ডাক এসেছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সদর আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে। পাবনার উন্নয়নে তাকে মন্ত্রী হিসেবে প্রয়োজন।
এব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সেলিম সরদার বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধের একটি অবাধ নির্বাচনের দাবিতে যখন আন্দোলন চলছিলো। তখন পাবনার বিএনপিতে বিভাজনের রাজনীতি। এসময় তিনি সমন্বয়ক হয়ে আন্দোলনের গতি বাড়াতে হাল ধরেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় অনৈক্য দেখা গেছে। কিন্তু শিমুল বিশ^াসকে মনোনয়ন দেবার পর তিনি সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে ধানের শীষকে বিজয়ী করেছেন। তিনি অবশ্যই মন্ত্রীত্ব অধিকার করেন।
পাবনা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাশার খান জুয়েল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাবনা সদর আসনে মন্ত্রীত্ব পাওয়ার মত তেমন যোগ্য নেতা পাইনি, মন্ত্রীও পাইনি। ফলে এতো পুরনো একটা জেলা হওয়া সত্ত্বেও অবহেলিত জেলা শহর। জোটের কারণে এই আসনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারলেও এবার দলমত নির্বিশেষে শিমুল বিশ্বাসে সবাই আস্থা রেখেছে। দীর্ঘদিন আসনে মন্ত্রী না পাবার আক্ষেপ এবার ঘুচুক। শিমুল বিশ^াসকে মন্ত্রী দেখতে চাই।
এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, মানবিকবোধ ও ব্যক্তিত্বের কারণে সব দলমতের মানুষের কাছে শিমুল বিশ্বাসের ভিন্ন রকমের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি মন্ত্রীত্ব অধিকার করেন।
পাবনা মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসনে রেয়ন বলেন, বিগত সময়ে পরিবহন খাতে যা সমস্যা নিয়ে আমরা তার দারস্থ হয়েছি। তিনি তা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সমাধার করেছেন। তিনি মন্ত্রী হলে পাবনার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, পদ পদবীর প্রত্যাশায় আমি রাজনীতি করি না। দলমত নির্বিশেষে পাবনার মানুষ আমাকে আস্থার আসনে বসিয়েছেন। জীবনের শেষ অবধি এই আস্থা রক্ষায় কাজ করে যাবো।



















