০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ,রংপুরে শুরু হচ্ছে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। ১৪ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নগরীর প্রায় ৭৯ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার(১৯ এপ্রিল)দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের হল রুমে এ তথ্য জানান প্রশাসক।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়,এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩৩টি ওয়ার্ডে ২৮০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।যাতে করে নির্ধারিত৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পযন্ত বয়সসীমার কোনো শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম ও রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রংপুরে এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান এবনে তাজ বলেন, “হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আমরা পরিকল্পিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যাতে করে নগরীর প্রতিটি শিশু টিকার আওতায় আসে। টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা বা ঘাটতি রাখা হবে না।”

তিনি আরও বলেন,“টিকাদান পরবর্তী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।”

এদিকে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী জানান,“শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমরা চাই, নগরীর কোনো শিশুই যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,“অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া এই কর্মসূচি সফল করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে এগিয়ে এসে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।”

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ,রংপুরে শুরু হচ্ছে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত : ০৪:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। ১৪ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নগরীর প্রায় ৭৯ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার(১৯ এপ্রিল)দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের হল রুমে এ তথ্য জানান প্রশাসক।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়,এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩৩টি ওয়ার্ডে ২৮০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।যাতে করে নির্ধারিত৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পযন্ত বয়সসীমার কোনো শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম ও রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রংপুরে এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান এবনে তাজ বলেন, “হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আমরা পরিকল্পিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যাতে করে নগরীর প্রতিটি শিশু টিকার আওতায় আসে। টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা বা ঘাটতি রাখা হবে না।”

তিনি আরও বলেন,“টিকাদান পরবর্তী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।”

এদিকে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী জানান,“শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমরা চাই, নগরীর কোনো শিশুই যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,“অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া এই কর্মসূচি সফল করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে এগিয়ে এসে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।”

ডিএস./