রপ্তানি আয়ের দিক থেকে গত অর্থবছরের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত পিছিয়ে পড়েছে এবার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে- চামড়া-চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, প্লাস্টিক-মেলামাইন দ্রব্যাদি ও প্রকৌশল দ্রব্যাদি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবছরই দেশের মোট রপ্তানি আয়ে চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
তবে ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে এখাত থেকে রপ্তানি আয় ১০৮৫.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ১২৩৪.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের তুলনায় ১২.০৩ শতাংশ কম। তবুও আলোচ্য অর্থবছরে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ২.৯৬ শতাংশ। পূর্বের তুলনায় মাছ রপ্তানিতে সবল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মৎস চাষীরা। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কিছুটা কমে এসেছে এ খাতের রপ্তানি আয়। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫০৮.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৫২৬.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের তুলনায় ৩.৪২ শতাংশ কম। এর মধ্যে ক্রাসটাসিনস (কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণী) খাতে বিগত অর্থ-বছরের রপ্তানি আয় ৪৬৪.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৮.২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বিবেচ্য সময়ে এ পণ্যটির রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪২৬.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উক্ত সময়ের মোট রপ্তানিতে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ খাতের অবদান ১.৩৯ শতাংশ। প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানিও বৃদ্ধি পেয়েছে এদেশ থেকে। কিন্তু গত অর্থবছরে খুব একটা ভালো আয় করতে পারেনি এই খাত। প্লাস্টিক ও মেলামাইন দ্রব্যাদি খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৯৮.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিগত বছরে একই সময়ের ১১৬.৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় অপেক্ষা ১৫.৭৯ শতাংশ কম। প্রকৌশল দ্রব্যাদি খাতে ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে রপ্তানি আয় হয়েছে আগের বছেরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এবছরে প্রকৌশল দ্রব্যাদি খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫৫.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৬৮৮.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় অপেক্ষা ৪৮.৩২ শতাংশ কম।


























