দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অন্যতম কেন্দ্র পটুয়াখালী লঞ্চঘাট বর্তমানে তীব্র নাব্যতা সংকটে পড়েছে। লোহালিয়া নদী-তে পলি জমে বিভিন্ন স্থানে বালুচর জেগে ওঠায় স্বাভাবিক লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে লঞ্চ প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে, ফলে যাত্রী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটের পল্টনের সামনের বড় অংশজুড়ে চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় তা পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। এ কারণে লঞ্চগুলোকে পল্টনের একেবারে শেষ প্রান্তের তুলনামূলক গভীর পানির অংশে নোঙর করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় থেকে ৬০-৭০ ফুট পর্যন্ত পানি না থাকায় ছোট নৌযানও চরে আটকে পড়ছে।
সীমিত পরিসরে ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও পুরো নদীতে টেকসই নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে তা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। লঞ্চচালকরা জানান, ভাটার সময় চলাচল করলে মাঝনদীতে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় জোয়ারের পানির জন্য।
এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে সময় ও জ্বালানি ব্যয়। ঘাটসংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বলছেন, আগে যেখানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ও মালামাল পরিবহন হতো, এখন তা অনেক কমে গেছে। ফলে তাদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, নাব্যতা সংকটের কারণে নৌপথে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেজিং ও নদী খননের মাধ্যমে আগের অবস্থায় নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, নদীর স্রোত কমে যাওয়ায় পলি জমছে। বর্তমানে নৌযান চলাচলের চ্যানেল সচল রাখতে ২৫০ ফুট প্রস্থ ধরে ড্রেজিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধারাবাহিক খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ডিএস,.



















