পাবনার চাটমোহর উপজেলা ফৈলজানায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসননের সহায়তায় শেফালী খাতুন (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করায় ভীষন চটলেন ওই কিশোরী। শুক্রবার দুপুর ৩ টার দিকে উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। স্কুলছাত্রী শেফালী ওই গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফার মেয়ে ও স্থানীয় পবাখালী দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা গেছে, পূর্ব নির্ধারিত বিয়ের দিনধার্য অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে স্কুল ছাত্রী শেফালীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বর যাত্রী সহ বিয়ে করতে আসে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আবু তালেব (১৮)।
কিশোরী প্রাপ্ত বয়স্ক না হলেও উভয় পরিবারের সম্মতিতে যখন বিয়েটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছিল সেই বিয়েতে বিন্দু মাত্র অমত ছিল না কিশোরীর। এমন একটি বাল্য বিয়ের ঘটনা যখন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা জানতে পারে তখন তারা সেই বিয়ে বাড়িতে আকস্মিক ভাবে হাজির হলে বর সহ সকল বরযাত্রী ভয়ে আতংকে বিয়ে বাড়ি দ্রুত ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
এ সময় পুলিশ, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ বিয়ে বাড়িতে অবস্থান করে অভিভাবক ও স্কুলছাত্রীকে বাল্য বিয়ের কুফল নিয়ে অবহিত করার মূহুর্তে ভীষণ চটে ওঠেন স্কুল ছাত্রী শেফালী খাতুন।
এসময় কিশোরী ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমার ইচ্ছাতেই এই বিয়ে হচ্ছিল। আপনারা আমার বিয়ে বন্ধ করার কে? আপনারা ক’দিন বিয়ে বন্ধ করে রাখবেন, আমি সুযোগ পেলেই ওই ছেলের বাড়িতে গিয়ে উঠবো। আমি তাকেই বিয়ে করবো। কিশোরীর এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতবম্ভ হয়ে যান।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, শরৎগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মহায়মেনুল হক, ইউপি সদস্য সবুজ আলীসহ শফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আব্দুল মজিদসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।















