০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে ডিসি পার্কে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। প্রথম ধাপে পার্কে ৫৪ প্রজাতির দুই হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ শেষে উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, এই ১০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি সেই বৃহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, একটি গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ডিসি পার্ককে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

তিনি বলেন, ডিসি পার্কের উত্তর পাশের পুরাটাই অংশে আমরা ফলের বাগান করতে চাই। যাতে পাখির একটা অভয়াশ্রম হয় এবং পাখিরা যাতে আসে। মানুষ যারা এই ডিসি পার্কে আসবে তারাও যাতে সেভাবে সেগুলো উপভোগ করতে পারে। শুধু আমাদের ন্যাচারাল যে বিউটি সেটা থাকবে না। আমাদের প্রাকৃতিক যে সৌন্দর্য, বাংলাদেশ যে একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ সেটিও আমরা এই পার্কের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আপনারা দেখেছেন, এখানে আসার পরে যে এত সুন্দর বাতাস। একদম এই বাতাসে আমাদের এখনকার পরিবেশের যে অবস্থা, সেখানে যে পরিমাণের দূষণ, সেই দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষকে তার স্বাস্থ্যের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য এবং একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল মানুষ খুঁজে। মানুষের নিরাপদ জায়গা নেই, সেই নিরাপদ জায়গায় তারা যেন সুন্দরভাবে সারাদিন এবং তাদের পরিবার নিয়ে যেন এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেই একটা জায়গা আমরা ডিসি পার্কে নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় এবং সমুদ্রে ঘেরা এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে সীতাকুণ্ড উপজেলা। একটি সময় এই উপজেলা কেবলমাত্র আমরা আসছি বেকিং ইন্ডাস্ট্রি। সেগুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। আমরা যখন ছোটবেলায় এটি শুনেছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই সীতাকুণ্ডের পরিসর, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পরিসর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে এখন ঝর্ণা, গুলিয়াখালী বীচ ও ডিসি পার্ক যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে একটি চমৎকার কাজ হয়েছে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, সীতাকুণ্ডের একটি স্থান জঙ্গল সলিমপুর, সেই জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা এখন সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। সেখানে যে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল সেটিকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এখন জঙ্গল সলিমপুরে সরকার সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করে একটি বসবাস যোগ্য নগরে পরিণত করার জন্য সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরে আর কখনো কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। জঙ্গল সলিমপুরকে একটি আধুনিক ও প্লান করে সাজানো রুপরেখা দাঁড় করিয়ে ফেলেছি এবং সেখানে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সবচেয়ে যে বড় কথা সেটি হচ্ছে সেখানে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানুষের সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং মানুষের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করে সেখানে অনেকগুলো অনুমোদনও পেয়ে গিয়েছি এবং আমরা বিশ্বাস করি জঙ্গল সলিমপুরের মানুষ তারা অচিরেই সেগুলোর সুফল ভোগ করতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের ডিসি পার্কের ফুল উৎসব থেকে শুরু করে জঙ্গল সলিমপুরে যে অভিযান পরিচালনা হয়েছে সেখানে সীতাকুণ্ডের মিডিয়া যেভাবে আমাদেরকে সহায়তা করেছে এজন্য সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের সকল প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সবাইকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারাই এই সীতাকুণ্ডকে সুন্দরভাবে দেশের কাছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটিয়ে তুলেছেন। এজন্য সকল কৃতিত্বের দাবি আপনাদের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সহকারী কমিশনার (ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদ হাসান, সহকারী কমিশনার (ট্রেজারি শাখা, সাধারণ শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফাহমুন নবী, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের আহবায়ক মোঃ জহিরুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব সুলাইমান মেহেদী হাসান।

ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কেরানীগঞ্জের গ্যাসলাইট কারখানায় আগুনে নিহত ৫

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

প্রকাশিত : ০৫:০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে ডিসি পার্কে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। প্রথম ধাপে পার্কে ৫৪ প্রজাতির দুই হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ শেষে উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, এই ১০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি সেই বৃহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, একটি গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ডিসি পার্ককে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

তিনি বলেন, ডিসি পার্কের উত্তর পাশের পুরাটাই অংশে আমরা ফলের বাগান করতে চাই। যাতে পাখির একটা অভয়াশ্রম হয় এবং পাখিরা যাতে আসে। মানুষ যারা এই ডিসি পার্কে আসবে তারাও যাতে সেভাবে সেগুলো উপভোগ করতে পারে। শুধু আমাদের ন্যাচারাল যে বিউটি সেটা থাকবে না। আমাদের প্রাকৃতিক যে সৌন্দর্য, বাংলাদেশ যে একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ সেটিও আমরা এই পার্কের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আপনারা দেখেছেন, এখানে আসার পরে যে এত সুন্দর বাতাস। একদম এই বাতাসে আমাদের এখনকার পরিবেশের যে অবস্থা, সেখানে যে পরিমাণের দূষণ, সেই দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষকে তার স্বাস্থ্যের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য এবং একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল মানুষ খুঁজে। মানুষের নিরাপদ জায়গা নেই, সেই নিরাপদ জায়গায় তারা যেন সুন্দরভাবে সারাদিন এবং তাদের পরিবার নিয়ে যেন এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেই একটা জায়গা আমরা ডিসি পার্কে নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় এবং সমুদ্রে ঘেরা এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে সীতাকুণ্ড উপজেলা। একটি সময় এই উপজেলা কেবলমাত্র আমরা আসছি বেকিং ইন্ডাস্ট্রি। সেগুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। আমরা যখন ছোটবেলায় এটি শুনেছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই সীতাকুণ্ডের পরিসর, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পরিসর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে এখন ঝর্ণা, গুলিয়াখালী বীচ ও ডিসি পার্ক যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে একটি চমৎকার কাজ হয়েছে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, সীতাকুণ্ডের একটি স্থান জঙ্গল সলিমপুর, সেই জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা এখন সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। সেখানে যে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল সেটিকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এখন জঙ্গল সলিমপুরে সরকার সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করে একটি বসবাস যোগ্য নগরে পরিণত করার জন্য সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরে আর কখনো কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। জঙ্গল সলিমপুরকে একটি আধুনিক ও প্লান করে সাজানো রুপরেখা দাঁড় করিয়ে ফেলেছি এবং সেখানে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সবচেয়ে যে বড় কথা সেটি হচ্ছে সেখানে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানুষের সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং মানুষের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করে সেখানে অনেকগুলো অনুমোদনও পেয়ে গিয়েছি এবং আমরা বিশ্বাস করি জঙ্গল সলিমপুরের মানুষ তারা অচিরেই সেগুলোর সুফল ভোগ করতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের ডিসি পার্কের ফুল উৎসব থেকে শুরু করে জঙ্গল সলিমপুরে যে অভিযান পরিচালনা হয়েছে সেখানে সীতাকুণ্ডের মিডিয়া যেভাবে আমাদেরকে সহায়তা করেছে এজন্য সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের সকল প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সবাইকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারাই এই সীতাকুণ্ডকে সুন্দরভাবে দেশের কাছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটিয়ে তুলেছেন। এজন্য সকল কৃতিত্বের দাবি আপনাদের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সহকারী কমিশনার (ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদ হাসান, সহকারী কমিশনার (ট্রেজারি শাখা, সাধারণ শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফাহমুন নবী, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের আহবায়ক মোঃ জহিরুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব সুলাইমান মেহেদী হাসান।

ডিএস