০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটে চাপে বাংলাদেশ, বাড়ছে পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উদ্বেগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমে যাচ্ছে স্থানীয়দের কর্ম

Oplus_2228224

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমে যাচ্ছে স্থানীয়দের কর্ম । এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে বিভিন্ন সমস্যা,মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এখন দেশের জন্য বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রোহিঙ্গারা প্রথম বড় আকারে বাংলাদেশে আসে ১৯৭৮ সালে। এরপর ১৯৯১-৯২ সালে আবার বড় একটি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে সবচেয়ে বড় ঢল নামে ২০১৭ সালের আগস্টে। ওই সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারা আগের বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কক্সবাজারে বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ১২ লাখ ১৭১ জন।এর মধ্যে—কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে: ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫২ জন,ভাসানচরে: ৩৩ হাজার ৮১৯ জন মোট: ১২ লাখ ১৭১ জন।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রায় ১২ লাখ মানুষের একটি দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে।

রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ব্যাপক জায়গা ব্যবহার করতে হয়েছে। বসতি স্থাপনের জন্য বনভূমি পরিষ্কার, পাহাড় কাটা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এই সংকটের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিবেদনে ক্যাম্পে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা উঠে এসেছে।

এতে শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নয়, আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সরকারের নীতিতে রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এর সাম্প্রতিক উদাহরণও রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের দোহাজারী এলাকায় ৩৪৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়, যাদের পুলিশ ও প্রশাসন কক্সবাজারের নির্ধারিত ক্যাম্প থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে আসা রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করে। সাতকানিয়ায় ইট ভাটা থেকেও রোহিঙ্গা আটক হয়েছিল,

২০২৫ সালেও ভাসানচর থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রামে আসা ৩৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে আটক করা হয়েছিল বেশ কিছু রোহিঙ্গা। অনেক রোহিঙ্গা নারী বাংলাদেশীদের বিয়ে করছেন আবার অনেক রোহিঙ্গা পুরুষ বাংলাদেশী মেয়েদের বিয়ে করেছেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, অনুসন্ধানে জানা,যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ শিশু ও তরুণ। ফলে আগামী বছরগুলোতে তাদের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। UNHCR-এর বাংলাদেশ কৌশলপত্রে ২০২৯ সালের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর অর্থ হলো শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা করলেই হবে না; ভবিষ্যতের জন্যও বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ বছরের পর বছর মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার আটকে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশকে একদিকে বিপুল জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর তৈরি হওয়া চাপও সামলাতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয় এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ, অর্থনীতি, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা ও কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট। বাংলাদেশ মানবিকতার কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয়। কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জনগণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ না বাড়িয়ে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিই হতে পারে এই সংকটের টেকসই সমাধান।

এদিকে ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

গত ২০ আগস্ট ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করার সময় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলে সন্দেহ হয়। পরে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা তাদের আটক করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা রোহিঙ্গা বলে শনাক্ত হয়েছে বলে আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে তাদের ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান কিছুদিন যাবত দেখা যাচ্ছে বেশ রোহিঙ্গার উপস্থিতি, তারা সাতকানিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে অনেক রোহিঙ্গা, এদের কারণে একসময় অনেক সমস্যায় পড়বে স্থানীয়রা। দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সাতকানিয়ায় দিন দিন রোহিঙ্গা বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, কয়েক মাস আগে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, তারা আবারও ক্যাম্প থেকে বিভিন্নভাবে বের হয়ে সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আসছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেহেতু ক্যাম্প থেকেই বের হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা বা আশ্রয় ছাড়া তাদের পক্ষে ক্যাম্পের বাইরে এসে বসবাস করা কীভাবে সম্ভবএ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, সাতকানিয়ার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সামাজিকভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় জনগণ যদি নিজ নিজ এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ না দেয় এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়, তাহলে রোহিঙ্গাদের অবাধে ছড়িয়ে পড়া অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে সাতকানিয়াকে রোহিঙ্গামুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ডিএস/

 

ট্যাগ :

