০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
"বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের শোক"

কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকারের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের (বড়বাড়ি) নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। শহীদ সরকার ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

‎সে মাটিকাটা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে আইপিএসের বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন শহীদ। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

‎কিছুক্ষণ পর বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই বাড়িতে নেমে আসে আতঙ্ক। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদ সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎যে তরুণ সন্ধ্যায় নিজের হাতে ঘরের বৈদ্যুতিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছিলেন, কয়েক মিনিট পর সেই তরুণের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে স্বজনদের। একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, স্বজনদের আশা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের এক তরুণ কর্মীর পথচলা।

শুক্রবার (১৪আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় মাটিকাটা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।

‎শহীদ সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক ছুঁয়ে গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।

মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন-এমন দোয়া করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ সরকার ছিলেন রাজপথের সক্রিয় ও উদ্যমী তরুণ সংগঠক। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্রদল হারিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাকে।

‎কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও আপনজন।

‎একটি আইপিএসের ত্রুটি সারাতে গিয়ে আর ফিরলেন না শহীদ। সন্ধ্যার যে মুহূর্তে তিনি জীবনের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই মুহূর্তই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত।

এব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করে পরিবারের নিকট ছাত্রদল নেতার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ডিএস./

ট্যাগ :

চট্টগ্রামে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে মৃত্যু বেড়ে ৮

"বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের শোক"

কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকারের মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৪:১৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা শহীদ সরকার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের (বড়বাড়ি) নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। শহীদ সরকার ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

‎সে মাটিকাটা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে আইপিএসের বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন শহীদ। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

‎কিছুক্ষণ পর বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই বাড়িতে নেমে আসে আতঙ্ক। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদ সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎যে তরুণ সন্ধ্যায় নিজের হাতে ঘরের বৈদ্যুতিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছিলেন, কয়েক মিনিট পর সেই তরুণের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে স্বজনদের। একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, স্বজনদের আশা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের এক তরুণ কর্মীর পথচলা।

শুক্রবার (১৪আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় মাটিকাটা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।

‎শহীদ সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক ছুঁয়ে গেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।

মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন-এমন দোয়া করেছেন এলাকাবাসী।

‎স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ সরকার ছিলেন রাজপথের সক্রিয় ও উদ্যমী তরুণ সংগঠক। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্রদল হারিয়েছে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাকে।

‎কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও আপনজন।

‎একটি আইপিএসের ত্রুটি সারাতে গিয়ে আর ফিরলেন না শহীদ। সন্ধ্যার যে মুহূর্তে তিনি জীবনের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই মুহূর্তই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত।

এব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করে পরিবারের নিকট ছাত্রদল নেতার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ডিএস./