নওগাঁর আলোচিত “রকি বাহিনী”র প্রধান সাকলাইন মাহমুদ রকি অবশেষে কারাগারে গেছেন। হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিমের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর নওগাঁ শহরের চকএনায়েত এলাকায় বালু ব্যবসায়ী হাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রকি বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় ১৮ নভেম্বর নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাবেক এমপি সেলিম, তার ছেলে সাকলাইন মাহমুদ রকি, পরিবারের আরও সদস্য এবং সহযোগীদের আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ সাবেক এমপি সেলিম, তার ছেলে রকি এবং রকির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এমরান আলী শামীমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে দীর্ঘদিন তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বালু মহাল দখল, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলাসহ নানা অভিযোগে রকি ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী গড়ে তোলে, যা স্থানীয়ভাবে “রকি বাহিনী” নামে পরিচিত।
এদিকে, বালু ব্যবসা কেন্দ্রিক আর্থিক বিরোধের জেরে হাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। পাওনা অর্থ নিয়ে দ্বন্দ্বই এই সহিংসতার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, “সাবেক এমপি সেলিমের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
রকির কারাগারে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
ডিএস./




