রোহিঙ্গা সংকটে চাপে বাংলাদেশ, বাড়ছে পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উদ্বেগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমে যাচ্ছে স্থানীয়দের কর্ম

প্রকাশিত : ০১:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমে যাচ্ছে স্থানীয়দের কর্ম । এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে বিভিন্ন সমস্যা,মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এখন দেশের জন্য বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রোহিঙ্গারা প্রথম বড় আকারে বাংলাদেশে আসে ১৯৭৮ সালে। এরপর ১৯৯১-৯২ সালে আবার বড় একটি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে সবচেয়ে বড় ঢল নামে ২০১৭ সালের আগস্টে। ওই সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারা আগের বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কক্সবাজারে বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ১২ লাখ ১৭১ জন।এর মধ্যে—কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে: ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫২ জন,ভাসানচরে: ৩৩ হাজার ৮১৯ জন মোট: ১২ লাখ ১৭১ জন।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রায় ১২ লাখ মানুষের একটি দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে।

রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ব্যাপক জায়গা ব্যবহার করতে হয়েছে। বসতি স্থাপনের জন্য বনভূমি পরিষ্কার, পাহাড় কাটা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এই সংকটের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিবেদনে ক্যাম্পে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা উঠে এসেছে।

এতে শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নয়, আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সরকারের নীতিতে রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এর সাম্প্রতিক উদাহরণও রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের দোহাজারী এলাকায় ৩৪৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়, যাদের পুলিশ ও প্রশাসন কক্সবাজারের নির্ধারিত ক্যাম্প থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে আসা রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করে। সাতকানিয়ায় ইট ভাটা থেকেও রোহিঙ্গা আটক হয়েছিল,

২০২৫ সালেও ভাসানচর থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রামে আসা ৩৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে আটক করা হয়েছিল বেশ কিছু রোহিঙ্গা। অনেক রোহিঙ্গা নারী বাংলাদেশীদের বিয়ে করছেন আবার অনেক রোহিঙ্গা পুরুষ বাংলাদেশী মেয়েদের বিয়ে করেছেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, অনুসন্ধানে জানা,যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ শিশু ও তরুণ। ফলে আগামী বছরগুলোতে তাদের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। UNHCR-এর বাংলাদেশ কৌশলপত্রে ২০২৯ সালের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর অর্থ হলো শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা করলেই হবে না; ভবিষ্যতের জন্যও বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ বছরের পর বছর মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার আটকে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশকে একদিকে বিপুল জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর তৈরি হওয়া চাপও সামলাতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয় এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ, অর্থনীতি, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা ও কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট। বাংলাদেশ মানবিকতার কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয়। কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জনগণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ না বাড়িয়ে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিই হতে পারে এই সংকটের টেকসই সমাধান।

এদিকে ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

গত ২০ আগস্ট ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করার সময় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলে সন্দেহ হয়। পরে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা তাদের আটক করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা রোহিঙ্গা বলে শনাক্ত হয়েছে বলে আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে তাদের ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান কিছুদিন যাবত দেখা যাচ্ছে বেশ রোহিঙ্গার উপস্থিতি, তারা সাতকানিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে অনেক রোহিঙ্গা, এদের কারণে একসময় অনেক সমস্যায় পড়বে স্থানীয়রা। দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সাতকানিয়ায় দিন দিন রোহিঙ্গা বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, কয়েক মাস আগে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, তারা আবারও ক্যাম্প থেকে বিভিন্নভাবে বের হয়ে সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আসছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেহেতু ক্যাম্প থেকেই বের হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা বা আশ্রয় ছাড়া তাদের পক্ষে ক্যাম্পের বাইরে এসে বসবাস করা কীভাবে সম্ভবএ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, সাতকানিয়ার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সামাজিকভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় জনগণ যদি নিজ নিজ এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ না দেয় এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়, তাহলে রোহিঙ্গাদের অবাধে ছড়িয়ে পড়া অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে সাতকানিয়াকে রোহিঙ্গামুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ডিএস/