০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকায় পালানোর পথে মান্দার দুই কিশোর গ্যাং লিডার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

নওগাঁর মান্দায় পুলিশের বিশেষ সমন্বিত অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের দুই লিডার সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেখানো মতে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, খেলনা পিস্তল, ধারালো ডেগার, বিভিন্ন ধরনের চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা স্থানীয় কিশোরদের ওই গ্রুপে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন। এতে রাজি না হলে মারধরসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিয়াল যাবের নিরব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুনরায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রাণীনগর থানা এবং মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে তারা জানতে পারে সুলতান ও পারভেজ ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ দল।পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের কাছে অস্ত্র থাকার তথ্য পায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে সুলতান ও পারভেজের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু, একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, মারামারি ও অন্যান্য ঘটনায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজন প্রায়ই মানুষের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন।

সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মান্দার স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./

ট্যাগ :

চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় পালানোর পথে মান্দার দুই কিশোর গ্যাং লিডার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত : ০৫:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় পুলিশের বিশেষ সমন্বিত অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের দুই লিডার সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেখানো মতে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, খেলনা পিস্তল, ধারালো ডেগার, বিভিন্ন ধরনের চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা স্থানীয় কিশোরদের ওই গ্রুপে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন। এতে রাজি না হলে মারধরসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিয়াল যাবের নিরব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুনরায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রাণীনগর থানা এবং মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে তারা জানতে পারে সুলতান ও পারভেজ ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ দল।পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের কাছে অস্ত্র থাকার তথ্য পায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে সুলতান ও পারভেজের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু, একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, মারামারি ও অন্যান্য ঘটনায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজন প্রায়ই মানুষের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন।

সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মান্দার স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./