চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ঢেমশা, ছদাহা, নলুয়া, আমিলাইষ, কাঞ্চনা, ধর্মপুর, পুরানগড় ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ বছর ধানের ফলন আশানুরূপ হওয়ায় খুশি কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কৃষককে সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে আবাদ হলেও এ বছর ফলন তুলনামূলক বেশি হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কোথাও কৃষকরা জমি থেকে ধান কাটছেন, আবার কোথাও কাটা ধান ঘরে তুলছেন। বৈশাখ মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে।
তবে ঢেমশা ইউনিয়নের কিছু এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার কারণে পার্শ্ববর্তী জমির ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কিছু কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর বাইরে অধিকাংশ এলাকায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষক আবদুল খালেক জানান, তিনি চলতি মৌসুমে চার কানি জমিতে বোরো চাষ করেছেন। হাইব্রিড ও উপশী জাতের ধানে ভালো ফলন পেয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর কৃষকরা ভালো লাভবান হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলায় পুরোদমে ধান কর্তন চলছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১০১, ১০২, ১০৭ ও ১০৮ জাতের ধানে ভালো ফলন পাওয়া গেছে, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সামগ্রিকভাবে অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বছর সাতকানিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএস./



















