০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ভূয়া নথিতে কন্টেইনার পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ, গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার

ভূয়া নথিপত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কন্টেইনার পাচারের চেষ্টার ঘটনা উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, কন্টেইনার নম্বর HMMU-4175990X40Õ, যার এজেন্ট কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, রোটেশন নম্বর-২৫/৩৮৭১ এবং ভেসেল ‘স্বদেশী চিটাগাং’। উক্ত কন্টেইনারের আমদানিকারক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ফাহিম এটেয়ার এন্ড কম্পোজিট লিমিটেডের নাম।

গত ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ ভোররাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে জে এস ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের ভূয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেইট পাস ব্যবহার করে কন্টেইনারটি এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে একটি ট্রেইলারে (নম্বর: চট্টমেট্রো-ঢ-৮১-২৩৬৪) লোড করে সিপিএআর গেইট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন বারনীঘাট এলাকায় শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশের বিএমডি সাইফুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামক একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। বন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ট্রেইলারসহ কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
“ভূয়া নথি ব্যবহার করে কন্টেইনার পাচারের এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিয়ে কন্টেইনারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও জানান,“এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।”
এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তৎপরতায় বড় ধরনের পাচারচেষ্টা নস্যাৎ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারী’কে গ্রেফতার করেছে: সিটিটিসি

চট্টগ্রাম বন্দরে ভূয়া নথিতে কন্টেইনার পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ, গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার

প্রকাশিত : ০৪:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ভূয়া নথিপত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কন্টেইনার পাচারের চেষ্টার ঘটনা উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, কন্টেইনার নম্বর HMMU-4175990X40Õ, যার এজেন্ট কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, রোটেশন নম্বর-২৫/৩৮৭১ এবং ভেসেল ‘স্বদেশী চিটাগাং’। উক্ত কন্টেইনারের আমদানিকারক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ফাহিম এটেয়ার এন্ড কম্পোজিট লিমিটেডের নাম।

গত ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ ভোররাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে জে এস ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের ভূয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেইট পাস ব্যবহার করে কন্টেইনারটি এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে একটি ট্রেইলারে (নম্বর: চট্টমেট্রো-ঢ-৮১-২৩৬৪) লোড করে সিপিএআর গেইট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন বারনীঘাট এলাকায় শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশের বিএমডি সাইফুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামক একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। বন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ট্রেইলারসহ কন্টেইনারটি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
“ভূয়া নথি ব্যবহার করে কন্টেইনার পাচারের এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিয়ে কন্টেইনারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও জানান,“এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।”
এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তৎপরতায় বড় ধরনের পাচারচেষ্টা নস্যাৎ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ডিএস./